নিজের সুরেলা কণ্ঠ আর একের পর এক কালজয়ী গানের মাধ্যমে বাংলা তথা গোটা ভারতের সংগীতপ্রেমীদের হৃদয়ে চিরস্থায়ী আসন করে নিয়েছেন জনপ্রিয় গায়ক শান। ক্যারিয়ারের স্বর্ণযুগে শানকে দেখার জন্য বা তাঁর সঙ্গে এক ঝলক কথা বলার জন্য ভক্তদের উৎসাহ সবসময়ই তুঙ্গে থাকত। কিন্তু নিজের ক্যারিয়ারের এক বিচিত্র অভিজ্ঞতার কথা বলতে গিয়ে সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে শান জানালেন এমন এক ঘটনা, যা শুনলে আপনি হাসি আটকাতে পারবেন না। শাহরুখ খানের ক্যারিশমা আর শানের কণ্ঠ—এই দুইয়ের মিশেলে ঘটা সেই ভুল বোঝাবুঝির ঘটনা আজও গায়কের স্মৃতিতে অমলিন।
ঘটনাটি কয়েক বছর আগের। শান তখন সবে নতুন একটি মারুতি ৮০০ গাড়ি কিনেছেন। রাস্তায় বেরোনোর সময় গাড়িতে পেট্রোল ভরানোর জন্য একটি পেট্রোল পাম্পে থামেন তিনি। শানের বর্ণনা অনুযায়ী, পাম্পে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থায় হঠাৎ করেই একদল স্কুল পড়ুয়া হইচই করতে করতে তাঁর দিকে ছুটে আসে। মুহূর্তের মধ্যে তাঁকে ঘিরে ফেলে ওই বাচ্চারা। তাদের চোখেমুখে এক অদ্ভুত উত্তেজনা আর আবেগ ছিল, যা দেখে শান নিজেও প্রথমে হকচকিয়ে যান। তিনি ভেবেছিলেন, হয়তো তাঁর গান শুনেই ভক্তরা এভাবে ভালোবাসা জানাচ্ছে। কিছুক্ষণ পরেই ওই পড়ুয়ারা তাদের স্কুল বাসে ফিরে যায়।
তবে মজার কাণ্ডটি ঘটল ঠিক সেই সময়েই। বাস থেকে ফেরার সময় শান নিজের কানে শুনতে পান, বাচ্চাগুলো নিজেদের মধ্যেই বলাবলি করছে যে তারা আসলে ভুলবশত শানকে ‘বলিউড বাদশা’ শাহরুখ খান ভেবে ফেলেছিল! আসলে, ওই পড়ুয়ারা হয়তো মুম্বইয়ের স্থানীয় বাসিন্দা ছিল না, তাই তারা জানত না যে শাহরুখ খানের মতো একজন মেগাস্টার হয়তো নিজে এভাবে পেট্রোল পাম্পে গাড়ি নিয়ে পেট্রোল ভরতে আসবেন না। একজন ভুল করার পরই বাকিরাও ভিড় জমিয়েছিল। তবে যতক্ষণ তারা ভিড় করেছিল, শান বেশ উপভোগই করেছিলেন সেই তারকা সুলভ উন্মাদনা।
উল্লেখ্য, শান এবং শাহরুখ খানের সম্পর্ক অত্যন্ত গভীর। নব্বইয়ের দশকের শেষভাগ থেকে ২০০০ সালের গোড়ার দিকে শানের গাওয়া অসংখ্য সুপারহিট গানে লিপ মিলিয়েছেন শাহরুখ খান। ‘ম্যায় হুঁ ডন’, ‘কুছ তো হুয়া হ্যায়’, ‘দস্তানে ওম শান্তি ওম’, ‘দিওয়ানি দিওয়ানি’ কিংবা ‘আঁখে খুলি’-র মতো অসংখ্য কালজয়ী গানে শানের কণ্ঠ শাহরুখের ব্যক্তিত্বকে পর্দায় আরও ফুটিয়ে তুলেছে। সম্প্রতি ‘ওয়েলকাম টু দ্য জঙ্গল’ ছবিতেও টাইটেল ট্র্যাকে শানের জাদু দর্শক উপভোগ করেছেন। শাহরুখ হোক কিংবা আমির খান, রণবীর কাপুর—সবার কণ্ঠেই শান সমান সাবলীল। তবে ভক্তদের সেই অদ্ভুত ভুল বোঝাবুঝির ঘটনাটি আজও শানের ক্যারিয়ারের অন্যতম মজার স্মৃতি হয়ে রয়েছে।





