‘বালতি চোর’! তৃণমূল কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে সরকারি সম্পত্তি বিক্রির বিস্ফোরক অভিযোগ বিজেপির

শহরকে পরিচ্ছন্ন রাখার লক্ষ্যে কলকাতা পুরনিগমের (KMC) দেওয়া ‘নীল ও সবুজ’ বালতি নিয়ে তৈরি হলো এক নজিরবিহীন বিতর্ক। বেহালার একটি পরিত্যক্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জমিতে বিপুল পরিমাণ সরকারি বালতি পড়ে থাকতে দেখে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে এলাকায়। অভিযোগের তীর ১১৬ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর কৃষ্ণা সিংয়ের দিকে।

কীভাবে সামনে এল ঘটনাটি?
রবিবার সকালে বেহালার রায়বাহাদুর রোড সংলগ্ন ওই পরিত্যক্ত জমিতে অস্বাভাবিক পরিমাণে সরকারি লোগোযুক্ত বালতি দেখতে পান স্থানীয় বাসিন্দারা। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছান দক্ষিণ কলকাতা বিজেপির সম্পাদক তারক বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর অভিযোগ, জমির মালিকের সঙ্গে কথা বলে জানা গিয়েছে, ১১৬ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর কৃষ্ণা সিং ওই বালতিগুলো সেখানে ফেলে রেখেছিলেন। এই বালতিগুলো সাধারণ মানুষের হাতে পৌঁছানোর পরিবর্তে বছরের পর বছর ফেলে রেখে সেগুলোর ‘অপব্যবহার’ করা হয়েছে বলে বিজেপির দাবি।

কাউন্সিলরের পরিবারের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক
বেহালার রাজনীতিতে প্রভাবশালী হিসেবে পরিচিত সিং পরিবারের তিন সদস্যই কাউন্সিলর পদে রয়েছেন—কৃষ্ণা সিং (১১৮ নম্বর ওয়ার্ড), তাঁর ভাই অমিত সিং (১১৭ নম্বর) এবং বাবা তারক সিংহ (১১৬ নম্বর)। এই ঘটনার জেরে স্বাভাবিকভাবেই রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। যদিও সংশ্লিষ্ট কোম্পানির এক কর্মীর দাবি, প্রায় চার-পাঁচ বছর আগে বালতি সংরক্ষণের জায়গা না থাকায় কাউন্সিলরের অনুরোধে সেগুলো সেখানে রাখা হয়েছিল। তবে দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও তা কেন বিতরণ করা হয়নি, সেই প্রশ্নই এখন বড় হয়ে দেখা দিয়েছে।

তীব্র আক্রমণ সজল ঘোষের
ঘটনার খবর চাউর হতেই কড়া আক্রমণ শানিয়েছেন বিজেপি বিধায়ক সজল ঘোষ। তিনি তীব্র ভাষায় বলেন, “এরা কত কিছু চুরি করেছে, এবার বালতি চোর! চুরি বন্ধ করতে না পেরে শেষমেশ বালতি বিক্রি করে খেতে হচ্ছে, যা অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।”

ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বিজেপি নেতৃত্ব বেহালা থানায় অভিযোগ জানানোর পাশাপাশি কলকাতা পুরনিগমের উচ্চপদস্থ কর্তৃপক্ষের কাছেও নালিশ জানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। সরকারি সম্পত্তি কেন এভাবে বেহাত হলো, তা নিয়ে এখন প্রশাসনিক তদন্তের দাবি জোরালো হচ্ছে। শাসক দলের তরফে এখনও এই ঘটনায় কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

Related Posts

© 2026 Tips24 - WordPress Theme by WPEnjoy