রবিবার রাতে যখন তিলোত্তমার বুকে পা রাখলেন আমির খান, কেউ ঘুণাক্ষরেও টের পায়নি তাঁর গন্তব্য কোথায়। কোনও জাঁকজমক নেই, নেই কোনও প্রচার— কড়া নিরাপত্তার ঘেরাটোপে সড়কপথেই তিনি সোজা পৌঁছে গেলেন মুর্শিদাবাদের জিয়াগঞ্জে। গায়ক অরিজিৎ সিংয়ের বাড়ির কড়া নাড়লেন খোদ বলিউডের ‘খানজাদা’। কিন্তু কেন? অরিজিতের হঠাৎ নেওয়া ‘অবসর’ ভাঙাতেই কি এই ঝটিকা সফর?
নেপথ্যে কি অরিজিতের অবসরের ধাক্কা? গত সপ্তাহেই সমাজমাধ্যমে প্লেব্যাক থেকে অবসরের ঘোষণা করে গোটা সঙ্গীতজগতে শোরগোল ফেলে দিয়েছিলেন অরিজিৎ সিং। লবি রাজনীতি নাকি অন্য কোনও ব্যক্তিগত কারণ— জল্পনা যখন তুঙ্গে, ঠিক তখনই আসরে নামলেন আমির খান। সোমবার সকাল থেকেই অরিজিতের বাড়ি ‘উত্তরণ’-এ রয়েছেন তিনি। ধূসর টি-শার্ট, লেদার জ্যাকেট আর চোখে সেই পরিচিত চশমা— জিয়াগঞ্জের রাস্তায় আমিরকে দেখে তখন ভিড় উপচে পড়ছে।
মান ভাঙাতে মরিয়া আমির: অরিজিৎ ও আমিরের সম্পর্ক কেবল পেশাদার নয়, তা অত্যন্ত গভীর। ‘দঙ্গল’ ছবি থেকে শুরু হওয়া এই বন্ধুত্বের রসায়ন আজও অটুট। আমিরের পরবর্তী বড় প্রজেক্টে অরিজিতের গান গাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু গায়কের অবসরের সিদ্ধান্তে সব হিসেব ওলটপালট হয়ে যায়। ইন্ডাস্ট্রির ঘনিষ্ঠ মহলের মতে, আমির বিশ্বাস করেন অরিজিতের মধ্যে এখনও অনেক সুর বাকি আছে। সেই বিরল প্রতিভাকে স্টুডিওতে ফিরিয়ে আনতেই ব্যক্তিগত উদ্যোগে জিয়াগঞ্জে হাজির হয়েছেন আমির।
কী কথা হল দুই তারকার? দাবার প্রতি প্রেম এবং প্রচারবিমুখ জীবন— এই দুই তারকাকে অনেক আগেই কাছাকাছি এনেছে। এদিনের বৈঠকে অরিজিতের মান ভাঙানোর পাশাপাশি নতুন কোনও মিউজিক প্রজেক্ট নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের খবর। তবে দুই তারকাই আপাতত এই বৈঠক নিয়ে মুখে কুলুপ এঁটেছেন।
এখন প্রশ্ন একটাই, খোদ ‘মিস্টার পারফেকশনিস্ট’-এর অনুরোধ কি ফেরাতে পারবেন জিয়াগঞ্জের ভূমিপুত্র? নাকি অরিজিতের এই অবসরের পিছনে লুকিয়ে আছে আরও গভীর কোনও রহস্য? ভক্তরা এখন চাতক পাখির মতো চেয়ে আছেন প্রিয় গায়কের পরবর্তী বার্তার দিকে।