এক ধাক্কায় পেট্রলের রফতানি শুল্ক বাড়ল ৫ গুণ! ডিজেলের দাম কমতেই বড় ঘোষণা কেন্দ্রের

পেট্রল ও ডিজেল রফতানির শুল্কে এক বড়সড় ও গুরুত্বপূর্ণ বদল আনল কেন্দ্রীয় সরকার। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দামের লাগাতার ওঠানামার কথা মাথায় রেখে এই সংশোধিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, দেশের বাইরে পেট্রল রফতানিতে শুল্ক এক ধাক্কায় পাঁচ গুণ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। অন্যদিকে, স্বস্তি দিয়ে ডিজেল রফতানির ক্ষেত্রে শুল্ক অনেকটাই কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। ১৬ অক্টোবর থেকে আগামী ১৫ দিনের জন্য এই নতুন রফতানি শুল্কের নিয়ম আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়েছে। তবে স্বস্তির বিষয় হলো, বিমান জ্বালানি বা এটিএফের (ATF) রফতানি শুল্কে কোনো ধরনের পরিবর্তন আনা হয়নি।
কেন্দ্রের নতুন এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, পেট্রল রফতানির ক্ষেত্রে প্রতি লিটারে বিশেষ অতিরিক্ত আবগারি শুল্ক (SAED) ৫০ পয়সা থেকে একলাফে বাড়িয়ে আড়াই টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ, সোজা কথায় পেট্রল রফতানিতে প্রতি লিটারে শুল্ক বেড়েছে ২ টাকা। এর বিপরীতে, ডিজেল রফতানিকারীদের জন্য বড় স্বস্তি দিয়ে প্রতি লিটারে শুল্ক ১৬ টাকা থেকে কমিয়ে সোজা ৮ টাকা ৫০ পয়সা করা হয়েছে। ফলে ডিজেল রফতানির ক্ষেত্রে প্রতি লিটারে এখন থেকে ৭ টাকা ৫০ পয়সা কম শুল্ক দিতে হবে। অর্থাৎ, পেট্রলের রফতানিতে কেন্দ্রের করের বোঝা বেশ কিছুটা বাড়লেও ডিজেলের ক্ষেত্রে তা একলাফে অর্ধেকে নেমে এল। আগামী এক পাক্ষিক সময়ের জন্য এই নতুন শুল্কের হার বলবৎ থাকবে। পরবর্তী সময়ে আন্তর্জাতিক বাজারের সার্বিক পরিস্থিতি পুঙ্খানুপুঙ্খ পর্যালোচনা করে ফের নতুন সিদ্ধান্ত নেবে সরকার।
এদিকে, পেট্রল ও ডিজেলের শুল্কে বড়সড় রদবদল আনা হলেও বিমান চালানোর জ্বালানি তথা অ্যাভিয়েশন টারবাইন ফুয়েল (ATF)-এর রফতানি শুল্ক সম্পূর্ণ অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। এই জ্বালানি রফতানির ক্ষেত্রে আগের মতো প্রতি লিটারে ১০ টাকা ৫০ পয়সা শুল্কই বহাল রাখা হয়েছে, যার পুরোটাই এসএইডি হিসাবে আদায় করা হয়। পাশাপাশি, পেট্রল, ডিজেল ও এটিএফ—এই তিন ধরনের জ্বালানি রফতানির ক্ষেত্রেই রোড অ্যান্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার সেস (RIC) শূন্য রাখা হয়েছে, অর্থাৎ এই খাতে নতুন করে কোনো বাড়তি করের বোঝা চাপানো হয়নি।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ১ অক্টোবর শেষবার জ্বালানি রফতানির শুল্কের হার সংশোধন করেছিল কেন্দ্র। তার ঠিক পনেরো দিন পর ১৬ অক্টোবর থেকে এই নতুন পরিবর্তিত হার কার্যকর করা হলো। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যের পরিবর্তনের সঙ্গে নিখুঁত তাল মেলাতেই প্রতি ১৫ দিন অন্তর এই রফতানি শুল্ক পর্যালোচনা করে থাকে কেন্দ্র। দেশের বাজারে জ্বালানির পর্যাপ্ত জোগান ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতেই এই বিশেষ শুল্ক ব্যবস্থার প্রণয়ন করা হয়েছিল।