“টাকা থাকলে গাধাকেও সুন্দর লাগে!” সুপারস্টার ছেলেকে কেন এমন কথা বলেছিলেন মনোজ বাজপেয়ীর মা?

মনোজ বাজপেয়ী—বলিউডের এমন এক নাম, যিনি পর্দায় এলেই ম্যাজিক তৈরি হয়। যেকোনো সাধারণ রক্তমাংসের চরিত্রকে নিখুঁতভাবে জীবন্ত করে তুলতে তাঁর জুড়ি মেলা ভার। কিন্তু রুপোলি পর্দার এই চেনা ‘ফ্যামিলি ম্যান’ বাস্তবে তাঁর নিজের পরিবারকে কতটা সময় দিতে পেরেছেন? অভিনয়ের নেশা এবং খ্যাতির মোহ কি তাঁকে নিজের শিকড় থেকে দূরে সরিয়ে দিয়েছিল? সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হওয়া পুরনো একটি ভিডিয়ো থেকে উঠে এসেছে এমনই এক অজানা ও মর্মান্তিক সত্যি, যা শুনে চোখে জল আসবে ভক্তদের।

বলিউডের প্রখ্যাত পরিচালক মহেশ ভাটের সঙ্গে এক ঘরোয়া আড্ডায় বসেছিলেন মনোজ। সেই আড্ডার ছলেই অভিনেতা তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় আফসোসের কথা ফাঁস করেন। আবেগপ্রবণ হয়ে মনোজ জানান, জীবনের প্রায় ২০টা বছর তিনি তাঁর মা-বাবার সঙ্গ সেভাবে পাননি। নিজের স্বপ্নের পেছনে ছুটতে ছুটতে কখন যে তিনি তাঁর বাবা-মায়ের কাছ থেকে বহু দূরে সরে গিয়েছিলেন, তা টেরই পাননি। টানা দুই দশকে মায়ের সঙ্গে অন্তত দশটা দিন একসঙ্গে কাটানোও হয়ে ওঠেনি তাঁর। বুকের মধ্যে পাথর হয়ে থাকা এই অপরাধবোধ আজও তাঁকে প্রতি মুহূর্তে তাড়িয়ে বেড়ায়।

তবে এই আড্ডায় শুধু মনখারাপের কথাই ছিল না, উঠে আসে বেশ কিছু মজার স্মৃতিও। কেরিয়ারে প্রথমবার যখন একটি বড় পুরস্কার পেয়েছিলেন, বাবা-মা দিল্লি থেকে এসেছিলেন মাত্র দু’দিনের জন্য। গাড়িতে বসে মা মনোজের মাথায় হাত বুলিয়ে জীবনের এক খাঁটি পাঠ দিয়েছিলেন। মা বলেছিলেন, “জীবনে একটা কথা সব সময় মনে রাখিস, যারা জীবনে সফল হতে পারেনি, তারা কিন্তু কেউ বোকা নয়।”

এর পাশাপাশি একটি হাসির গল্পও শেয়ার করেন অভিনেতা। একবার দিল্লির বাড়িতে গিয়ে স্নান সেরে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুল ঠিক করছিলেন মনোজ। আত্মতুষ্টিতে মেতে মাকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, “মা, আমাকে দেখতে কেমন লাগছে? হ্যান্ডসাম তো?” শুনে মা মুখে এক চিলতে হাসি নিয়ে সপাটে জবাব দিয়েছিলেন, “আরে বাপু, গায়ে নাম আর টাকার গন্ধ লাগলে তো একটা গাধাকেও দেখতে সুন্দর লাগে!”

মনোজের মা গীতা দেবী ছিলেন একজন সাধারণ গৃহবধূ। ছেলের এই কঠিন লড়াইয়ে তিনি ছিলেন সবচেয়ে বড় ভরসার জায়গা। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে ২০২১ সালে বাবাকে হারানোর ঠিক এক বছর পর, ২০২২ সালের ডিসেম্বরে ৮০ বছর বয়সে দিল্লির এক হাসপাতালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তাঁর মা। আজ সাফল্যের চূড়ায় বসে হয়তো মনোজের কাছে সবই আছে, কিন্তু হারিয়ে যাওয়া সেই দিনগুলো আর মায়ের ওই মজার বকাঝকা কি আর কোনোদিন ফিরে পাবেন অভিনেতা? আক্ষেপের এই ক্ষত হয়তো তাঁর আজীবন থেকেই যাবে।