আর নেই জনপ্রিয় ব্রিটিশ-অস্ট্রেলীয় তারকা টেরেন্স ডোনোভান! মেলবোর্নে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ ৯০ বছর বয়সে

আন্তর্জাতিক বিনোদন জগতে নেমে এল গভীর শোকের ছায়া। জনপ্রিয় ব্রিটিশ-অস্ট্রেলীয় অভিনেতা টেরেন্স ডোনোভান ৯০ বছর বয়সে পাড়ি দিলেন না ফেরার দেশে। ‘নেইবার্স’ এবং ‘হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে’ মতো বিশ্বখ্যাত এবং জনপ্রিয় সব টেলিভিশন ধারাবাহিকে দুর্দান্ত অভিনয়ের জন্য তিনি দর্শক হৃদয়ে চিরস্মরণীয় হয়ে আছেন। অভিনেতার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করেছেন তাঁরই পুত্র, খ্যাতনামা অভিনেতা ও গায়ক জেসন ডোনোভান। তিনি এক আবেগঘন সোশ্যাল মিডিয়া বার্তার মাধ্যমে জানিয়েছেন যে, গত শনিবার রাতে অস্ট্রেলিয়ার মেলবোর্নে নিজের বাসভবনে অত্যন্ত শান্তিপূণ পরিবেশে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছেন তাঁর বাবা।

ছেলের করা সেই পোস্টে অত্যন্ত মর্মস্পর্শী ভাষায় উল্লেখ করা হয়েছে, “আমাদের বাবা ছিলেন একজন অত্যন্ত অসাধারণ ব্যক্তিত্ব, যিনি আক্ষরিক অর্থেই জীবনের চেয়েও অনেক বড় ছিলেন। তিনি শুধু আমাদের অভিভাবকই ছিলেন না, বরং ছিলেন আমাদের সবচেয়ে কাছের বন্ধু এবং গোটা পৃথিবী। আমরা তাকে সবসময় ভীষণভাবে মিস করব, তবে আমাদের মনে একটাই সান্ত্বনা কাজ করছে যে তাঁর জীবনের শেষ দিনগুলোতে আমরা সবাই তাঁর পাশেই থাকতে পেরেছিলাম।” লন্ডনে জন্মগ্রহণকারী টেরেন্স ডোনোভান ১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশকের স্বর্ণালী সময়ে প্রচারিত জনপ্রিয় অস্ট্রেলীয় পুলিশ ড্রামা সিরিজ ‘ডিভিশন ৪’ এবং ‘কপ শপ’-এ অনবদ্য অভিনয় করে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন।

পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, কিশোর বয়সে অস্ট্রেলিয়ায় চলে যাওয়ার পর ডোনোভান ১৯৬০-এর দশকের গোড়ার দিকে রূপালী পর্দায় পা রাখার আগে মূলত একজন গায়ক হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেছিলেন। দীর্ঘ এক দশেররও বেশি সময় ধরে বিনোদন জগতের সঙ্গে যুক্ত থাকার পর তিনি ‘ডিভিশন ৪’-এ ডিটেকটিভ মিক পিটার্স এবং পরবর্তী সময়ে ‘কপ শপ’-এ ডিটেকটিভ সিনিয়র সার্জেন্ট ভিক ক্যামেরনের মতো অত্যন্ত জনপ্রিয় চরিত্রে অভিনয় করে নিজের অভিনয় দক্ষতার ছাপ রেখেছিলেন। পরবর্তীতে ১৯৯০-এর দশকে, তাঁর ছেলে জেসন যখন ‘নেইবার্স’ শো থেকে বিদায় নেন, ঠিক তার কিছুদিন পরেই ডোনোভান জনপ্রিয় চরিত্র ডাগ উইলিস হিসেবে এই ধারাবাহিকের মূল কলাকুশলীদের সঙ্গে যুক্ত হন। পাশাপাশি, জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘হোম অ্যান্ড অ্যাওয়ে’-তে অ্যাল সিম্পসন চরিত্রের মাধ্যমেও তিনি দর্শকদের মন জয় করেছিলেন।

টেলিভিশনের পর্দায় একটানা ছয় দশক ধরে নিজের সফল কর্মজীবন বজায় রাখার পাশাপাশি বড় পর্দায় তাঁর স্মরণীয় কাজগুলোর মধ্যে রয়েছে ‘দ্য ম্যান ফ্রম স্নোই রিভার’ এবং ‘ব্রেকার মোরান্ট’ ছবির মতো ক্লাসিক প্রজেক্ট। এছাড়া মঞ্চ নাটকেও তাঁর জোরালো উপস্থিতি বহুবার প্রশংসিত হয়েছে। জেসন তাঁর বাবার স্মরণে আরও জানিয়েছেন যে, ১৯৭০-এর দশকের শুরুর দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্য থেকে প্রচুর বিদেশি কনটেন্টের আধিপত্যের বিরুদ্ধে লড়াই করে অস্ট্রেলিয়ান চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে তিনি নিজের তারকা খ্যাতি ও পরিচিতিকে জোরালোভাবে ব্যবহার করেছিলেন। মেলবোর্নের রাস্তায় তাঁর সেই ঐতিহাসিক লড়াই অস্ট্রেলিয়ান বিনোদন জগতের ভিতকে শক্ত করতে বিরাট ভূমিকা রেখেছিল। তাঁর এই প্রয়াণে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা ভক্ত ও সহকর্মীরা গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।