রাজধানী এক্সপ্রেসের রেশ কাটতে না কাটতেই ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দেশে ফের বড়সড় রেল দুর্ঘটনা। এবার স্টেশনে দাঁড়িয়ে থাকা অবস্থাতেই দাউদাউ করে জ্বলে উঠল একটি প্যাসেঞ্জার ট্রেনের কামরা। সোমবার সকালে বিহারের রোহতাস জেলার সাসারাম রেল স্টেশনে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে চরম আতঙ্ক ও হুড়োহুড়ি ছড়িয়ে পড়ে যাত্রীদের মধ্যে।
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, সোমবার সকাল ৬টা ৪৫ মিনিট নাগাদ সাসারাম রেল স্টেশনের ৬ নম্বর প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে ছিল সাসারাম-পটনা ফাস্ট প্যাসেঞ্জার ট্রেনটি (৫৩২১২২)। ঘড়ির কাঁটায় তখন পৌনে সাতটা। ট্রেনটি পটনার উদ্দেশে রওনা দেওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তেই আচমকা তার ৫ নম্বর জেনারেল কোচটি থেকে গলগল করে কালো ধোঁয়া বেরোতে দেখেন প্ল্যাটফর্মে থাকা যাত্রীরা। কিছু বুঝে ওঠার আগেই মুহূর্তের মধ্যে আগুন পুরো কামরাটিতে ছড়িয়ে পড়ে এবং বিধ্বংসী রূপ নেয়।
তড়িঘড়ি পদক্ষেপ, এড়ানো গেল বড় বিপদ
পূর্ব-মধ্য রেলের মুখ্য জনসংযোগ আধিকারিক (CPRO) সরস্বতী চন্দ্র জানিয়েছেন, ট্রেনের কামরায় আগুন লাগার খবর পাওয়া মাত্রই রেলের তৎপরতায় ক্ষতিগ্রস্ত ৫ নম্বর কোচটিকে দ্রুত ট্রেনের ইঞ্জিন এবং বাকি কামরাগুলি থেকে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। খবর দেওয়া হয় দমকল বাহিনীকে। প্রায় আধ ঘণ্টার চেষ্টায় দমকল কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
রেল সুরক্ষা বাহিনীর (RPF) পরিদর্শক জানান, সৌভাগ্যবশত যে কোচটিতে আগুন লেগেছিল, সেটি সেই সময় সম্পূর্ণ খালি ছিল। রেলকর্মী ও আধিকারিকদের দ্রুত পদক্ষেপের কারণে কোনো যাত্রী বা কর্মী আহত হননি। বড়সড় কোনো হতাহতের ঘটনা ছাড়াই পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়েছে। অগ্নিকাণ্ডের জেরে ক্ষতিগ্রস্ত কামরাটিকে সাসারাম স্টেশনেই ব্যারিকেড করে রেখে দেওয়া হয় এবং নির্ধারিত সময়ের প্রায় দুই ঘণ্টা পর বাকি কামরাগুলি নিয়ে ট্রেনটি পটনার উদ্দেশে রওনা দেয়।
রেলের গাফিলতির অভিযোগ প্রত্যক্ষদর্শীদের
রেল আধিকারিকরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছেন, শর্ট সার্কিটের কারণেই হয়তো এই আগুনের সূত্রপাত। তবে প্ল্যাটফর্মে দাঁড়িয়ে থাকা ট্রেনে কীভাবে এই ঘটনা ঘটল, তা খতিয়ে দেখতে ইতিমধ্যেই উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু হয়েছে।
এদিকে, এই ঘটনায় রেল কর্তৃপক্ষের দিকে সরাসরি গাফিলতির আঙুল তুলেছেন স্টেশনে উপস্থিত ক্ষুব্ধ প্রত্যক্ষদর্শীরা। এক প্রত্যক্ষদর্শীর অভিযোগ, “লোকো পাইলট বারবার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের জন্য ফোন করলেও দমকল বাহিনী ও রেলের উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে বেশ কিছুটা দেরি করে। সময়মতো ব্যবস্থা নিলে আগুন এতটা ছড়াত না এবং কামরাটি সম্পূর্ণ পুড়ে খাক হতো না।”
পরপর রেল দুর্ঘটনায় বাড়ছে উদ্বেগ
রেলের নিরাপত্তা নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ দিন দিন বাড়ছে। উল্লেখ্য, ঠিক এর আগের দিনই রাজস্থান-মধ্যপ্রদেশ সীমানার কোটা-রতলম এলাকায় ত্রিবান্দ্রম-হজরত নিজামুদ্দিন রাজধানী এক্সপ্রেসেও আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছিল। সেই রেশ কাটতে না কাটতেই পরদিন সকালে বিহারের এই অগ্নিকাণ্ড রেলের সুরক্ষা ব্যবস্থার ওপর আরও একবার বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করে দিল।





