টলিপাড়ায় কি নতুন ‘সিন্ডিকেট’ তৈরির ছক? ‘কনফেডারেশন’ নিয়ে বিস্ফোরক তথ্য, তোলপাড় ইন্ডাস্ট্রি!

রাজনৈতিক পালাবদলের পর টলিপাড়াকে দুর্নীতিমুক্ত করার স্বপ্ন দেখেছিলেন অনেকেই। স্বরূপ বিশ্বাসের ফেডারেশনের পতন ঘটায় ইন্ডাস্ট্রিতে যে নতুন পরিবেশের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, তা যেন এখন বড়সড় বিতর্কের মুখে। বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী টলিউডের কর্মীদের এক ছাতার তলায় আনতে ‘কনফেডারেশন’ নামে এক সংগঠনের কথা ঘোষণা করেছিলেন। কিন্তু সোমবার বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য সাফ জানিয়ে দিলেন, এই নামে আদতে কোনো সংগঠনের কোনো অস্তিত্ব নেই। শমীকবাবুর হুঁশিয়ারি, এই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হলে বড় বিপদের সম্মুখীন হতে হবে।

অথচ টলিপাড়ার অন্দরের খবর, এই সংগঠনের সদস্যপদ পাওয়ার জন্য নগদ অর্থের বিনিময়ে নাকি দেদার ফর্ম বিক্রি হচ্ছে! অভিযোগ, ৭০০ টাকার বিনিময়ে ইতিমধ্যেই প্রায় দেড় হাজার ফর্ম বিক্রি হয়েছে। ইটিভি ভারতের মুখোমুখি হয়ে বিধায়ক পাপিয়া অধিকারী অবশ্য এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, “ফর্মের মাথায় স্পষ্টভাবে লেখা আছে যে এটি অর্থের বিনিময়ে বিক্রি করা যাবে না। স্বরূপ বিশ্বাসের অনুগামীরাই এখন এই মিথ্যা রটনা ছড়াচ্ছে।”

পাপিয়ার যুক্তি, “ইন্ডাস্ট্রিতে এতদিন কাজের কোনো সমবন্টন ছিল না। বহু দক্ষ মানুষকে ‘নন-মেম্বার’ করে রাখা হয়েছিল। ফেডারেশনের অশুভ ছায়া থেকে টলিউডকে মুক্ত করতেই আমি ‘কনফেডারেশন’ গড়ার পরিকল্পনা করেছি। এটি কোনো ট্রেড ইউনিয়ন নয়, বরং সমাজের গুণী মানুষদের নিয়ে একটি সুস্থ প্ল্যাটফর্ম তৈরির প্রচেষ্টা।” বিজেপির সঙ্গে এই সংগঠনের সংযোগ প্রসঙ্গে শমীক ভট্টাচার্যের মতের সঙ্গে একমত হয়ে তিনি জানান, “বিজেপি বা রাজ্য সরকারের সঙ্গে এই কনফেডারেশনের কোনো সরাসরি সম্পর্ক নেই।”

এদিকে, তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর ইতিমধ্যে বাংলা বিনোদন দুনিয়ার স্বার্থরক্ষায় একটি পৃথক কমিটি গঠনের কথা ঘোষণা করেছে। কিন্তু সেই কমিটি গঠনের আগেই মঙ্গলবার পাপিয়া অধিকারীর লেটারহেড থেকে একটি সার্কুলার জারি করা হয়। সেখানে ইন্ডাস্ট্রির অচলাবস্থা কাটানোর জন্য পার্থ কর, অতনু বসু, কাঞ্চনা মৈত্রদের নিয়ে একটি ‘অস্থায়ী কমিটি’ তৈরির ঘোষণা করা হয়েছে।

পাপিয়া অধিকারীর দাবি, স্বরূপ বিশ্বাস হাজতে থাকলেও তাঁর দলের লোকেরা আজও মেয়েদের ভয় দেখাচ্ছে এবং কাজের বিনিময়ে টাকা দাবি করছে। তিনি সাফ জানিয়েছেন, এখন থেকে টলিপাড়ায় টাকার বিনিময়ে নয়, মেধার ভিত্তিতেই কাজ মিলবে। তবে সরকারি স্তরে এই সংগঠনের বৈধতা নিয়ে যেভাবে প্রশ্ন উঠছে, তাতে টলিউডের এই নতুন ‘ছাতা’ আদতে কতটুকু কার্যকর হবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। ইন্ডাস্ট্রির অন্দরে একদিকে যেমন নতুন শুরুর আশা, অন্যদিকে তেমনই এই সংগঠন ঘিরে নতুন কোনো সিন্ডিকেট তৈরির আতঙ্কও গ্রাস করছে শিল্পী ও কলাকুশলীদের।