চুল পড়া বন্ধ করতে চান? আজই ছাড়ুন এই ৩টি ভুল অভ্যাস!

চুল মানুষের সৌন্দর্যের এক অন্যতম প্রধান অঙ্গ। কিন্তু বর্তমানের অনিয়মিত জীবনযাত্রা, দূষণ এবং ভুল জীবনযাপনের কারণে চুল পড়ার সমস্যা এখন ঘরে ঘরে। পার্লারে গিয়ে হাজার হাজার টাকা খরচ কিংবা নামী-দামী প্রসাধনী ব্যবহার করেও অনেকেই কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পান না। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মূল সমস্যাটি লুকিয়ে রয়েছে আমাদের দৈনন্দিন কিছু ছোটখাটো অভ্যাসের মধ্যে। সেগুলি পরিবর্তন না করলে কোনো তেল বা শ্যাম্পুতেই চুল বাঁচানো সম্ভব নয়।

প্রথমত, অপর্যাপ্ত জলপান এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস চুলের স্বাস্থ্যের প্রধান শত্রু। প্রতিদিনের ব্যস্ততায় অনেকেই পর্যাপ্ত পরিমাণে জল পান করেন না, যার ফলে স্ক্যাল্প ডিহাইড্রেটেড হয়ে যায় এবং চুলের গোড়া দুর্বল হয়ে পড়ে। পাশাপাশি ফাস্টফুড বা প্রক্রিয়াজাত খাবার খাওয়ার ফলে শরীর প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদান যেমন বায়োটিন, আয়রন এবং প্রোটিন থেকে বঞ্চিত হয়।

দ্বিতীয়ত, চুলে অতিরিক্ত রাসায়নিক ও ভুল প্রসাধনী ব্যবহার করা। চুল সুন্দর করার লোভে ঘন ঘন হেয়ার ডাই, স্ট্রেইটনিং কিংবা পার্মিংয়ের মতো হিট ট্রিটমেন্ট করান অনেকেই। এর ফলে চুলের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা হারিয়ে যায় এবং চুল ভেঙে যায়। এছাড়া ভেজা চুল আঁচড়ানো বা তোয়ালে দিয়ে খুব জোরে ঘষে মোছার অভ্যাসও চুলের মারাত্মক ক্ষতি করে।

তৃতীয়ত, মানসিক চাপ এবং অপর্যাপ্ত ঘুম। বর্তমান যুগে কাজের চাপ বা পারিবারিক ব্যস্ততার কারণে পর্যাপ্ত ঘুম হয় না। এর ফলে শরীরে হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হয় এবং ‘টেলোজেন ইভ্লুভিয়াম’ নামক অবস্থার সৃষ্টি হয়, যার জেরে একসঙ্গে প্রচুর পরিমাণে চুল ঝরতে শুরু করে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, চুল ভালো রাখতে বাইরের প্রসাধনীর ওপর নির্ভরতা কমান। প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমাণে জল ও পুষ্টিকর খাবার খান, মানসিক চাপমুক্ত থাকুন এবং চুলে প্রাকৃতিক উপাদানের ব্যবহার বাড়ান। এই ছোট ছোট অভ্যাসের পরিবর্তনই আপনার চুলকে করে তুলবে ঘন, লম্বা এবং রেশমি।