“দিল্লিকে যুদ্ধক্ষেত্র বানিয়েছে সরকার!” কনট প্লেস কাণ্ড ও ব্যবসায়িক লোকসান নিয়ে মুখ খুললেন সিজেপি প্রধান

নবরাত্রি ও দীপাবলির ঠিক প্রাক্কালে উৎসবের মরশুমে দিল্লির একাধিক বাজারে চরম অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। একদিকে যখন উৎসবের আলোয় সেজে উঠেছে চারপাশ, ঠিক তখনই ককরোচ জনতা পার্টি (CJP)-র ধারাবাহিক বিক্ষোভ ও প্রতিবাদের জেরে রাজধানীর বহু দোকানপাট বন্ধ থাকার অভিযোগ তুলেছেন ব্যবসায়ীরা। দিল্লির অভিজাত খান মার্কেট ব্যবসায়ী সংগঠনের তরফে সম্প্রতি তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জানানো হয়েছে যে, সিজেপির এই আন্দোলনের কারণে প্রতিটি দোকানে দৈনিক প্রায় দেড় লক্ষ টাকার মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে ব্যবসায়ীদের। তাঁদের সাফ অভিযোগ, যেভাবে একের পর এক বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হচ্ছে, তাতে ব্যবসার ভরা মরশুমে বড় ধরনের আর্থিক বিপর্যয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ব্যবসায়ীদের এই বিপুল লোকসানের অভিযোগ সামনে আসার পরেই এবার পুরো বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলেছেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে।

ব্যবসায়ীদের ক্ষোভের মুখে দাঁড়িয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় একটি দীর্ঘ ও কড়া বার্তা প্রকাশ করেছেন অভিজিৎ দীপকে। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন যে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের কারণে কখনোই ব্যবসার ক্ষতি হতে পারে না। তাঁর মতে, আসল সমস্যা তখনই তৈরি হয় যখন সরকার নিজে থেকে একটি গোটা শহরকে সম্পূর্ণ বন্ধ করে দেয়, ইন্টারনেট পরিষেবা স্থগিত রাখে, সাধারণ নাগরিকদের স্বাভাবিক চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে এবং গোটা শহরকে একটি যুদ্ধক্ষেত্রে পরিণত করার সিদ্ধান্ত নেয়। নিজের দলের অবস্থান স্পষ্ট করে সিজেপি প্রধান লিখেছেন যে, প্রতিষ্ঠার দিন থেকেই ককরোচ জনতা পার্টি মহাত্মা গান্ধীর দেখানো শান্তি ও অহিংসার পথ কঠোরভাবে অনুসরণ করে আসছে এবং তাঁরা সেই আদর্শ ও প্রতিশ্রুতিতে এখনও সম্পূর্ণ অটল রয়েছেন। অতীতে মুম্বই, পুণে, জয়পুর, লখনউ, বেঙ্গালুরু এবং নাগপুরের মতো একাধিক বড় শহরে তাঁরা শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের সফল আয়োজন করেছেন বলে দাবি করেছেন তিনি।

পাশাপাশি, জয়পুরে প্রতিবাদের সময় তাঁর ওপর হওয়া ব্যক্তিগত শারীরিক আক্রমণের প্রসঙ্গও টেনে এনেছেন অভিজিৎ। তিনি জানান, সেই পরিস্থিতিতেও তিনি বা তাঁর দলের কর্মীরা কোনো ধরনের পাল্টা হিংসার পথ বেছে নেননি, কারণ হিংসার জবাব হিংসা দিয়ে দেওয়া তাঁদের মৌলিক বিশ্বাসের সম্পূর্ণ পরিপন্থী। শারীরিক শক্তির প্রয়োগের পরিবর্তে তাঁরা সবসময় ড. বি. আর. আম্বেদকরের তৈরি পবিত্র সংবিধানের প্রদত্ত গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে ভালোবাসেন। তাঁদের সমস্ত শক্তি আসে সাংবিধানিক মূল্যবোধের প্রতি অবিচল অঙ্গীকার থেকেই, এবং কোনো ধরনের প্ররোচনা বা উস্কানিই তাঁদের সেই পথ থেকে সরাতে পারবে না বলে স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।

এদিকে, এই রাজনৈতিক ও সামাজিক উত্তেজনার মধ্যেই শুক্রবার বিকেল ৫টায় দিল্লির অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক কেন্দ্র কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কে ‘তিরঙ্গা লেহরাও’ বা জাতীয় পতাকা উত্তোলনের এক বিশেষ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে সিজেপি। সম্প্রতি ধৃত দলীয় কর্মীদের অবিলম্বে মুক্তি এবং জাতীয় পতাকা তোলা যে কোনো অপরাধ নয়, সেই জোরালো বার্তা দিতেই এই কর্মসূচি পালিত হচ্ছে। তবে এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি না হয়, তার জন্য প্রশাসনিক পদক্ষেপ হিসেবে শুক্রবার ও শনিবার কনট প্লেসের সেন্ট্রাল পার্কটি সাধারণ মানুষের প্রবেশের জন্য সম্পূর্ণ বন্ধ রাখার নির্দেশ জারি করেছে এনডিএমসি (NDMC)। সবমিলিয়ে, উৎসবের মরশুমে সিজেপির আন্দোলন, ব্যবসায়ীদের আর্থিক ক্ষতি এবং প্রশাসনের কড়া নিরাপত্তার বেড়াজালে রাজধানী দিল্লির রাজনৈতিক পারদ বর্তমানে চরমে উঠেছে।