বলিউডের জনপ্রিয় সিনেমা ‘ককটেল’ মুক্তি পেয়েছিল ২০১২ সালে। সইফ আলি খান, দীপিকা পাড়ুকোন এবং ডায়ানা পেন্টি অভিনীত এই ছবিটি আজও দর্শকদের মনে গেঁথে রয়েছে। তবে বর্তমানে এই ছবিটির কাস্টিং নিয়ে পরিচালক ইমতিয়াজ আলির একটি পুরনো মন্তব্য নতুন করে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। বিষয়টি তখন থেকেই বিতর্কের জন্ম দিলেও, এতদিন পর নিজের অবস্থান স্পষ্ট করতে বাধ্য হলেন স্বয়ং পরিচালক।
ইনস্টাগ্রামে নিজের একটি পুরনো বক্তব্যের ভিডিও শেয়ার করে ইমতিয়াজ আলি এক দীর্ঘ বার্তা দিয়েছেন। কেন তিনি এই বিষয়ে সরব হলেন, তার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে পরিচালক জানিয়েছেন, তাঁর বক্তব্যের ভুল অর্থ করা হতে পারে এবং তাতে দীপিকা পাড়ুকোন কষ্ট পেতে পারেন—এই আশঙ্কা থেকেই তিনি বিষয়টি খোলাসা করতে চেয়েছেন। ইমতিয়াজ লিখেছেন, “আমার মিষ্টি ও সুন্দরী দীপিকা, তুমি আমার বন্ধু, আমার আনন্দের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উৎস। আমার রসিকতা তুমি ভুল বুঝবে না বলেই আশা করি, কারণ তুমি জানো আমি তোমাকে কতটা শ্রদ্ধা করি। তবে আমাকে বলা হয়েছে তুমি কষ্ট পেতে পারো, তাই আমি তোমাকে অনুরোধ করছি, দয়া করে এমনটা করো না।”
আসলে মূল বিতর্কটি শুরু হয়েছিল ছবির চরিত্র নির্বাচন নিয়ে। ইমতিয়াজ জানিয়েছিলেন, ‘ককটেল’-এর গল্প লেখার সময় তিনি দীপিকাকে মীরা চরিত্রের জন্য অডিশন দিতে বলেছিলেন, যে চরিত্রটিতে পরে ডায়ানা পেন্টি অভিনয় করেছিলেন। পরবর্তীতে দীপিকার অনুরোধেই তাঁকে ভেরোনিকা চরিত্রের জন্য অডিশন দিতে বলা হয়। পরিচালকের মতে, সেই সময় দীপিকার জনসমক্ষে থাকা ‘ভালো মেয়ে’র ভাবমূর্তির সাথে ভেরোনিকা চরিত্রটি একেবারেই মেলে না। ইমতিয়াজ আরও যোগ করেছিলেন, “আমি দীপিকার সঙ্গে অনেক পার্টিতে গিয়েছি, তাই আমি জানতাম সে কতটা সাহসী ও স্পষ্টভাষী হতে পারে। ভেরোনিকা চরিত্রটি তাঁর সেই পর্দার আড়ালের ব্যক্তিত্বের প্রতিফলন।”
ইমতিয়াজের এই মন্তব্যের পরই সোশ্যাল মিডিয়ায় শুরু হয়েছে জোর জল্পনা। কেউ কেউ এটাকে দীপিকার সাহসের প্রশংসা হিসেবে দেখছেন, আবার কেউ কেউ ভাবমূর্তি নিয়ে পরিচালকের কটাক্ষ খুঁজে পেয়েছেন। বিশেষ করে যখন আগামী ১৯ জুন ‘ককটেল ২’ মুক্তি পেতে চলেছে, ঠিক সেই মুহূর্তে এই পুরনো বিতর্ক নতুন করে উস্কে দেওয়াটা অনেককেই ভাবাচ্ছে। পরিচালক অবশ্য শেষ পর্যন্ত দীপিকার প্রতি তাঁর অঢেল ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার কথা জানিয়ে বিতর্ক থামানোর চেষ্টা করেছেন। তাঁর কথায়, দীপিকার পক্ষে কঠোর হওয়া তাঁর পক্ষে অসম্ভব। এই ঘটনার পর এখন ভক্তরা অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন, দীপিকা পাড়ুকোন এই বিষয়ে কোনো প্রতিক্রিয়া দেন কি না, তা দেখার জন্য।





