৩ কোটির টুইন টাওয়ার থিমে সাজছে মুঙ্গেরের দুর্গা পুজো! মালয়েশিয়ার রাজপ্রাসাদের আদলে তৈরি মণ্ডপ দেখতে উপচে পড়ছে ভিড়

মুঙ্গের জেলার কল্যাণপুরের ঐতিহাসিক ‘বড় দুর্গা महारানী’ পুজো মানেই প্রতিবছর এক নতুন চমক এবং চোখ ধাঁধানো আড়ম্বর। গত ৩৫০ বছরেরও বেশি পুরনো এই ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপূজা কেবল মুঙ্গেরেই নয়, বরং ভাগलपुर, বাঁকা, খাগাড়িয়া, জামুই, লখিসরাই, বেগুসরাই এবং পূর্ণিয়াসহ গোটা বিহারের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের কাছে এক অদম্য আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দু। চলতি বছরে এই পুজোর বাজেট এবং থিম সমস্ত পূর্বের রেকর্ড ভেঙে এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে, যা দেখতে দূরদূরান্ত থেকে হাজার হাজার ভক্ত ও দর্শনার্থীরা ভিড় জমাচ্ছেন।
২০২১ সালে মাত্র ৮০ লক্ষ টাকা ব্যয়ে রাজস্থানের জয়পুরের বিখ্যাত ‘হাওয়া মহল’ থিমের হাত ধরে যে भव्य সজ্জার যাত্রা শুরু হয়েছিল, তা এবার ২০২৬ সালে এসে পৌঁছেছে প্রায় ৩ কোটি টাকার বিশাল বাজেটে। বিগত ছয় বছর ধরে প্রতিটি পুজোয় নতুন কিছু উপহার দিতে গিয়ে এই কমিটি বিশ্বমানের স্থাপত্যের নিদর্শন ফুটিয়ে তুলেছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০২২ সালে ১ কোটি টাকা ব্যয়ে মুম্বাইয়ের ঐতিহাসিক তাজ হোটেল, ২০২৩ সালে দেড় কোটি টাকা ব্যয়ে তামিলনাড়ুর বিখ্যাত মীনাক্ষী আম্মান মন্দির, ২০২৪ সালে ২ কোটি টাকা ব্যয়ে দুবাইয়ের বিশ্ববিখ্যাত বুর্জ খলিফা এবং ২০২৫ সালে আড়াই কোটি টাকা ব্যয়ে ব্যাংককের বিখ্যাত অরুণ মন্দিরের আকর্ষক প্রতিকৃতি।
চলতি বছর অর্থাৎ ২০২৬ সালে এই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরের বিখ্যাত ‘পেট্রোনাস টুইন টাওয়ার’ (Petronas Twin Tower)-এর আদলে প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি সুদৃশ্য ও সুবিশাল প্যান্ডেল তৈরি করা হচ্ছে। এই বিশাল টাওয়ারটি নিখুঁতভাবে ফুটিয়ে তুলতে পশ্চিমবঙ্গ ও ঝাড়খণ্ড থেকে আসা দক্ষ কারিগররা দিনরাত পরিশ্রম করে চলেছেন। পাশাপাশি, দিল্লি ও উত্তরপ্রদেশের শিল্পীরা কাচের চোখ ধাঁধানো কারুকার্য এবং দৃষ্টিনন্দন নক্শার কাজ অত্যন্ত নিপুণভাবে সম্পন্ন করছেন। রাস্তার মোড় থেকে শুরু করে মায়ের দরবার পর্যন্ত আলোকসজ্জা এবং কাচের নিখুঁত কাজ সকলের মন কেড়ে নিচ্ছে।
প্যান্ডেলে প্রবেশপথেই একটি কৃত্রিম জলপ্রপাতের মনোরম দৃশ্য ভক্তদের উষ্ণ অভ্যর্থনা জানায়। এছাড়া ভিক্টোরিয়া হাউসের আদলে তৈরি একটি বিশেষ অংশে ভগবান শিব বা দেবাদিদেব মহাদেবের দিব্য দর্শন লাভের ব্যবস্থাও রয়েছে। আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় প্যান্ডেলের অন্দরে লেজার শো এবং চোখ জুড়ানো আলোকসজ্জার বিশেষ বন্দোবস্ত করা হয়েছে। বিশাল এই সমাগমে আগত লক্ষাধিক ভক্তের সুরক্ষা ও ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য প্যান্ডেল চত্বরে চারটি আলাদা নिकास দ্বার বা গেটের ব্যবস্থা করা হয়েছে, যেখানে স্থানীয় ইউথ ক্লাব ও স্বেচ্ছাসেবকরা অত্যন্ত তৎপরতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন। ধর্মীয় ভাবগম্ভীর পরিবেশের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ভোজপুরী সুপারস্টার পবন সিং, বিখ্যাত গায়িকা কল্পনা পটওয়ারী এবং লোকশিল্পী ভরত শর্মার মতো তারকারা তাঁদের সুরের জাদুতে সারা রাত মাতিয়ে রাখবেন।