প্রেমের শুরুর দিনগুলোতে ব্যাকগ্রাউন্ডে বেজে ওঠে, ‘কে প্রথম কাছে এসেছি…’। কিন্তু বিয়ের কয়েক বছর পার হতেই সেই রোমান্টিক সুর অনেক সময় বদলে যায় তিতকুটে তিক্ততায়। তখন গানের কথা হয়ে দাঁড়ায়, ‘কে প্রথম সরি বলেছি!’ এই মান-অভিমান আর ঝগড়া শুধু সাধারণ মানুষের জীবনেই নয়, রূপালি পর্দার তারকাদের মখমলে সংসারেও হানা দেয়। সম্প্রতি বলিউডের ‘পাওয়ার কাপল’ অভিষেক বচ্চন ও ঐশ্বর্য রাই বচ্চনের সম্পর্কের এক অজানা দিক সামনে এল। বিয়ের ১৯ বছর পর ভক্তদের মনে প্রশ্ন— বচ্চন দম্পতির ঝগড়া হলে প্রথম কে হার মানেন?
গত ২০ এপ্রিল নিজেদের ১৯তম বিবাহবার্ষিকী পালন করলেন অভিষেক-ঐশ্বর্য। বরাবরের মতো মেয়ে আরাধ্যার সঙ্গে একটি মিষ্টি ছবি শেয়ার করে বিচ্ছেদের যাবতীয় গুঞ্জনকে তুড়ি মেরে উড়িয়ে দিয়েছেন প্রাক্তন বিশ্বসুন্দরী। এই বিশেষ দিনেই ভাইরাল হয়েছে ‘দ্য কপিল শর্মা শো’-তে দেওয়া তাঁদের একটি পুরনো সাক্ষাৎকার। সেখানেই দাম্পত্যের এক বড় ‘সিক্রেট’ ফাঁস করেছেন ঐশ্বর্য।
কপিলের শোয়ে বিস্ফোরণ:
অনুষ্ঠানে কপিল শর্মা মজার ছলে প্রশ্ন করেছিলেন, তাঁদের মধ্যে কখনও ঝগড়া হয় কি না। ঐশ্বর্য অত্যন্ত সততার সঙ্গে স্বীকার করেন যে, বাকি পাঁচটা দম্পতির মতো তাঁদের মধ্যেও মতবিরোধ হয়। তখনই শো-এর তৎকালীন বিচারক নবজ্যোত সিং সিধু টিপ্পনী কেটে বলেন, “নিশ্চয়ই অভিষেকই আগে সরি বলে বিষয় মিটিয়ে নেয়?” কিন্তু সিধুকে শুধরে দিয়ে ঐশ্বর্য যা বললেন, তাতে অবাক সবাই। অভিনেত্রী জানান, “আসলে আমাকেই আগে সরি বলতে হয়। আমিই দ্রুত ক্ষমা চেয়ে নিয়ে ঝগড়া থামিয়ে দিই।” ঐশ্বর্যের মুখে এই কথা শুনে কপিল রসিকতা করে বলেন, “আপনার মতো সুন্দরী স্ত্রীকেও সরি বলতে হয়! এ তো ঘোর অন্যায়!”
বিয়ে টিকে থাকার মূল মন্ত্র:
অনুরাগীদের মতে, এই ইগোহীন মনোভাবই তাঁদের সম্পর্কের আসল চাবিকাঠি। যেখানে বর্তমান যুগে ছোটখাটো ইগোর লড়াইয়ে বড় বড় সম্পর্ক ভেঙে যায়, সেখানে ঐশ্বর্য নিজেই উদ্যোগী হয়ে মান-অভিমান মিটিয়ে নেন। আর তাই বারবার ডিভোর্সের গুজব রটলেও বচ্চন পরিবারে এখনও অটুট ভালোবাসার বন্ধন।
২০০০ সালের শুরুতে আলাপ এবং ২০০৭ সালে রাজকীয় বিয়ে— দীর্ঘ এই পথচলায় ‘গুরু’, ‘ধুম ২’, ‘রাবন’-এর মতো একাধিক সুপারহিট ছবি উপহার দিয়েছেন এই জুটি। ২০১১ সালে তাঁদের জীবনে আসে আরাধ্যা। আজ ১৯ বছর পার করেও এই ‘পাওয়ার কাপল’ প্রমাণ করে দিচ্ছেন যে, ভালোবাসার কাছে হার মানা মানেই আসলে জিতে যাওয়া।





