বাংলার বিনোদন জগতে টিআরপি (TRP)-এর লড়াই মানেই যেন এক স্নায়ুযুদ্ধ। প্রতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবারের অপেক্ষায় থাকেন অগুনতি দর্শক, কারণ এই দিনই নির্ধারিত হয় ছোটপর্দার জনপ্রিয়তার পারদ। আর এই সপ্তাহের টিআরপি রিপোর্ট কার্যত চমকে দিয়েছে সবাইকে। দীর্ঘদিনের সমস্ত সমীকরণ বদলে দিয়ে সবাইকে পিছনে ফেলে জোর টক্কর দিয়ে ‘বাংলা সেরা’র আসন দখল করে নিয়েছে জি বাংলার ধারাবাহিক ‘জোয়ার ভাঁটা’।
চলতি সপ্তাহে নিশা ও উজির সম্পর্কের টানাপোড়েন এবং গল্পের অভাবনীয় মোড় দর্শকদের এতটাই মুগ্ধ করেছে যে, এই ধারাবাহিক পেয়েছে ৫.১ নম্বর। ধারাবাহিকের প্রতিটি পরতে পরতে উত্তেজনা আর অনিশ্চয়তা দর্শককে ধরে রেখেছে টিভির পর্দায়। জি বাংলার এই নতুন সাফল্যের খবর প্রকাশ্যে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে উচ্ছ্বাস।
তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে স্টার জলসার দুটি অত্যন্ত জনপ্রিয় ধারাবাহিক। ৪.৯ নম্বর পেয়ে যৌথভাবে এই স্থানটি দখল করেছে ‘পরশুরাম’ এবং ‘প্রোফেসার বিদ্যা ব্যানার্জি’-এর প্রথম ১৫ মিনিটের এপিসোড। এই দুটি ধারাবাহিকই দীর্ঘ সময় ধরে দর্শক মহলে চর্চার কেন্দ্রে রয়েছে। গল্পের গভীরতা এবং চিত্রনাট্যের মুনশিয়ানায় দর্শক বরাবরই এই দুই মেগাকে ভালোবেসে এসেছেন।
তৃতীয় স্থানে দেখা যাচ্ছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। এই তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে পরপর তিনটি ধারাবাহিক—‘গঙ্গা’র প্রথম ১৫ মিনিট, ‘প্রোফেসার বিদ্যা ব্যানার্জি’ এবং ‘পরিণীতা’। তিনটি ধারাবাহিকই ৪.৬ নম্বর পেয়ে যৌথভাবে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। বিশেষ করে জি বাংলার ‘পরিণীতা’ ধারাবাহিকে এখন এক দারুণ চমক অপেক্ষা করছে দর্শকদের জন্য। পারুলের মা হওয়ার খবর এবং সন্তানকে বাবার অধিকার না দেওয়ার লড়াইয়ে পারুলের আদালতের দ্বারস্থ হওয়া—এই ঘটনাপ্রবাহ দর্শকদের উত্তেজনাকে তুঙ্গে নিয়ে গেছে। আগামী পর্বে কী ঘটবে, তা জানার অপেক্ষায় দিন গুনছেন অনুগামীরা।
চতুর্থ স্থানে রয়েছে একঝাঁক ধারাবাহিক। ৪.৪ নম্বর পেয়ে এই তালিকায় জায়গা করে নিয়েছে মোট পাঁচটি মেগা—‘তারে ধরি ধরি মনে করি’, ‘কনে দেখা আলো’, ‘গঙ্গা’, ‘প্রতিজ্ঞা’ ও ‘সংসারের সংকীর্তন’। পঞ্চম স্থানে ৪.১ নম্বর নিয়ে জায়গা করে নিয়েছে ‘কুসুম’, ‘ঘূর্ণি’ এবং ‘ও মোর দরদিয়া’।
টিআরপির এই বর্তমান তালিকায় জি বাংলা এবং স্টার জলসার লড়াই আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। যদিও বেশ কিছু ধারাবাহিকের নম্বর চলতি সপ্তাহে সামান্য কমেছে, তবুও জনপ্রিয়তার লড়াইয়ে একে অপরকে টেক্কা দেওয়ার প্রচেষ্টায় কোনো খামতি নেই। ছোটপর্দার এই প্রতিযোগিতামূলক বাজারে কোন ধারাবাহিক দর্শকদের মনের মণিকোঠায় টিকে থাকবে, সেটাই এখন দেখার বিষয়। টিআরপির এই মারপ্যাঁচে আগামী দিনে কোন ধারাবাহিক সিংহাসন রক্ষা করে, আর কোনটি হারিয়ে যায়, সেই উত্তরের অপেক্ষায় বাংলা টেলিভিশন ইন্ডাস্ট্রি।





