কথা বললেও সমস্যা, চুপ থাকলেও বিপদ! খ্যাতির বিড়ম্বনা নিয়ে বিস্ফোরক মন্তব্য দক্ষিণী মেগাস্টারের!

দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে ভারতীয় সিনেমার মসনদে রাজত্ব করছেন তিনি। ‘থালাইভা’ থেকে ‘সুপারস্টার’—বিভিন্ন অভিধায় ভূষিত রজনীকান্ত। তবে খ্যাতির শিখরে পৌঁছেও যে সমালোচনা থেকে নিস্তার নেই, তা এবার সরাসরি স্বীকার করে নিলেন খোদ অভিনেতা। সম্প্রতি চেন্নাইয়ে আয়োজিত তাঁর নতুন ছবি ‘ধর্মম’-এর এক অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে সমালোচকদের উদ্দেশে বিস্ফোরক মন্তব্য করলেন রজনীকান্ত। তাঁর এই খোলামেলা স্বীকারোক্তি ইতিমধ্যেই চলচ্চিত্র মহলে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
অনুষ্ঠানে ভাষণ দিতে গিয়ে রজনীকান্ত জানান, এখন আর যে কোনো অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ পেলেই তিনি আগের মতো স্বচ্ছন্দ বোধ করেন না। তাঁর আক্ষেপ, তিনি নিজের অবস্থানে থেকে কোনো কথা বললেই তা নিয়ে অহেতুক বিতর্ক শুরু হয়ে যায়। অভিনেতা রসিকতার সুরে বলেন, “কথা বললেও সমস্যা, আবার চুপ থাকলেও সমস্যা।” তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, যদি তিনি কোনো বিষয়ে নীরব থাকেন, তবে অনেকে প্রশ্ন তোলেন— কেন তিনি মুখ খুলছেন না? আবার কোনো বিষয়ে মতপ্রকাশ করলে শুরু হয় কাটাছেঁড়া— কেন বললেন, কোন উদ্দেশ্যে বললেন বা আদৌ কি তা বলা উচিত ছিল?
নিজের দীর্ঘ কেরিয়ারের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে রজনীকান্ত বলেন, “আমি আমার দীর্ঘ জীবনে একটা বিষয় স্পষ্টভাবে বুঝেছি— যাঁরা আপনাকে অপছন্দ করেন, তাঁদের কাছে আপনি যা-ই করুন না কেন, তা কোনোদিন গ্রহণযোগ্য হবে না। আবার যাঁরা আপনাকে পছন্দ করেন, তাঁরাও যে আপনার প্রতিটি কাজে সায় দেবেন, এমনটা ভাবাও ভুল।” তাঁর মতে, প্রতিটি মানুষের উচিত বাস্তবতা মেনে নেওয়া এবং সকলকে খুশি রাখার নিরর্থক চেষ্টা না করা। রজনীকান্তের এই উপলব্ধি থেকেই স্পষ্ট, ট্রোলিং বা সমালোচনাকে তিনি এখন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবেই দেখছেন।
উল্লেখ্য, গত কয়েক বছরে বিভিন্ন রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বের সঙ্গে সাক্ষাৎ বা সামাজিক-রাজনৈতিক বিষয়ে নিজের মতামত প্রকাশ করার পর একাধিকবার সোশাল মিডিয়ায় ট্রোলিংয়ের মুখে পড়েছেন রজনীকান্ত। অনেক সময় নিতান্তই সৌজন্য সাক্ষাৎকেও রাজনৈতিক রং দিয়ে বিতর্কের কেন্দ্রে টেনে আনা হয়েছে। আর সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার নির্যাসই যেন এদিন তাঁর কথায় উঠে এলো।
তবে সমালোচনা বা বিতর্ক কোনোটিই তাঁর কাজের গতি কমিয়ে দিতে পারেনি। বর্তমানে রজনীকান্ত অত্যন্ত ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার থেকেই শুরু হচ্ছে তাঁর নতুন ছবি ‘ধর্মম’-এর শ্যুটিং। একইসঙ্গে দর্শকদের নজর রয়েছে নেলসন পরিচালিত ‘জেলার ২’-এর দিকে, যা মুক্তির অপেক্ষায় প্রহর গুনছে। এর পাশাপাশি ২০২৭ সালে কমল হাসানের সঙ্গে তাঁর বহুপ্রতীক্ষিত ছবির কাজ শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।
কর্মজীবনের শত ব্যস্ততার মাঝেও রজনীকান্তের এই উপলব্ধিই প্রমাণ করে যে, খ্যাতির চূড়ান্ত শিখরে থেকেও মানসিক শান্তি বজায় রাখা কতটা চ্যালেঞ্জিং। জনপ্রিয়তার ওজন যে সমালোচনা বইতে বাধ্য করে, তা মেনে নিয়েই তিনি এগিয়ে চলার মন্ত্র দিচ্ছেন। তাঁর এই মন্তব্য কি সমালোচকদের মুখ বন্ধ করবে? নাকি বিতর্কের বৃত্ত আরও বড় হবে? তা সময় বলবে। আপাতত ‘থালাইভা’-র এই দার্শনিক দৃষ্টিভঙ্গি ভক্তদের কাছে নতুন করে প্রশংসিত হচ্ছে।