পুজোর শপিংয়ে আলমারি কি উপচে পড়ছে? এই ৫টি জাদুকরি ট্রিক্সে নিমেষে দ্বিগুণ করুন ঘরের স্পেস!

পুজোর শপিংয়ে আলমারি একেবারে উপচে পড়েছে? আলমারি খুললেই কি জামাকাপড় আপনার ঘাড়ের ওপর এসে পড়ছে? অর্ধেক নতুন জামা ঢোকানোর জায়গা না পেয়ে অনেকেই সেগুলোকে খাটের ওপর বা বাইরে স্তূপ করে রাখেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এত জিনিস রাখার জন্য কি সত্যিই ঘরের বা আলমারির জায়গা কম? আসল কথা হলো, জায়গা কম নয়, বরং জামাকাপড় গোছানোর ভুল পদ্ধতির জন্যই এই বিপত্তি বাঁধে। একটু বুদ্ধি খাটিয়ে নিয়ম মেনে আলমারি গুছিয়ে নিলেই ম্যাজিকের মতো অনেকটা অতিরিক্ত জায়গা বেরিয়ে আসবে।

গোছগাছ শুরু করার প্রথম এবং প্রধান নিয়ম হলো আলমারি থেকে সমস্ত জিনিস একঝটকায় বিছানায় নামিয়ে ফেলা। এরপর ঠান্ডা মাথায় ভেবে দেখুন, কোন পোশাকগুলো আপনার সারা বছর কাজে লাগে আর কোনগুলো কেবল বিশেষ দিনে পরার জন্য তোলা থাকে। যে সমস্ত জামাকাপড় আর একেবারেই পরা হয় না বা ছোট হয়ে গেছে, সেগুলো অবিলম্বে আলাদা করে দান করে দিন বা সরিয়ে ফেলুন। অপ্রয়োজনীয় জিনিসগুলো বাদ দিলেই দেখবেন আলমারির অর্ধেকের বেশি জায়গা এমনিতেই ফাঁকা হয়ে গেছে। এরপর লোকাল ট্রেনের ভিড়ের মতো আলমারিতে কাপড়চোপড় জোর করে গুঁজে রাখবেন না। কাপড়ের মাঝে সামান্য হাওয়া চলাচলের সুযোগ রাখলে পোশাক সতেজ থাকে এবং ইস্ত্রিও নষ্ট হয় না।

পাশাপাশি, প্রতিটি পোশাকে হ্যাঙ্গার লাগানোর কোনো প্রয়োজন নেই। কেবল সিল্কের শাড়ি, ফরমাল ব্লেজার বা ইস্ত্রি করা শার্টের ক্ষেত্রেই কেবল হ্যাঙ্গার ব্যবহার করা বুদ্ধিমানের কাজ। বাকি সুতির কুর্তি, জিন্স বা ক্যাজুয়াল টি-শার্ট সুন্দর ও নিখুঁতভাবে ভাঁজ করে রাখলে অনেক বেশি জায়গা বাঁচানো সম্ভব। বিশেষ করে পোশাকের ওপর পোশাক আড়াআড়িভাবে না রেখে লম্বালম্বি বা খাড়া করে রোল করে ভাঁজ করুন। এতে একনজরে সমস্ত জামা দেখতে পাওয়া যায় এবং পছন্দের পোশাক খুঁজতে গিয়ে আলমারি লণ্ডভণ্ড করতে হয় না।

এছাড়া ঋতু পরিবর্তনের কথা মাথায় রেখে গোছগাছে পরিবর্তন আনুন। পুজোর ঠিক পরপরই শীতের আমেজ শুরু হয়ে যাবে, তাই ভারী জ্যাকেট বা উলের সোয়েটারগুলো এখন আলমারির মূল জায়গা থেকে সরিয়ে আলাদা করে রাখুন। আর উৎসবের ভারী কাজের শাড়ি বা লেহেঙ্গার মতো দামি পোশাকগুলো প্রতিদিনের ব্যবহারের ভিড়ে না রেখে সুন্দর সুতির বাক্সে ভরে আলমারির একেবারে ওপরের বা নিচের তাকে তুলে রাখুন। এর সঙ্গে অবশ্যই ন্যাপথলিন বা সিলিকা জেল ব্যবহার করুন, এতে পোশাক দীর্ঘদিন ভালো থাকবে। একটু সুশৃঙ্খলভাবে আলমারি সাজালেই কাপড়ের পাহাড়ের ঝক্কি থেকে চিরতরে মুক্তি মিলবে।