ছোট ফ্ল্যাটের চাহিদা উধাও, বড় ফ্লাটেই কি মজেছে বাঙালি? রিয়েল এস্টেট বাজারের নতুন ট্রেন্ড

উৎসবের মরশুমের আগে শহরের রিয়েল এস্টেট বাজার নিয়ে এল এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। কলকাতায় বিগত কয়েকমাসে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে বাড়ি বা ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রির সংখ্যা। প্রখ্যাত কনসালটেন্সি ফার্ম ‘নাইট ফ্র্যাঙ্ক ইন্ডিয়া’র (Knight Frank India) সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর মাসের মধ্যে কলকাতা মেট্রোপলিটন এলাকায় বাড়ি রেজিস্ট্রেশনের পরিমাণ গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

কী বলছে পরিসংখ্যান?

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথম ৯ মাসে (জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর) মোট ৪১,৩০৯টি আবাসিক ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রি হয়েছে। অথচ গত বছর এই একই সময়ে সংখ্যাটি ছিল আরও বেশি। বিশেষ করে গত সেপ্টেম্বর মাসের হিসাব ধরলে দেখা যায়, ওই মাসে শহরে ৪,৮৪৫টি আবাসিক ফ্ল্যাটের রেজিস্ট্রেশন হয়েছে, যেখানে এক বছর আগে এই সংখ্যাটা ছিল ৫,৩০২টি। অর্থাৎ শুধু সেপ্টেম্বরেই রেজিস্ট্রেশন কমেছে প্রায় ৯ শতাংশ। তবে আগস্ট মাসের তুলনায় সামান্য হলেও—প্রায় ২ শতাংশ—বেড়েছে বিক্রির পরিমাণ।

কোন মাপের ফ্ল্যাটের চাহিদা সবচেয়ে বেশি?

সামগ্রিক সংখ্যা কমলেও ক্রেতাদের পছন্দ ও চাহিদার ক্ষেত্রে এক বড়সড় পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। পরিসংখ্যান বলছে, মাঝারি ও বড় আকারের ফ্ল্যাট কেনার প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

  • মাঝারি ফ্ল্যাট (৫০১-১০০০ বর্গফুট): ২০২৬ সালের প্রথম ৯ মাসে মোট রেজিস্ট্রেশনের বড় অংশ অর্থাৎ ৫৮ শতাংশই দখল করেছে এই মাপের ফ্ল্যাটগুলি। গত বছর এই হার ছিল ৪৬ শতাংশ। সংখ্যায় বলতে গেলে, এই ক্যাটাগরির ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রেশন ২১,৩৫৮ থেকে বেড়ে সোজা ২৪,০০২টিতে পৌঁছেছে।

  • বড় ফ্ল্যাট (১০০০ বর্গফুটের বেশি): বড় ফ্ল্যাটের চাহিদাও বেড়েছে দ্বিগুণ। ১০০০ বর্গফুটের বেশি আয়তনের ফ্ল্যাটের অনুপাত ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে হয়েছে ১১ শতাংশ। গত বছর ৩,০০৯টি রেজিস্ট্রেশন হলেও এবছর তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪,৩৮১টিতে।

  • ছোট ফ্ল্যাট (৫০০ বর্গফুট বা তার কম): এর বিপরীতে সবথেকে বড় ধাক্কা খেয়েছে ছোট আকৃতির ফ্ল্যাটগুলি। ৫০০ বর্গফুটের কম আয়তনের ফ্ল্যাটের রেজিস্ট্রেশন একধাক্কায় ৪২ শতাংশ কমে নেমে এসেছে ১২,৯২৬টিতে।

এলাকাভিত্তিক চিত্র কেমন?

সেপ্টেম্বর মাসের বিকিকিনির হিসাব বলছে, ফ্ল্যাট রেজিস্ট্রির তালিকায় শীর্ষে রয়েছে উত্তর কলকাতা। এককভাবে মোট রেজিস্ট্রেশনের ৩৬ শতাংশই হয়েছে এই অঞ্চলে। ঠিক পরেই রয়েছে দক্ষিণ কলকাতা, যেখানে রেজিস্ট্রেশনের হার ৩১ শতাংশ। নির্দিষ্ট মাইক্রো-মার্কেট বা পকেটের কথা বললে, রাজারহাটে সবচেয়ে বেশি ৩২০টিরও বেশি (৩৮০টি) ফ্ল্যাটের রেজিস্ট্রি হয়েছে। এর পরেই রয়েছে খড়দা (৩৩৫টি) এবং দমদম (৩০৫টি)। এই গোটা পরিসংখ্যানের মধ্যে নতুন বুকিং করা ফ্ল্যাটের পাশাপাশি রিসেল হওয়া পুরনো আবাসিক ফ্ল্যাটের হিসাবও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।