আত্মহত্যার জন্য নর্মদার জলে নেমেছিলেন গোবিন্দা! কোন জাদুকরী ডাকে ফিরে পেলেন জীবনের আলো?

একসময় যাঁর এক চিলতে হাসি আর দুর্দান্ত নাচ দেখতে প্রেক্ষাগৃহে টিকিটের জন্য দর্শকদের কাড়াকাড়ি পড়ে যেত, সেই জনপ্রিয় বলিউড তারকা গোবিন্দার জীবনই একমুহূর্তে থেমে গিয়েছিল এক চরম ট্র্যাজেডিতে। চারপাশের সমস্ত আলো, গ্ল্যামার আর কোটি কোটি ভক্তের ভালোবাসা যেন এক লহমায় ফিকে হয়ে গিয়েছিল তাঁর কাছে। বুকভাঙা কষ্ট সামлаাতে না পেরে জীবনের অন্ধকার গলিতে পা বাড়াতেও পিছপা হননি তিনি। কিন্তু ঠিক শেষ মুহূর্তে একটি ছোট্ট ডাক বদলে দিয়েছিল সবকিছু। মৃত্যুর মুখ থেকে, গভীর নদীর জল থেকে ফিরিয়ে এনেছিল নব্বইয়ের দশকের সেই মহাতারকার জীবন! সম্প্রতি এক একান্ত সাক্ষাৎকারে নিজের জীবনের সেই ভয়ঙ্কর ও অতি গোপন স্মৃতির কথাই প্রকাশ্যে এনেছেন অভিনেতা গোবিন্দা।
ঘটনাটি ১৯৯৬ সালের। ওই বছরের ১৫ জুন চিরতরে পৃথিবী ছেড়ে চলে যান অভিনেতার মা, বিশিষ্ট শাস্ত্রীয় সঙ্গীতশিল্পী ও অভিনেত্রী নির্মলা দেবী। মায়ের সঙ্গে গোবিন্দার আত্মিক টান ছিল এতটাই গভীর যে, তাঁর প্রয়াণের পর পুরো পৃথিবীটাই যেন অর্থহীন শূন্যতায় ভরে গিয়েছিল অভিনেতার কাছে। মানসিকভাবে এমন চরম ধাক্কা খেয়েছিলেন যে, তিনি মনে মনে সব শেষ করে দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেন। সেই বিষাদগ্রস্ত ও অন্ধকার দিনে দিশাহারা হয়ে হাঁটতে হাঁটতে তিনি সোজা গিয়ে হাজির হন নর্মদা নদীর পাড়ে। এরপর দীর্ঘক্ষণ আর কোনো কিছু না ভেবেই ধীর পায়ে নেমে যান খরস্রোতা জলের গভীরে। সেই ভয়াবহ স্মৃতির কথা স্মরণ করে গোবিন্দা জানান, “বুকের ভেতরটা তীব্র যন্ত্রণায় ফেটে যাচ্ছিল। মনে হচ্ছিল, জীবনের আর কিছুই বাকি নেই, সব এখানেই শেষ।”
পরে এক সাক্ষাৎকারে অভিনেতা খোলাখুলিই স্বীকার করেন যে তিনি আত্মঘাতী হতেই চেয়েছিলেন। তাঁর ভাষায়, “আমার মনে হচ্ছিল, জলের একটু গভীরে চলে গেলেই বুঝি আবার আমার মায়ের দেখা পাব! সেই না পাওয়ার তীব্র বেদনা থেকেই নর্মদার জলে নেমে পড়েছিলাম।” যখন তিনি একের পর এক পা ফেলে গভীর জলের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলেন, ঠিক সেই সময় নদীর ঘাটে উপস্থিত রাম কুন্ডল নামের এক স্থানীয় পুরোহিত দূর থেকে তাঁকে চিনতে পেরে চিৎকার করে ডেকে ওঠেন। অচেনা সেই গলার আওয়াজ যেন এক ধাক্কায় তাঁর ঘোর ভেঙে দেয়। পুরোহিতের সেই সময়োপযোগী ডাক শুনেই থমকে দাঁড়ান তারকা। তিনি বুঝতে পারেন, মায়ের টানে তিনি কত বড় ভুল করতে যাচ্ছিলেন। চোখের সামনে ভেসে ওঠে তাঁর নিজ সন্তানদের নিষ্পাপ মুখগুলো। গোবিন্দা আবেগপ্রবণ হয়ে বলেন, “হঠাৎ খেয়াল হল, শুধু মা নন, আমার ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের অভিভাবক হিসেবেও আমাকে বেঁচে থাকতে হবে!”
অবশেষে সচেতন হয়ে নদী থেকে সুস্থ শরীরে উঠে আসেন তিনি। সেই মানসিক ধাক্কা সম্পূর্ণ কাটিয়ে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে অভিনেতার প্রায় পনেরো দিন সময় লেগেছিল। তবে এই একটিমাত্র ঘটনাই চিরতরে বদলে দেয় তাঁর জীবনের সমস্ত দৃষ্টিভঙ্গি। আলো ঝলমলে রূপোলি পর্দা আর খ্যাতির মোহের আসল রূপটা তিনি সেদিনই হাড়ে হাড়ে চিনে গিয়েছিলেন। গোবিন্দার স্পষ্ট বার্তা, “সিনেমা বা সুপারস্টার হওয়া আমার জীবনের আসল প্রাপ্তি নয়। মা এবং আমার পরিবারকে সুখে রাখতে পেরেছি, সেটাই আমার জীবনের সর্বশ্রেষ্ঠ অর্জন।”