বাবা বিশ্বজিৎকে চিনতেই পারলেন না খোদ বুম্বাদা! ফাদার্স ডে-তে কোন আবেগে ভাসলেন প্রসেনজিৎ?

২১ জুন বিশ্বজুড়ে উদ্যাপিত হচ্ছে ফাদার্স ডে। সন্তানের জীবনে বাবার অবদান, আত্মত্যাগ আর নিঃস্বার্থ ভালোবাসাকে কুর্নিশ জানানোর দিন আজ। এই বিশেষ দিনে টলিউডের ‘ইন্ডাস্ট্রি’ প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় তাঁর ব্যক্তিগত জীবনের এক আবেগঘন মুহূর্ত শেয়ার করলেন সোশ্যাল মিডিয়ায়। বাবা ও সন্তানের সম্পর্কের এই অনন্য রসায়ন ধরা পড়ল তাঁর সাম্প্রতিক ইনস্টাগ্রাম পোস্টে।
প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায় তাঁর পোস্টে একটি বিশেষ কোলাজ ছবি শেয়ার করেছেন। যেখানে একপাশে রয়েছে পদ্মশ্রী সম্মান হাতে তাঁর বাবার সঙ্গে তোলা ছবি এবং অন্যপাশে রয়েছে নিজের ছেলের সঙ্গে তোলা ছবি। ছবিটির ক্যাপশনে বুম্বাদা লিখেছেন, “সময়ের সঙ্গে অনেক কিছু বদলে যায়, কিন্তু বাবার ভালোবাসা কখনও বদলায় না।” তিনি আরও বলেন, তাঁর বাবা—বর্ষীয়ান অভিনেতা বিশ্বজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের কাছ থেকে তিনি যে মূল্যবোধ, শৃঙ্খলা এবং মানুষের প্রতি সম্মান জানানোর শিক্ষা পেয়েছেন, তা আজও তাঁর জীবনযুদ্ধের আসল শক্তি।
একজন অভিনেতা থেকে শুরু করে একজন বাবা—এই দুই সত্তার সংমিশ্রণ আজ বুম্বাদার পোস্টে স্পষ্ট। তিনি লেখেন, “আজ আমি নিজেও একজন বাবা। তাই সন্তানের প্রতি বাবার উদ্বেগ, ভালোবাসা আর নিঃস্বার্থ ত্যাগের গভীরতা আমি মর্মে মর্মে অনুভব করি।” পৃথিবীর সকল বাবাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি তাঁর বাবাকে কৃতজ্ঞতা জানাতে ভোলেননি।
ফাদার্স ডে-র ঠিক আগেই মুক্তি পেয়েছে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের নতুন ছবি ‘অভিমান’। ১৯ জুন মুক্তি পাওয়া ইন্দ্রদীপ দাশগুপ্ত পরিচালিত এই ছবিটির গল্প আবর্তিত হয়েছে বাবা ও ছেলের সম্পর্ককে কেন্দ্র করেই। ছবিতে প্রসেনজিৎকে দেখা গিয়েছে এক রকস্টারের ভূমিকায়। এই লুক নিয়ে একটি মজার ঘটনার কথা উল্লেখ করেছেন তিনি। অভিনেতা জানান, তাঁর এই নতুন লুক দেখে তাঁর নিজের বাবাই তাঁকে চিনতে পারেননি। প্রসেনজিতের ভাষায়, “টিজার দেখে বাপি বলেছিলেন, তোকে চিনতেই পারিনি! একজন অভিনেতার কাছে এর চেয়ে বড় পাওনা আর কী হতে পারে, যখন তার বাবা তার অভিনয়ে এক সম্পূর্ণ নতুন মানুষকে খুঁজে পান?”
প্রসঙ্গত, ‘অভিমান’ ছবিতে প্রসেনজিৎ চট্টোপাধ্যায়ের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ চরিত্রে রয়েছেন শুভশ্রী গঙ্গোপাধ্যায়, যিশু সেনগুপ্ত, কাঞ্চন মল্লিক, সোহিনী সরকার এবং অরিজিতা। বাবা-ছেলের আবেগের এই ছবি বর্তমানে দর্শক মহলে বেশ সমাদৃত হচ্ছে। ফাদার্স ডে-র দিনে প্রসেনজিতের এই পোস্টটি কেবল তাঁর বাবার প্রতি ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশই নয়, বরং একজন অভিনেতা হিসেবে নিজের শিকড়ের প্রতি অকৃত্রিম শ্রদ্ধার স্বাক্ষরও বটে।