দমবন্ধ করা বাতাসে নিঃশ্বাস নিলেই বড় বিপদ! ফুসফুস বাঁচাতে এখনই জানুন মর্নিং ওয়াকের মারাত্মক নিয়ম

দিল্লি ও তার পার্শ্ববর্তী অঞ্চলের বায়ুর গুণমান সূচক (AQI) ইতিমধ্যেই বিপজ্জনকভাবে ৪০০-এর গণ্ডি পার করে ফেলেছে। চারপাশ ঢেকে গেছে বিষাক্ত ধোঁয়াশায়। এই চরম অস্বাস্থ্যকর ও দমবন্ধ করা আবহাওয়ার মধ্যেও অনেকেই প্রাত্যহিক অভ্যাস অনুযায়ী মর্নিং ওয়াক বা শরীরচর্চার জন্য বাইরে বের হচ্ছেন। কিন্তু প্রশ্ন উঠছে, এই বিষাক্ত বাতাসে হাঁটতে যাওয়া কি আদপে স্বাস্থ্যসম্মত, নাকি মৃত্যুর মুখে ঢলে পড়ার সামিল? এই গুরুতর পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যের সুরক্ষায় কী পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা, তা নিয়ে মুখ খুলেছেন রাজীব গান্ধী হাসপাতালের বিশিষ্ট চিকিৎসক ডা. অজিত কুমার।
AQI ৪০০-এর বেশি হলে মর্নিং ওয়াক কেন মারাত্মক? বিশেষজ্ঞদের মতে, যখন বাতাসের মান এতটা খারাপ থাকে, তখন বাইরে দীর্ঘক্ষণ হাঁটা বা জগিং করা থেকে কঠোরভাবে বিরত থাকা উচিত। এর পেছনের মূল কারণ কেবল বাইরে কাটানো সময় নয়, বরং শরীরচর্চার সময় আমাদের দ্রুত ও গভীর শ্বাসপ্রশ্বাস। দ্রুত নিঃশ্বাস নেওয়ার ফলে সাধারণ সময়ের তুলনায় বহুগুণ বেশি দূষিত কণা ও বিষাক্ত গ্যাস ফুসফুসের গভীরে প্রবেশ করে। ফলে মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে ফুসফুসের।
ডাঃ অজিত কুমার পরামর্শ দিচ্ছেন, বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে অবশ্যই একিউআই (AQI) দেখে নেওয়া উচিত। বিশেষ করে ভারী যানজটপূর্ণ রাস্তা বা নির্মাণকাজ চলছে এমন এলাকার পাশ দিয়ে হাঁটা সম্পূর্ণ এড়িয়ে চলুন। মনে রাখবেন, খুব ভোরের বাতাস সবসময় বিশুদ্ধ বা পরিষ্কার হয় না। শিশু, বয়স্ক এবং হাঁপানি, সিওপিডি কিংবা হার্টের রোগীদের এই সময়ে বাড়তি সতর্কতা নিতে হবে।
মাস্ক পরে কি হাঁটা নিরাপদ? অনেকেরই ধারণা, মুখে ভালো মানের মাস্ক পরে বাইরে হাঁটলে বোধহয় পুরোপুরি সুরক্ষিত থাকা যায়। চিকিৎসকদের মতে, N95 রেসপিরেটর মাস্ক অত্যন্ত ক্ষুদ্র PM 2.5 কণার সংস্পর্শ কিছুটা কমাতে সাহায্য করে। তবে এর মানে এই নয় যে, মারাত্মক দূষণের মধ্যেও দীর্ঘক্ষণ বা দ্রুত গতিতে বাইরে হাঁটা নিরাপদ।
তাছাড়া, N95 মাস্ক পরে দ্রুত হাঁটলে অনেকেরই মারাত্মক শ্বাসকষ্ট হতে পারে। ব্যায়াম করার সময় যদি অস্বাভাবিক শ্বাসকষ্ট বা বুকে কোনো অস্বস্তি অনুভূত হয়, তবে অবিলম্বে হাঁটা থামিয়ে দেওয়া উচিত। বাতাসের মান ২০০-র বেশি থাকলেই কেবল মাস্কের ওপর ভরসা না করে সরাসরি দূষণের সংস্পর্শ এড়ানোই বুদ্ধিমানের কাজ।
বাইরে না গিয়ে বিকল্প কী করা যেতে পারে? বাইরের বাতাসের মান যখন শোচনীয়, তখন শরীর সচল রাখতে ঘরের ভেতরে বা ইনডোরে হাঁটা সবচেয়ে সুরক্ষিত উপায়। ট্রেডমিল ব্যবহার করা কিংবা ঘরের ভেতরেই স্বাভাবিক গতিতে অল্প অল্প করে হাঁটা শরীরকে সক্রিয় রাখতে সাহায্য করে। ঘরের হারানো ওয়াকের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে হঠাৎ করে ইনডোরে খুব বেশি জোরে বা দীর্ঘ সময় ধরে ব্যায়াম শুরু করার দরকার নেই।
পাশাপাশি, ঘরের ভেতরের পরিবেশ বিশুদ্ধ রাখতে জানালা বন্ধ রাখা, এয়ার পিউরিফায়ার ব্যবহার করা এবং ঘরের ভেতরের ধূমপান বা দূষণের উৎসগুলো দূর করা জরুরি। যাঁদের আগে থেকেই শ্বাসকষ্টজনিত সমস্যা রয়েছে, তাঁদের জন্য দূষণের দিনগুলোতে ঘরের ভেতরেই শরীরচর্চা করা সবচেয়ে বেশি উপকারী।