ট্রাম্পের ভাগ্যনির্ধারণে এবার ‘মিডটার্ম’ ইলেকশন, নজর বিশ্ব রাজনীতির

নির্বাচনের দামামা বেজে গিয়েছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। নভেম্বরেই বসতে চলেছে বহুল চর্চিত ‘মিডটার্ম ইলেকশন’-এর মহা আসর। শুধু আমেরিকাই নয়, গোটা বিশ্ব এখন অপলক চোখে তাকিয়ে রয়েছে এই ফলাফলের দিকে। প্রেসিডেন্সির গাদিতে বসে ট্রাম্প যেভাবে দেশ চালাচ্ছেন, আমেরিকান নাগরিকরা কতটা তা সমর্থন করছেন—তার চূড়ান্ত রায় পাওয়া যাবে এই ব্যালট বক্সেই। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তাঁর দল রিপাবলিকান পার্টির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ পুরোপুরি আটকে রয়েছে এই হাই-ভোল্টেজ নির্বাচনের ওপর।

কী এই মার্কিন মিডটার্ম ইলেকশন?

সহজ কথায়, আগামী ৩ নভেম্বর আমেরিকান ভোটদাতারা তাঁদের আইনসভা অর্থাৎ মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধিদের বেছে নিতে চলেছেন। হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস (নিম্নকক্ষ) এবং সেনেট (উচ্চকক্ষ)—এই দুই কক্ষের সদস্য নির্বাচনের জন্যই মানুষ ভোট দেবেন। প্রেসিডেন্টের ৪ বছরের মেয়াদের ঠিক মাঝামাঝি ২ বছরের মাথায় এই ভোট হয় বলেই একে ‘মিডটার্ম ইলেকশন’ বলা হয়ে থাকে।

আমেরিকার শাসনব্যবস্থায় কংগ্রেসের মূল কাজ হলো পুরো দেশের জন্য প্রয়োজনীয় ফেডারেল আইন তৈরি করা ও পাস করানো। ফলে ভোটের পর কংগ্রেসের রাশ ট্রাম্পের রিপাবলিকান পার্টির হাতে থাকবে নাকি বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা ক্ষমতা ছিনিয়ে নেবে, তার ওপর নির্ভর করবে ট্রাম্পের আনা নীতিগুলো বাস্তবায়িত হবে কি না।

কারা নির্বাচিত হবেন এই নির্বাচনে?

  • হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস (নিম্নকক্ষ): এই কক্ষের সমস্ত ৪৩৫টি আসনেই ভোটগ্রহণ হবে। নতুন নির্বাচিত প্রতিনিধিরা ২ বছরের মেয়াদে কাজ করবেন। যেকোনো নতুন প্রস্তাবিত আইনের প্রথম লড়াই ও খসড়া পেশ এই কক্ষেই হয়। (ভারতের লোকসভার মতো)

  • সেনেট (উচ্চকক্ষ): সেনেটের মোট ১০০টি আসনের মধ্যে এবার ৩৫টি আসনে ভোট হতে চলেছে। সেনেটররা ৬ বছরের জন্য নির্বাচিত হন। নিম্নকক্ষ থেকে আনা প্রস্তাবিত আইন অনুমোদন করা বা আটকে দেওয়ার প্রধান ক্ষমতা রয়েছে তাঁদের হাতেই।

  • স্টেট লেভেল গভর্নর: কংগ্রেসবাসীর পাশাপাশি বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের স্থানীয় প্রতিনিধি বাছাই করবেন ভোটাররা। বিশেষ করে ক্যালিফোর্নিয়া, ফ্লোরিডা, জর্জিয়া এবং মিশিগানের গভর্নর পদে লড়াই ঘিরে চড়ছে পারদ।

হারলে ঠিক কী হবে ডোনাল্ড ট্রাম্পের?

বর্তমানে আমেরিকার আইনসভার দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠ রিপাবলিকানরা। কিন্তু যদি বিরোধী ডেমোক্র্যাটরা কোনোভাবে যেকোনো একটি কক্ষের (হাউস অফ রিপ্রেজেন্টেটিভস কিংবা সেনেট) নিয়ন্ত্রণ নিজেদের দখলে নিতে পারে, তবেই বিপাকে পড়বেন ট্রাম্প।

  • নীতি বাস্তবায়নে বাধা: কংগ্রেসের রাশ বিরোধীদের হাতে চলে গেলে দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নিজের পছন্দের আইন পাস করানো ট্রাম্পের জন্য একপ্রকার অসম্ভব হয়ে উঠবে।

  • হোয়াইট হাউসে একাধিক তদন্তের খাঁড়া: ট্রাম্পের প্রেসিডেন্সির নানাবিধ বিতর্কিত সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে সরকারি তদন্তের মুখোমুখি হতে হতে পারে রিপাবলিকানদের। দুর্নীতির অভিযোগ থেকে শুরু করে হোয়াইট হাউসের নতুন বলরুম পরিকল্পনা বা অভিবাসন সংস্থা ICE-এর কাজ—সবকিছুই পড়তে পারে সংসদীয় তদন্তের আওতায়।

  • ইমপিচমেন্টের জুজু: ডেমোক্র্যাটিক পার্টির অন্দরে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ইমপিচমেন্ট বা আনুষ্ঠানিক পদচ্যুতির অভিযোগ আনার প্রক্রিয়ার তোড়জোড়ও শুরু হয়ে গেছে।

পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে কী এর আঁচ পড়বে?

যদিও এই ‘মিডটার্ম’ নির্বাচনে সরাসরি প্রেসিডেন্ট পদ বেছে নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই, তবুও ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই তাঁর সমর্থকদের কাছে এই ভোটকে তাঁর কাজের প্রতি সমর্থনের নিদর্শন হিসেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন। এই ফলাফল ট্রাম্পের দেশ চালানোর গতিপথের ওপর আমেরিকার মানুষের আস্থা কতটা বজায় আছে, তার শেষ কথা বলে দেবে।