পাহাড়ের গায়ে জমে থাকা সাদা বরফ আর মন্দিরের ঘণ্টাধ্বনির মাঝে এক আধ্যাত্মিক সকালে ধরা দিলেন প্রখ্যাত গায়ক কৈলাস খের। বৃহস্পতিবার ভোরে তিনি পৌঁছেছিলেন হিন্দুধর্মের অন্যতম পবিত্র তীর্থস্থান কেদারনাথ ধামে। হাড়কাঁপানো ঠান্ডাকে উপেক্ষা করে বাবা কেদারনাথের আশীর্বাদ নিতেই তাঁর এই সফর। হিমালয়ের শান্ত ও পবিত্র পরিবেশে গায়কের এই ভক্তিপূর্ণ উপস্থিতি সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই ভাইরাল।
সরকারি বিবৃতি অনুযায়ী, কৈলাস খের এদিন প্রাতঃকালে মন্দিরের গর্ভগৃহে বিশেষ পুজো দেন। সম্পূর্ণ শাস্ত্রীয় আচার-অনুষ্ঠান মেনে পুজো দেওয়ার পর তিনি দীর্ঘক্ষণ সেখানে ধ্যানে মগ্ন ছিলেন। পুজো শেষে তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানান, নিজের জন্য নয় বরং গোটা দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধির জন্য তিনি মহাদেবের কাছে প্রার্থনা করেছেন। কেদারনাথের এই মরসুমে এর আগে বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি ও তারকার সমাগম হয়েছে, সেই তালিকায় নতুন সংযোজন হলো কৈলাসের নাম।
শুধুমাত্র পুজো দিয়েই ফিরে আসেননি কৈলাস। কেদারনাথ ধামে থাকাকালীন তিনি সাধারণ তীর্থযাত্রীদের সুযোগ-সুবিধার দিকেও নজর দেন। সেখানে মোতায়েন থাকা নিরাপত্তারক্ষী এবং তীর্থ পুরোহিতদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন তিনি। দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কেমন, জরুরি পরিষেবার কী কী আয়োজন আছে—সেসব নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন।
সেখানকার প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনার ভূয়সী প্রশংসা করে খের বলেন, “এত কঠিন ভৌগোলিক পরিস্থিতি এবং প্রতিকূল আবহাওয়া সত্ত্বেও প্রশাসন ও স্থানীয় বাসিন্দারা যেভাবে ভক্তদের জন্য পরিষেবা নিশ্চিত করেছেন, তা অত্যন্ত সন্তোষজনক।” নিরাপত্তা বাহিনী ও স্থানীয়দের মিলিত প্রচেষ্টাকে তিনি সাধুবাদ জানিয়েছেন।
সোশ্যাল মিডিয়ায় প্রকাশিত ছবিতে কৈলাস খেরকে ঐতিহ্যবাহী শীতের পোশাকে দেখা গিয়েছে। প্রাচীন পাথরের মন্দিরের প্রেক্ষাপটে তুষারাবৃত ধাম এবং গায়কের ভক্তিপূর্ণ অবয়ব এক অনন্য আধ্যাত্মিক পরিবেশ তৈরি করেছে। মন্দিরের কর্মী ও নিরাপত্তারক্ষীদের সঙ্গেও হাসিমুখে ছবি তুলতে দেখা যায় তাঁকে। কেদারনাথের পরিবেশ ও মাহাত্ম্য নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তিনি বেশ আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। সব মিলিয়ে, গায়ক কৈলাস খেরের এই সফর উত্তরাখণ্ডের তীর্থযাত্রার আকর্ষণকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।





