আজ ১৬ জুন, বিনোদন জগতের এক নক্ষত্রপতনহীন নাম মিঠুন চক্রবর্তীর জন্মদিন। আট থেকে আশি, সকলের প্রিয় ‘মহাগুরু’ আজ পা দিলেন জীবনের আরও একটি নতুন বসন্তে। বলিউডের আসল ‘ডিস্কো ডান্সার’ থেকে আজকের পরিণত অভিনেতা—মিঠুনের রূপান্তর যতটা না নাটকীয়, তার চেয়ে অনেক বেশি অনুপ্রেরণাদায়ক। বয়স স্রেফ একটা সংখ্যা, মিঠুন চক্রবর্তী আজও তার জলজ্যান্ত প্রমাণ। ক্যামেরার সামনে তাঁর উপস্থিতি মানেই প্রেক্ষাগৃহে সিটি আর করতালির এক প্রবল ঢেউ।
কেরিয়ারের মধ্যগগনে মিঠুন চক্রবর্তী যে গতিতে কাজ করেছেন, আজকের দিনে তা ভাবাই অসম্ভব। বর্তমানে তারকা অভিনেতারা বছরে দু-তিনটি প্রজেক্টেই নিজেদের ব্যস্ত রাখেন, কিন্তু একসময়ের মিঠুন চক্রবর্তী ছিলেন অন্য ধাতুতে গড়া। এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা নিজেই ফাঁস করেছেন তাঁর এক অভাবনীয় বিশ্বরেকর্ডের কথা। লিমকা বুক অফ ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস-এ নাম তোলা এই অভিনেতা এক বছরে মুক্তি পেয়েছিল ১৯টি ছবি! এই সংখ্যাটি যেন আজও বিশ্বাসযোগ্য নয়। শুধু তাই নয়, সেই স্বর্ণযুগে প্রায় ৬৫টি ছবির শুটিং ফ্লোরে নিয়মিত যাতায়াত ছিল তাঁর। প্রতিদিন শিফট বদলে বদলে একটি সেট থেকে অন্য সেটে চষে বেড়ানো ছিল তাঁর রোজনামচা।
নিজের দীর্ঘ কেরিয়ারের খতিয়ান দিতে গিয়ে মহাগুরু জানান, এ পর্যন্ত তিনি প্রায় ৩৮০টিরও বেশি সিনেমায় অভিনয় করে ফেলেছেন। সংখ্যাতত্ত্বের বিচারে তাঁর ধারেকাছে পৌঁছানো যেকোনো অভিনেতার পক্ষেই এক কঠিন পরীক্ষা। তবে মিঠুনের কাছে এখন আর সংখ্যার কোনো তাগিদ নেই, তিনি এখন ছবি করেন স্রেফ অভিনয়ের তৃপ্তি আর মনের আনন্দে। বয়সের ভাঁজে ভাঁজে অভিজ্ঞতা বেড়েছে বই কমেনি, যার প্রমাণ তাঁর বর্তমানের প্রজেক্টগুলো।
এখনও তাঁর ঝুলিতে রয়েছে এমন সব বড় প্রজেক্ট, যা যেকোনো তরুণ অভিনেতার কাছে ঈর্ষণীয়। দক্ষিণী সুপারস্টার প্রভাসের সঙ্গে ‘ফৌজি’, রজনীকান্তের ব্লকবাস্টার ‘জেলার ২’, এবং বাংলা সিনেমার সুপারহিট ফ্র্যাঞ্চাইজি ‘প্রজাপতি ২’-এর মতো ছবিগুলোতে কাজ করছেন তিনি। মিঠুনের কথায়, “তিনটি ছবির চরিত্রই একে অপরের থেকে সম্পূর্ণ আলাদা, আর সেই বৈচিত্র্যময় কাজগুলো করতে আমার বেশ সহজই লেগেছে।”
জন্মদিনের এই বিশেষ মুহূর্তে দাঁড়িয়ে মহাগুরুর এই দাপুটে মনোভাব এটাই প্রমাণ করে যে, সিনেমার দুনিয়ায় ‘জিমি’র ম্যাজিক চিরন্তন। তিনি কালও রুপোলি পর্দার রাজা ছিলেন, আজও রাজাই আছেন। তাঁর অদম্য জেদ, পরিশ্রম আর অভিনয়দক্ষতা আগামী বহু প্রজন্মের অভিনেতাদের পথপ্রদর্শক হয়ে থাকবে।





