শেষমেশ স্বস্তি! দীর্ঘ ১৩ বছর পর সুপ্রিম কোর্ট থেকে জামিন পেলেন সারদা কর্তা সুদীপ্ত সেন

সারদা কর্তা সুদীপ্ত সেন অবশেষে সুপ্রিম কোর্ট থেকে জামিন পেলেন। আইনজীবীদের সূত্রে জানা গিয়েছে, গত ৮ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গের অবশিষ্ট দু’টি মামলায় কলকাতা হাইকোর্ট থেকে জামিন পেলেও, ভুবনেশ্বরের একটি মামলায় গত কয়েকমাস ধরে তিনি আইনি জটে আটকে ছিলেন।
অবশেষে মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় কারল ও বিচারপতি অগাস্টিন জর্জ মাসিহর বেঞ্চ সারদা কর্তা সুদীপ্ত সেনকে জামিনের নির্দেশ দিয়েছে। এর আগে গুয়াহাটি হাইকোর্টের একটি মামলার রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন সুদীপ্ত সেন। উল্লেখ্য, গুয়াহাটির একটি মামলায় ২০২৩ সালে সিবিআই তাঁকে গ্রেফতার করেছিল। সেই মামলায় জামিনের আবেদন জানিয়ে তিনি গুয়াহাটি হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেও আদালত তাঁর আবেদন খারিজ করে দেয়।
সেই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হন সুদীপ্ত সেন। মঙ্গলবার আদালত শুনানির পর্যবেক্ষণে জানিয়েছে, সমস্ত নথি খতিয়ে দেখে আদালত মনে করছে এই আবেদনে হস্তক্ষেপ করার মতো যথেষ্ট যৌক্তিক কারণ রয়েছে। যেহেতু তিনি ২০১৬ সালের ৩০ ডিসেম্বর থেকে একটানা জেল হেফাজতে রয়েছেন, তাই শীর্ষ আদালত তাঁকে শর্তসাপেক্ষে জামিন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
সুদীপ্ত সেনের জামিনের জন্য সুপ্রিম কোর্ট বেশ কিছু কড়া শর্ত আরোপ করেছে। প্রথমত, আবেদনকারীকে অবিলম্বে ট্রায়াল কোর্ট বা নিম্ন আদালতে হাজির হতে হবে। দ্বিতীয়ত, বিচার চলাকালীন আবেদনকারীকে আইনি প্রক্রিয়ায় সম্পূর্ণ সহযোগিতা করতে হবে। তৃতীয়ত, জামিনের স্বাধীনতার অপব্যবহার করা যাবে না। চতুর্থত, আদালতের বিচার প্রক্রিয়ায় অযথা কোনো মুলতবি চাওয়া চলবে না। পঞ্চমত, আবেদনকারীর অসহযোগিতার কারণে বিচার প্রক্রিয়া যদি স্তব্ধ হয়ে যায়, তবে তাঁর জামিন বাতিল বলে গণ্য হবে এবং এক্ষেত্রে নিম্ন আদালতের জামিন বাতিলের পূর্ণ অধিকার থাকবে।
প্রসঙ্গত, পশ্চিমবঙ্গের সমস্ত মামলা থেকে আগেই জামিন পেয়েছিলেন সারদা কর্তা সুদীপ্ত সেন। ২০১৩ সালে সারদাকাণ্ড প্রকাশ্যে আসার পরে দেবযানী মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে কাশ্মীরের সোনমার্গে গা ঢাকা দিয়েছিলেন সংস্থার কর্ণধার সুদীপ্ত সেন। ওই বছরই কাশ্মীর থেকে তাঁদের দু’জনকে গ্রেফতার করা হয়। সেই থেকে তাঁরা দুজনেই দীর্ঘ সময় ধরে জেল হেফাজতে রয়েছেন।