‘দেশদ্রোহী’ তকমা থেকে আইনি ঝামেলা! কৃষকদের পর এবার ছাত্র আন্দোলনের সমর্থনে মুখ খুলে কি বললেন জনপ্রিয় গায়ক দিলজিৎ?

দিল্লির যন্তর-মন্তরে চরম রণক্ষেত্র পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সংসদের বাদল অধিবেশনের প্রথম দিনেই গোটা রাজধানী জুড়ে এক ভয়ঙ্কর ও উত্তপ্ত পরিবেশের সূচনা হয়েছে। মূলত NEET-সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় লাগাতার অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে আয়োজিত ‘চলো সংসদ’ কর্মসূচি এখন জাতীয় রাজনীতিতে সবথেকে বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই উত্তাল পরিস্থিতির মাঝেই গায়ক-অভিনেতা দিলজিৎ দোসাঞ্জ কৃষকদের প্রতিবাদকে সমর্থন জানানোর সময় তাঁর মুখোমুখি হওয়া তীব্র সমালোচনার প্রসঙ্গ টেনে ফের একবার অত্যন্ত বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন। তিনি স্পষ্ট ভাষায় তুলে ধরেছেন যে, কীভাবে নিজের স্বাধীন মতামত প্রকাশের জন্য তাঁকে এর আগে প্রকাশ্যে ‘দেশদ্রোহী’ তকমা দেওয়া হয়েছে এবং একাধিক জটিল আইনি সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে নিজের সোশাল মিডিয়া হ্যান্ডেলে একটি দীর্ঘ ও তাত্পর্যপূর্ণ নোট শেয়ার করে দিলজিৎ আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের প্রতি তাঁর পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে তাঁদের যৌক্তিক দাবিগুলি মনোযোগ দিয়ে শোনার আর্জি জানিয়েছেন। সোশাল মিডিয়ায় সম্পূর্ণ নিজের মাতৃভাষায় মনের ভাব প্রকাশ করে তিনি লিখেছেন, “আজ যা কিছু ঘটেছে তা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক। দেশের তরুণ ছাত্রদের সঙ্গে এমন কঠোর ও অমানবিক আচরণ কোনোভাবেই কাম্য নয়। আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আন্তরিক অনুরোধ জানাচ্ছি তাঁরা যেন অবিলম্বে ছাত্রদের দাবিগুলি খতিয়ে দেখেন। কারণ জনগণের কণ্ঠস্বরই হলো মূলত ঈশ্বরের কণ্ঠস্বর।”

তিনি আরও ক্ষোভের সুরে যোগ করেন, “আমাকে ইতিমধ্যেই বহুবার বিভিন্ন মহল থেকে দেশদ্রোহী তকমা দেওয়া হয়েছে। এমনকি আশঙ্কা করছি যে এখনও হয়তো আমাকে দেশদ্রোহী বলেই আক্রমণ করা হবে। এর আগে কৃষকদের প্রতিবাদের সময় আমি এমন অসংখ্য প্রতিকূলতা এবং দীর্ঘ আইনি সমস্যার মুখোমুখি হয়েছি, যা এই মুহূর্তে জনসমক্ষে আলোচনাও করা সম্ভব নয়। বাকি সমস্ত কিছু আমি ঈশ্বরের ওপর ছেড়ে দিলাম। পরম পিতা সকলের মঙ্গল করুন।” চলমান তীব্র ছাত্র আন্দোলনের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটের নিরিখেই দিলজিতের এই অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ মন্তব্য সামনে এসেছে, যেখানে এই জনপ্রিয় তারকা অন্ধ সংঘাতের পথ পরিহার করে পারস্পরিক আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের জোরালো আবেদন জানিয়েছেন। অভিনেতা মূলত আন্দোলনকারী ছাত্রদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেছেন এবং এই সত্যটি অকপটে স্বীকার করেছেন যে, যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ অথচ অত্যন্ত সংবেদনশীল ও বিতর্কিত বিষয়ে প্রকাশ্যে নিজের রাজনৈতিক বা সামাজিক অবস্থান স্পষ্ট করলে প্রায়শই কুৎসিত সমালোচনার মুখোমুখি হতে হয়। পাঠকদের অবগতির জন্য স্মরণ করিয়ে দেওয়া যেতে পারে যে, গায়কের এই কৃষক আন্দোলনের প্রসঙ্গটি মূলত ২০২০ সালে কেন্দ্র সরকারের তরফ থেকে প্রবর্তিত বিতর্কিত তিনটি কৃষি আইনের বিরুদ্ধে হওয়া দেশব্যাপী ঐতিহাসিক আন্দোলনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। সেই সময় তীব্র আন্দোলন চলাকালীন তিনি অভিনেত্রী কঙ্গনা রানাওয়াতের সঙ্গে সোশাল মিডিয়ায় এক চরম উত্তপ্ত ও দীর্ঘ বিতর্কে জড়িয়ে পড়েছিলেন। সেই সময়েও দিলজিৎ সাফ জানিয়ে দিয়েছিলেন যে তাঁর এই স্পষ্ট সমর্থন সম্পূর্ণভাবে সাধারণ কৃষকদের জন্য, এর পেছনে বিন্দুমাত্র কোনো গোপন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য নেই। বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে তাঁর এই নতুন মন্তব্য নতুন করে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।