বাড়িতে হামলার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার ফোনে প্রাণনাশের হুমকি! চরম ক্ষোভে ফুঁসছেন বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য

বাথিতে হামলার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার সরাসরি ফোনে প্রাণনাশের হুমকি পাওয়ার বিস্ফোরক অভিযোগ তুললেন বিশিষ্ট বামপন্থী আইনজীবী তথা সিপিআইএম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। তাঁর সুনির্দিষ্ট দাবি, গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে সুকান্ত মণ্ডল নামের এক ব্যক্তি ফোন করে তাঁকে এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছেন। শুধু তাই নয়, তাঁর প্রয়াত মাকে উদ্দেশ্য করেও অত্যন্ত কুরুচিকর ও অবমাননাকর মন্তব্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন তিনি। এই গুরুতর ঘটনার পর রাজ্যের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং তাঁর নিজস্ব নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে বড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি হয়েছে। এখন এই বিষয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী ঠিক কী ধরনের প্রশাসনিক পদক্ষেপ গ্রহণ করেন, সেদিকেই সজাগ দৃষ্টি রেখেছেন বিকাশবাবু।

প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, গত বৃহস্পতিবার রাত ১০টা বেজে ৪৭ মিনিট নাগাদ বিকাশবাবুর ব্যক্তিগত ফোনে একটি অজ্ঞাত পরিচয় নম্বর থেকে কল আসে। ফোনের অপর প্রান্তে থাকা ব্যক্তি নিজেকে সুকান্ত মণ্ডল নামে পরিচয় দিয়েছিল বলে জানান তিনি। বিকাশবাবুর অভিযোগ, ওই ফোনকলের মাধ্যমেই তাঁকে এবং তাঁর পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সুপরিকল্পিতভাবে খুনের হুমকি দেওয়া হয়। এখানেই শেষ নয়, তাঁর প্রয়াত মা সম্পর্কেও চরম অশালীন ইঙ্গিত করা হয়, যা অত্যন্ত নিন্দনীয়। এই ঘটনার তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রবীণ এই আইনজীবী স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, এ ধরনের কুরুচিকর মানসিকতা কিছু মৌলবাদী শক্তির সহজাত প্রবৃত্তি।

ঘটনার তীব্র নিন্দা করে বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেছেন, “বৃহস্পতিবার রাত ১০টা বেজে ৪৭ মিনিট নাগাদ, সুকান্ত মণ্ডল নামে এক ব্যক্তি ফোন করে আমাকে ও আমার পরিবারের সদস্যদের খুনের হুমকি দিয়েছেন। এখানেই থেমে না থেকে আমার প্রয়াত মা-র সম্বন্ধেও অত্যন্ত কুৎসিত ইঙ্গিত করা হয়েছে। এই ধরনের কুৎসিত ইঙ্গিত এক শ্রেণির মৌলবাদীদের সহজাত স্বভাব। এখন দেখার বিষয় হলো, রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী তথা পুলিশমন্ত্রী এই গুরুতর অভিযোগের ভিত্তিতে কী ধরনের আইনি ব্যবস্থা নেন। আমি সেই প্রশাসনিক পদক্ষেপের অপেক্ষায় রইলাম। যদি প্রয়োজন হয়, তবে আমি আইনানুগভাবে আমার আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করতে একবিন্দুও পিছপা হব না।”

উল্লেখ্য, এর আগেও বাম নেতা বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্যের বাসভবনে হামলার অভিযোগ ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে চরম শোরগোল ও বিতর্কের ঝড় উঠেছিল। সেই আগের হামলার ক্ষত ও রেশ পুরোপুরি কাটতে না কাটতেই এবার রাতের অন্ধকারে ফোনে সরাসরি প্রাণনাশের হুমকির মতো গুরুতর অভিযোগ সামনে আসায় রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। বারবার এই ধরনের টার্গেটেড হুমকি কেন আসছে এবং একজন বিশিষ্ট আইনজীবীর নিরাপত্তা কোথায় দাঁড়িয়ে রয়েছে, তা নিয়ে ইতিমধ্যেই নানা মহলে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।