২০২৬ সালের কান চলচ্চিত্র উৎসবের ঝলমলে আড়ম্বর আর পশ্চিমা গ্ল্যামারের ভিড়ে এবার একক আধিপত্য বিস্তার করলেন বলিউড ডিভা আলিয়া ভাট। উৎসবের প্রথম দিনে আধুনিক ওয়েস্টার্ন পোশাকে নজর কাড়ার পর, দ্বিতীয় দিনে আলিয়া ফিরলেন শিকড়ের টানে। তবে তা সাধারণ কোনো সাজ ছিল না; বরং আইভরি বা হাতির দাঁতের রঙের শাড়িতে তিনি হয়ে উঠেছিলেন এক নিখুঁত ‘দেশি রানি’। তাঁর এই উপস্থিতি যেন ফ্রেঞ্চ রিভিয়েরার বুকে এক টুকরো আধুনিক রাজকীয় ভারতের প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তুলেছিল।
আলিয়ার এই চমকপ্রদ সাজ দেখে সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহারকারীরা তাঁকে ‘ইউরোপীয় গাঙ্গুবাই’ নামে অভিহিত করতে শুরু করেছেন। গাঙ্গুবাই চরিত্রে যে স্নিগ্ধতা ও আভিজাত্য আলিয়া ফুটিয়ে তুলেছিলেন, কান-এর রেড কার্পেটেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। আধুনিক ফ্যাশন আর দেশি ঐতিহ্যের এমন মেলবন্ধন সচরাচর দেখা যায় না।
পোশাকের বিশেষত্ব ছিল ডিজাইনার তরুণ তাহিলিয়ানির তৈরি একটি কাস্টম আইভরি চান্দেরি কনসেপ্ট শাড়ি। তবে এই শাড়ির বিন্যাস ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। এতে ভিক্টোরিয়ান করসেট-শৈলীর নান্দনিকতার সঙ্গে ঐতিহ্যবাহী ভারতীয় ড্র্যাপিংয়ের একটি অনবদ্য ফিউশন লক্ষ্য করা গেছে। হালকা রঙের এই শাড়িতে ছিল সুক্ষ্ম ফুলের এমব্রয়ডারি এবং একটি ব্যাকলেস ডিটেইলিং, যা পুরো সাজে এক স্বপ্নময় ও আন্তর্জাতিক মাত্রা যোগ করেছিল। আলিয়া এই জটিল পোশাকটি অত্যন্ত সাবলীল ও মার্জিতভাবে দর্শকদের সামনে উপস্থাপন করেন।
শাড়িটির সঙ্গে আলিয়া যে করসেট ব্লাউজটি পরেছিলেন, তার কাটিংয়ে ছিল ইউরোপীয় আভিজাত্য। বিশেষ করে এর নেকলাইন এবং পেছনের সূক্ষ্ম কাজ নজর কেড়েছে ফ্যাশন বিশেষজ্ঞদের। ধুতি-স্টাইল স্কার্ট এবং শাড়ির এই ফিউশন আলিয়ার ব্যক্তিত্বকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিল।
তবে গহনা ও মেকআপের ক্ষেত্রে আলিয়া বেছে নিয়েছিলেন ‘মিনিমালিজম’ বা নূন্যতম সাজের কৌশল। একটি ছোট মুক্তোর নথ, কপালে ছোট্ট টিপ এবং পায়ের সূক্ষ্ম মুক্তার নূপুর তাঁর সাজকে সম্পূর্ণতা দান করেছিল। খোলা ঢেউখেলানো চুল আর ন্যাচারাল মেকআপে আলিয়া বুঝিয়ে দিলেন যে, আভিজাত্য কেবল ভারী পোশাকে নয়, বরং রুচিশীল উপস্থাপনাতেই নিহিত। রেড কার্পেটে তাঁর প্রতিটি পদক্ষেপ যেন এক আধুনিক মহারানির গল্পের জানান দিচ্ছিল।





