তৃণমূল নাকি তিন ভাগে বিভক্ত! বাম-মমতা সমীকরণ নিয়ে কী বড় হাঁড়ি ভাঙলেন সিপিএমের মুস্তাফিজুর?

সর্বভারতীয় রাজনীতিতে কি অলক্ষে তৈরি হচ্ছে নতুন কোনো সমীকরণ? তৃণমূল কংগ্রেস সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সিপিআইএম (CPIM) তথা বামেদের দূরত্ব কমে কাছাকাছি আসা নিয়ে গত কয়েক দিন ধরেই জাতীয় ও রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে জোর জল্পনা তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি দিল্লিতে অনুষ্ঠিত বিরোধী জোটের কর্মসূচিতেও একাধিকবার পাশাপাশি দেখা গিয়েছে সিপিএমের পলিটব্যুরো সদস্য এম এ বেবি এবং পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে। দুই বিপরীত মেরুর এই রাজনৈতিক সখ্যতা নিয়ে ইতিমধ্যেই তীব্র কটাক্ষ করতে শুরু করেছে বিজেপি।

এই তপ্ত পরিস্থিতির আবহেই এবার মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তৃণমূলের সঙ্গে বোঝাপড়া নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুললেন ডোমকলের সিপিআইএম বিধায়ক মুস্তাফিজুর রহমান রানা।

‘ক্ষমতার গরমে আগে বোঝেননি মমতা’: ডোমকলের সিপিআইএম বিধায়ক রানার দাবি, এতদিন রাজ্যে একচ্ছত্র ক্ষমতায় থাকার কারণে বিরোধী জোটের প্রকৃত শক্তি বা গুরুত্ব অনুধাবন করতে পারেননি মুখ্যমন্ত্রী। উল্টে রাজত্ব চালাতে গিয়ে বিরোধীদের রাজনৈতিকভাবে নিকেশ করার চেষ্টাই চালিয়ে এসেছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গে সিপিআইএম-এর বর্তমান বোঝাপড়া ও ‘ইন্ডি’ (INDIA) জোটের সমীকরণ নিয়ে বিস্ফোরক বিধায়ক মুস্তাফিজুর বলেন, “আমাদের ইন্ডি জোটে বোঝাপড়া আছে। সেখানে বিজেপি-বিরোধী শিবিরের সমস্ত রাজনৈতিক দল রয়েছে। আমরা বারবার নানাভাবে চেষ্টা চালিয়েছি। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগে এর গভীরতা ও গুরুত্ব বুঝতে চাননি, কিন্তু এখন তা হাড়ে হাড়ে বুঝছেন। তিনি বুঝতে পারছেন যে বর্তমান জাতীয় রাজনীতিতে এই বিরোধী ঐক্যের আর কোনো বিকল্প নেই।”

‘তৃণমূল এখন তিন ভাগে বিভক্ত’: তিনি আরও দাবি করেন, সাধারণ মানুষের প্রয়োজন ও সময়কে গুরুত্ব দিয়েই আগামী দিনে জোটের রূপরেখা নিয়ে এগোবে সিপিআইএম। রাজ্য রাজনীতির বর্তমান হাল ধরে মুস্তাফিজুর রহমানের দাবি, “তৃণমূল কংগ্রেস দলটা এখন আর এক নেই, তারা ভেতরে ভেতরে তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে গিয়েছে। সময়ই রাজনীতির সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর। সব গণতান্ত্রিক ও বিরোধী শক্তির সঙ্গে আলোচনা করেই সাধারণ মানুষের স্বার্থে আগামী দিনে এগোনো হবে। সমস্ত শক্তিকে এক ছাতার তলায় আসতেই হবে।”

ডিল্লির রামলীলা ময়দান থেকে শুরু করে ডোমকলের এই মন্তব্য—বাম-তৃণমূলের সাম্প্রতিক রসায়ন যে চব্বিশের বঙ্গ রাজনীতির জল মেপে নেওয়ার এক নতুন চাল, তা নিয়ে নিশ্চিত রাজনৈতিক অভিজ্ঞ মহল।