“টাকা এখনই ফেরত দাও!” চলন্ত বাস থেকে কন্ডাক্টরকে ফেলে দেওয়ার নৃশংস ঘটনায় যা জানা গেল

টিকিটের সামান্য খুচরো টাকা ফেরত দেওয়াকে কেন্দ্র করে এক পৈশাচিক ঘটনার সাক্ষী রইল তেলেঙ্গানা। গত মাসে চলন্ত বাস থেকে এক মহিলা যাত্রীর ধাক্কায় গুরুতর আহত হওয়া তেলেঙ্গানা রাজ্য রোড ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন (TSRTC)-এর এক মহিলা কন্ডাক্টর শেষ পর্যন্ত চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন। মাত্র চব্বিশ বছর বয়সি ওই তরুণী কর্মীর আকস্মিক প্রয়াণে গোটা রাজ্যজুড়ে গভীর শোক ও চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মঙ্গলবার গভীর রাতে হায়দরাবাদের একটি উন্নত চিকিৎসাকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন অবস্থাতেই তাঁর মৃত্যু হয়।
ঘটনার বিস্তারিত বিবরণে প্রকাশ, গত ২৫ অক্টোবর তেলেঙ্গানার ভদ্রাদ্রি কোথাগুডেম জেলার অশ্বপুরম মণ্ডল এলাকায় এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটেছিল। অভিযুক্ত মহিলা যাত্রী সে সময় তাঁর নিজের ছেলেকে সঙ্গে নিয়ে ওই বাসে যাতায়াত করছিলেন। বাসে ছেলের টিকিট কাটা নিয়ে যাত্রী এবং ওই তরুণী কন্ডাক্টর প্রবাল্লিকার মধ্যে প্রথমে কথা কাটাকাটি শুরু হয়। পুলিশ জানিয়েছে, টিকিট কাটার পর ওই যাত্রী ১০০ টাকার একটি নোট দেন এবং সঙ্গে সঙ্গেই তার বকেয়া খুচরো টাকা ফেরত চাওয়ার জন্য কন্ডাক্টরের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন।
কিন্তু কন্ডাক্টর প্রবাল্লিকা তাঁকে বোঝানোর চেষ্টা করেন যে, বাস থেকে গন্তব্যে নেমে যাওয়ার সময় তিনি তাঁর বাকি টাকা বুঝে নিতে পারবেন। তবে যাত্রী নিজের দাবিতে অনড় থেকে তৎক্ষণাৎ টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য জোর করতে থাকেন, যার জেরে দুজনের মধ্যে তীব্র বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। তর্কের মাত্রা এতদূর গড়ায় যে, চলন্ত বাস থেকেই ওই ক্ষিপ্ত মহিলা যাত্রী কন্ডাক্টর প্রবাল্লিকাকে সজোরে ধাক্কা দিয়ে বাইরে ফেলে দেন বলে অভিযোগ ওঠে।
চলন্ত বাস থেকে আকস্মিক ধাক্কা খেয়ে রাস্তায় ছিটকে পড়ে যান প্রবাল্লিকা। দুর্ভাগ্যবশত, তিনি বাসের পেছনের চাকার নিচে চলে যাওয়ায় তাঁর পায়ে ও শরীরের বিভিন্ন অংশে অত্যন্ত গুরুতর আঘাত লাগে। ঘটনার আকস্মিকতায় বাসে যাত্রীদের মধ্যে হাহাকার পড়ে যায়। প্রথমে দ্রুত তাঁকে স্থানীয় একটি স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে হায়দরাবাদের একটি বিশেষায়িত হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়। সেখানে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর অবশেষে মঙ্গলবার রাত এগারোটা নাগাদ তাঁর মৃত্যু হয় বলে নিশ্চিত করেছেন দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ আধিকারিক। এই অমানবিক ঘটনার জেরে গণপরিবহণের নিরাপত্তা ও বাসকর্মীদের সুরক্ষা নিয়ে ফের একবার বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে।