ক্যানসারের সঙ্গে কঠিন লড়াইয়ে জয়ী মেধা! জীবনের নতুন অধ্যায় শুরু করলেন অভিনেত্রী

“জীবনে এমন কিছু যাত্রা থাকে, যা মানুষকে চিরদিনের জন্য বদলে দেয়…”—এই কয়েকটি লাইনেই যেন ধরা পড়েছে এক দীর্ঘ ক্যানসার-যুদ্ধের সফল সমাপ্তির গল্প। মারাঠি চলচ্চিত্রের অত্যন্ত জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেধা মঞ্জরেকর সম্প্রতি সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজের দীর্ঘ অসুস্থতার কথা প্রথমবার প্রকাশ্যে এনে সকলকে চমকে দিয়েছেন। ৫৮ বছর বয়সি এই অভিনেত্রীর পোস্ট ঘিরে এখন তোলপাড় নেটদুনিয়া।
রবিবার ইনস্টাগ্রামে হাসপাতালের বিছানায় তোলা কিছু ছবি শেয়ার করে মেধা জানান, তিনি ক্যানসারের মতো মারণ রোগের বিরুদ্ধে এক দীর্ঘ লড়াই চালিয়েছেন। তাঁর চিকিৎসার একটি গুরুত্বপূর্ণ ও কঠিন পর্যায় সম্প্রতি শেষ হয়েছে। তবে এই পোস্টটি কেবল রোগ বা যন্ত্রণার নয়, বরং কৃতজ্ঞতার। অভিনেত্রী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, রোগ, অস্ত্রোপচার, কেমোথেরাপি বা রেডিয়েশনের মতো কষ্টের স্মৃতিগুলো তাঁর কাছে গৌণ হয়ে গেছে। তাঁর কাছে মুখ্য হলো সেই মানুষগুলো, যাঁরা এই দীর্ঘ সময়ে ছায়ার মতো তাঁর পাশে ছিলেন।
পোস্টে মেধা লিখেছেন, অনেকেই তাঁকে প্রশ্ন করেছেন কীভাবে তিনি এতটা মানসিক শক্তি পেলেন। উত্তরে অভিনেত্রী জানিয়েছেন, তিনি এই দীর্ঘ পথ কখনও একা হাঁটেননি। যখনই ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে, তখনই কেউ না কেউ তাঁর হাত শক্ত করে ধরেছেন। তাঁর বিশ্বাস, এটা কেবল কাকতালীয় নয়, ঈশ্বরই বিভিন্ন মানুষের রূপ ধরে বারবার তাঁর সহায় হয়ে দাঁড়িয়েছেন।
এই লড়াইয়ে সবচেয়ে বড় ভরসা ছিলেন তাঁর স্বামী, খ্যাতনামা অভিনেতা ও পরিচালক মহেশ মঞ্জরেকর। স্ত্রীর কঠিন সময়ে মহেশের উপস্থিতি তাঁকে অভাবনীয় মানসিক শক্তি জুগিয়েছে। মহেশের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা জানিয়ে মেধা লিখেছেন, কিছু পথ একা হাঁটার জন্য নয়, আর সেই পথচলায় মহেশ ছিলেন তাঁর অন্যতম সঙ্গী।
আবেগঘন বার্তায় নিজের দুই মেয়ের প্রতিও ভালোবাসা উজাড় করে দিয়েছেন মেধা। সাধারণত মায়েরা সন্তানদের হাত ধরে পথ দেখান, কিন্তু এই অসুখ তাঁকে শিখিয়েছে, প্রয়োজনে সন্তানরাই মায়ের হাত ধরে বড় হয়ে ওঠে। চিকিৎসার এই পর্যায় শেষ করার পর মেধা এখন অনেকটা সুস্থ বোধ করছেন। জন্মদিনের ঠিক আগে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরা তাঁর কাছে নতুন জীবনের মতো। শারীরিক অবস্থা নিয়ে বিস্তারিত কিছু না বললেও, তাঁর পোস্টজুড়ে রয়েছে প্রবল ইতিবাচকতা এবং নতুন করে বেঁচে ওঠার লড়াই।
অনুরাগী ও সহকর্মীরা সোশ্যাল মিডিয়ায় মেধার দ্রুত আরোগ্য কামনা করেছেন এবং তাঁর এই অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে কুর্নিশ জানিয়েছেন। ক্যানসারের মতো কঠিন রোগকে জয় করে অভিনেত্রী যেভাবে পরিবারের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছেন, তা অনুপ্রাণিত করেছে বহু মানুষকে।