ভারতীয় সংস্কৃতি এবং আধুনিক ফ্যাশনের সেতুবন্ধন হিসেবে নীতা আম্বানির নাম সর্বদা শীর্ষে থাকে। সম্প্রতি স্বামী মুকেশ আম্বানির জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সিদ্ধিবিনায়ক মন্দির দর্শনে গিয়ে তিনি পুনরায় প্রমাণ করলেন কেন তাঁকে ‘স্টাইল আইকন’ বলা হয়। মন্দিরে তাঁর পরনের টকটকে লাল রঙের বিশেষ জামদানি শাড়িটি এখন ফ্যাশন দুনিয়ায় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।
জামদানি বুননে ঐতিহ্যের ছোঁয়া
নীতা আম্বানি বরাবরই ভারতীয় হস্তশিল্পের একনিষ্ঠ পৃষ্ঠপোষক। এবারের বিশেষ দিনে তিনি বেছে নিয়েছিলেন ঢাকাই মসলিন জামদানি শৈলী দ্বারা অনুপ্রাণিত একটি চমৎকার লাল শাড়ি। শাড়িটির পরতে পরতে ছিল হাতে বোনা অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও নিপুণ ফুলের নকশা। সাধারণ অথচ মার্জিত একটি ব্লাউজের সঙ্গে তাঁর এই সাজে ফুটে উঠেছিল এক রাজকীয় আভা।
সাজে ছিল ধর্মীয় নান্দনিকতা
কেবল শাড়ি নয়, নীতার গহনার নির্বাচনেও ছিল আভিজাত্যের ছাপ। গলায় স্বর্ণহার, যাতে খোদাই করা ছিল হিন্দু দেব-দেবীর প্রতিচ্ছবি। কানে ছিল একই ধাঁচের দুল। হাতে লাল ও সোনালি চুড়ির সাথে হীরের আংটি তাঁর সাজকে পূর্ণতা দিয়েছিল। মেকআপে ছিল স্নিগ্ধতার ছোঁয়া—হালকা কাজল, নিউড লিপস্টিক আর খোলা ঢেউখেলানো চুলে তিনি ছিলেন অনন্যা।
গ্রীষ্মে কেন সেরা জামদানি?
দুই হাজার বছরের প্রাচীন ঐতিহ্যবাহী ঢাকাই জামদানি তার ‘স্বচ্ছ বয়ন’ পদ্ধতির জন্য বিখ্যাত। সুতি বা মসলিনের অত্যন্ত হালকা এই কাপড় বাতাস চলাচলে সহায়ক, যা গ্রীষ্মের প্রখর তাপেও শরীরকে শীতল রাখে। একটি আসল জামদানি শাড়ি তৈরি করতে দক্ষ কারিগরদের সময় লাগে কয়েকমাস। নীতা আম্বানির এই পছন্দ কেবল ফ্যাশন নয়, বরং হারিয়ে যাওয়া প্রাচীন বয়ন শিল্পকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরার এক অনন্য প্রয়াস।





