স্বস্তি তো দূরঅস্ত, উল্টে আইসা নেত্রী নেহা বোরার আবেদন খারিজ করল দিল্লি হাইকোর্ট! জানুন বিশদ

দিল্লি হাইকোর্টে বড় রকমের আইনি ধাক্কার মুখে পড়লেন AISA সভানেত্রী নেহা বোরা। বিশেষ কার্যনির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের (SEM) জারি করা নোটিসকে চ্যালেঞ্জ করে তিনি যে আবেদন দাখিল করেছিলেন, তা খারিজ করে দিয়েছে আদালত। ওই নোটিসে নেহাকে ১০ হাজার টাকার বন্ড জমা দেওয়ার পাশাপাশি শান্তি বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। মূলত সেই নোটিসের বৈধতাকেই চ্যালেঞ্জ করে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন এই বামনেত্রী।
ঠিক কী দাবি ছিল নেহার?
নেহার পক্ষে আদালতে সওয়াল করেন প্রবীণ আইনজীবী গোপাল শঙ্করনারায়ণন। তিনি দাবি করেন, দেশের জাতীয় পতাকা তোলার জন্য আলাদা করে কোনো অনুমতির প্রয়োজন হয় না। পাশাপাশি, বিশেষ কার্যনির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নোটিস জারির সময় নিজের সঠিক বিচারবুদ্ধি প্রয়োগ করেননি বলেও তাঁর অভিযোগ ছিল। আবেদনে আরও বলা হয়, শান্তিভঙ্গের আশঙ্কা রয়েছে বলে যে দাবি করা হয়েছে, তার সপক্ষে পুলিশের কাছে যথেষ্ট তথ্যপ্রমাণ ছিল না। এছাড়া পুলিশের নোটিস বাতিল করার পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে জোর করে কোনো কঠোর পদক্ষেপ না করার আর্জিও জানানো হয়েছিল। তবে দিল্লি হাইকোর্ট সেই সমস্ত আবেদনই খারিজ করে দিয়েছে। অন্যদিকে, দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে সাফ জানানো হয় যে নেহার এই আবেদন আইনিভাবে গ্রহণযোগ্য নয়।
কী অভিযোগ ছিল পুলিশের?
পুলিশের তরফে আদালতে জানানো হয়, মাণ্ডি হাউসের গোলচত্বরে বিক্ষোভের সময় নেহা অত্যন্ত উগ্রভাবে স্লোগান দিয়েছিলেন। এছাড়া নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে যন্তরমন্তর ও তার আশপাশের এলাকায় প্রতিবাদে অংশ নেওয়ার অভিযোগও ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে বিনা অনুমতিতে বিক্ষোভে লোকজনকে উসকে দেওয়া এবং অনুমতি ছাড়া জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মতো গুরুতর অভিযোগও তোলে পুলিশ।
কেন আটক হয়েছিলেন নেহা?
সূত্রের খবর, SIR-এ অনিয়মের অভিযোগ তুলে নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন প্রতিবাদ আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা নিয়েছিলেন নেহা বোরা। গত ১৬ অক্টোবর ‘লহরা দো তিরঙ্গা’ মিছিলে যোগ দিতে যাওয়ার পথেই তাঁকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। এরপর ১৭ অক্টোবর তাঁকে মুক্তি দেওয়া হলেও পুলিশের সেই নোটিসের বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে নামেন AISA সভাপতি। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হাইকোর্টে তাঁর আবেদন খারিজ হয়ে যাওয়ায় তাঁর আইনি জটিলতা যে আরও বাড়ল, তা বলাই বাহুল্য।