প্রথম দফার ভোটের ঠিক ৪৮ ঘণ্টা আগে মঙ্গলবার পাহাড়ের মাটি থেকে তৃণমূল সরকারকে চরম হুঁশিয়ারি দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। কার্শিয়াঙের জনসভা থেকে তাঁর স্পষ্ট বার্তা, “বাংলার মানুষের মমতাদিদিকে টাটা বাই-বাই বলার সময় হয়ে গিয়েছে।” পাহাড়ের দীর্ঘদিনের গোর্খা সমস্যা থেকে শুরু করে মিথ্যা মামলা— একাধিক ইস্যুতে এদিন মাস্টারস্ট্রোক দিলেন শাহ।
গোর্খা সমস্যার ‘স্থায়ী’ সমাধান?
পাহাড়ের আবেগকে উসকে দিয়ে অমিত শাহ এদিন এক বড় গ্যারান্টি দিয়েছেন। তিনি বলেন, “বিজেপি ক্ষমতায় এলে মাত্র ৬ মাসের মধ্যে গোর্খা সমস্যার এমন সমাধান করা হবে, যাতে প্রতিটি গোর্খার মুখে হাসি ফোটে। আমরা এমনভাবে এই সমস্যার নিষ্পত্তি করব যে গোর্খাদের আর কোনও দিন আন্দোলনের রাস্তায় হাঁটতে হবে না।”
৩১ জুলাইয়ের ডেডলাইন: মামলা প্রত্যাহারের আশ্বাস
পাহাড়ের তরুণ প্রজন্মের ওপর হওয়া রাজনৈতিক মামলাগুলো নিয়েও বড় প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন শাহ। তিনি ঘোষণা করেন:
৪ মে নির্বাচনের ফলাফল বেরোবে এবং ৫ মে বিজেপি সরকার গড়বে।
৩১ জুলাইয়ের মধ্যে গোর্খা ভাইদের ওপর চাপানো সমস্ত রাজনৈতিক ও মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে নেওয়া হবে।
তৃণমূল সরকার কেবল ভয় দেখিয়ে আন্দোলন দমন করতে চেয়েছে, বিজেপি তাঁদের অধিকার ফিরিয়ে দেবে।
কাটমানি ও ভোটার তালিকা নিয়ে তোপ
রাজ্য সরকারকে আক্রমণ করে শাহ অভিযোগ করেন, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে কালেক্টররা ষড়যন্ত্র করে বহু গোর্খা ব্যক্তির নাম ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন। বিজেপি ক্ষমতায় এলে ওই বঞ্চিত মানুষদের ভোটাধিকার দ্রুত ফিরিয়ে দেওয়া হবে বলেও তিনি প্রতিশ্রুতি দেন।
পাহাড়ের রাজনীতিতে নয়া মোড়?
অমিত শাহের এই ‘ডেডলাইন পলিটিক্স’ পাহাড়ের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে দিতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। গোর্খা জনমুক্তি মোর্চা থেকে শুরু করে অন্যান্য আঞ্চলিক দলগুলো যখন গোর্খাল্যান্ড ইস্যু নিয়ে সরব, তখন শাহের এই ‘৬ মাসের সমাধান’ এবং ‘জুলাইয়ের মধ্যে মামলা প্রত্যাহার’-এর আশ্বাস পাহাড়বাসীর মনে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার।
২৩ তারিখ প্রথম দফার ভোট। তার আগে অমিত শাহের এই আক্রমণাত্মক মেজাজ দার্জিলিং ও কালিম্পং জেলার ভোটের লড়াইকে যে আরও কঠিন করে তুলল, তাতে কোনও সন্দেহ নেই।





