প্রাইভেট হাসপাতাল মানেই কি দুর্নীতি? বদলাচ্ছে ধারণা, বাংলাকে ‘হেলথ ট্যুরিজম’-এর হাব বানানোর মেগা পরিকল্পনা

বিগত সরকারের কার্যকালে রাজ্যের স্বাস্থ্যখাতে একাধিক চাঞ্চল্যকর দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে এসেছিল। বিশেষ করে ‘স্বাস্থ্য সাথী’ (Swasthya Sathi) কার্ড ব্যবহার করে বহু সাধারণ মানুষকে বেসরকারি হাসপাতালে নানা ধরনের ভোগান্তি ও হয়রানির শিকার হতে হয়েছে—এমন অভিযোগও কম ওঠেনি। সাধারণ মানুষের মনে ‘বেসরকারি হাসপাতাল মানেই দুর্নীতির আখড়া’—এই নেতিবাচক ও ক্ষতিকারক ধারণা চিরতরে মুছে ফেলতে এবার এক ঐতিহাসিক ও কঠোর পদক্ষেপ করল রাজ্যের বেসরকারি হাসপাতাল ও নার্সিংহোমগুলির প্রধান সংগঠন ‘অ্যাসোসিয়েশন অফ প্রাইভেট হসপিটাল অ্যান্ড নার্সিংহোম’ (Association of Private Hospital and Nursing Home)। সংগঠনের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, স্বাস্থ্য সাথী প্রকল্পের নামে কোনো হাসপাতাল যদি দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত থাকে, তবে তাদের সঙ্গে সমস্ত ব্যবসায়িক ও প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক চিরতরে ছিন্ন করা হবে।

কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে পশ্চিমবঙ্গের চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য পরিষেবাকে আরও উন্নত, স্বচ্ছ এবং জনমুখী করে তুলতে উদ্যোগী হয়েছে এই সংগঠন। তাঁদের মতে, চিকিৎসা ব্যবস্থায় কঠোর স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনার মাধ্যমেই সাধারণ মানুষের বিশ্বাস ও আস্থা পুনরায় অর্জন করা সম্ভব।

পুরোনো সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ ও ‘হেলথ ট্যুরিজম’-এর স্বপ্ন: সংগঠনের সম্পাদক অভিজিৎ মণ্ডল পূর্ববর্তী সরকারের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে অভিযোগ করেন যে, বিগত সরকারের আমলে বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে সবসময় অসাধু ও দুর্নীতিগ্রস্ত হিসেবে প্রতিপন্ন করার একটা সুপরিকল্পিত চেষ্টা চালানো হতো। তবে বর্তমান সময়ে সাধারণ মানুষ প্রকৃত সত্য বুঝতে পেরেছেন এবং কে অপরাধী আর কে নয়, তা আজ জলের মতো পরিষ্কার।

পাশাপাশি, চিকিৎসাক্ষেত্রে পরিকাঠামোর ব্যাপক উন্নয়নের ওপর জোর দিয়ে তিনি জানান, রাজ্য সরকার যদি এই উদ্যোগে আরও বেশি করে পাশে দাঁড়ায়, তবে আগামী দিনে পশ্চিমবঙ্গ সমগ্র দেশের মধ্যে ‘হেলথ ট্যুরিজম’ (Health Tourism)-এর ক্ষেত্রে এক সম্পূর্ণ নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে। চিকিৎসা ব্যবস্থার এই আমূল পরিবর্তন এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গোটা রাজ্যবাসীকে এক নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।