ইস্টবেঙ্গলের সেই ঐতিহাসিক পাঁচ গোল এবং একটি আক্ষেপ, চিরঘুমে ময়দানের নক্ষত্র মোহন সিং

কলকাতা ময়দানের সবুজ ঘাসে যাঁর পা পড়লে খেলা হয়ে উঠত শিল্পের মতো, সেই মনমোহনী ফুটবল শৈলীর কারিগর মোহন সিং আর নেই। বৃহস্পতিবার ৭৯ বছর বয়সে জীবনাবসান হলো প্রবাদপ্রতিম এই ফুটবলারের। দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত অসুস্থতায় ভুগছিলেন তিনি। তাঁর প্রয়াণে ময়দানের একটি স্বর্ণালী যুগের অবসান ঘটল। বল পায়ে তাঁর ড্রিবলিং আর নিখুঁত পাস আজও পুরনো দর্শকদের স্মৃতিতে অমলিন।

১৯৪৭ সালে, ভারতের স্বাধীনতার বছরে পাঞ্জাবে জন্ম নেওয়া মোহন সিং বেড়ে উঠেছিলেন এই কলকাতাতেই। ১৯৭২ সালে বিএনআর থেকে ইস্টবেঙ্গলে যোগ দিয়েই পাদপ্রদীপের আলোয় চলে আসেন তিনি। সেই বছরই অপরাজিত থেকে লিগ জয়ী লাল-হলুদের ‘পঞ্চমুকুট’ অভিযানে তাঁর অবদান ছিল অনস্বীকার্য। ডুরান্ড কাপ ফাইনালের সেরা হওয়ার পাশাপাশি কলকাতা ভেটারেন্স ক্লাবের বিচারে সে বছর ‘প্লেয়ার অফ দ্য সিজন’ নির্বাচিত হয়েছিলেন তিনি। পরবর্তী সময়ে তিনি মোহনবাগান ও মহমেডান স্পোর্টিং ক্লাবের জার্সিও গায়ে চাপিয়েছেন।

মোহন সিংয়ের কেরিয়ারে ১৯৭৫ সাল ছিল এক বিশেষ অধ্যায়। লাল-হলুদে কামব্যাক করে টানা ষষ্ঠবার লিগ জয়ের অন্যতম কারিগর ছিলেন তিনি। তবে সেই বছর আইএফএ শিল্ড ফাইনালে মোহনবাগানের বিরুদ্ধে ঐতিহাসিক ৫-০ জয়ের ম্যাচে কোচ পিকে বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে মাঠে নামাননি— যা তাঁর ফুটবল জীবনে এক নীরব আক্ষেপ হয়ে থেকে গিয়েছিল। ক্লাব ফুটবলের পাশাপাশি জাতীয় দলের জার্সিতেও ১৯৭২ সালে প্রাক-অলিম্পিক পর্বে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে তাঁর অভিষেক হয়। দেশের হয়ে তিনটি ম্যাচ খেলেছিলেন তিনি।

বৃহস্পতিবার বিকেলে লেসলি ক্লডিয়াস সরণির ইস্টবেঙ্গল ক্লাবে তাঁর মরদেহ আনা হলে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। লাল-হলুদ পতাকায় মুড়ে প্রাক্তন এই তারকাকে শেষ বিদায় জানানো হয়। মজার বিষয় হলো, ফুটবলার না হলে তিনি হয়তো ক্রিকেটার হিসেবে সফল হতেন, কারণ ক্রিকেটেও তাঁর ছিল অসামান্য দক্ষতা। তাঁর মৃত্যুতে গভীর শোকপ্রকাশ করেছে সর্বভারতীয় ফুটবল ফেডারেশন (AIFF)। মোহন সিং চলে গেলেও রেখে গেলেন তাঁর পায়ের জাদুকরী সব মুহূর্ত, যা ময়দানপ্রেমীদের হৃদয়ে চিরকাল সজীব থাকবে।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy