লাদাখের ২৮টি জায়গার নতুন নামকরণ! চিনের তীব্র আপত্তি ফুৎকারে উড়িয়ে দিল ভারত, সাফ বার্তা দিল্লির

লাদাখের ২৮টি গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর অঞ্চলের নির্দিষ্ট সরকারি নাম ঘোষণা করাকে কেন্দ্র করে ফের চরমে উঠেছে ভারত-চিন কূটনৈতিক সংঘাত। ভারতের এই সার্বভৌম পদক্ষেপের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে বেজিং একে ‘বেআইনি’ বলে দাগিয়ে দিলেও, ড্রাগনের সেই আপত্তি সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে নয়াদিল্লি। বিদেশ মন্ত্রকের দ্ব্যর্থহীন বার্তা— “বাস্তব অস্বীকার করলেই সত্যি বদলে যায় না।”
গত সপ্তাহে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের পক্ষ থেকে লাদাখের ২৮টি স্থানের নির্দিষ্ট সরকারি নাম ঘোষণা করা হয়। প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা বা এলএসি (LAC) বরাবর অবস্থিত গোগরা ও হট স্প্রিংয়ের মতো সংঘাতের জায়গাগুলিও রয়েছে এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত। স্পর্শকাতর সীমান্ত অঞ্চলের পরিচিতি সুনির্দিষ্ট করা এবং সরকারি মানচিত্র তৈরির প্রক্রিয়াকে পোক্ত করতেই এই উদ্যোগ নিয়েছে ভারত।
কিন্তু ভারতের এই সিদ্ধান্তে স্বাভাবিকভাবেই ক্ষুব্ধ হয়েছে বেজিং। চিনের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র মাও নিং সম্প্রতি এক সাংবাদিক বৈঠকে দাবি করেন, ভারত একতরফাভাবে ‘তথাকথিত লাদাখ কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল’ তৈরি করেছে এবং চিন তা কখনও স্বীকৃতি দেয়নি। লাদাখ সীমান্তের পশ্চিমাংশের ওই এলাকাগুলি চিনের অন্তর্ভুক্ত বলে দাবি করে বেইজিং জানায়, ভারতের এই নামকরণ সম্পূর্ণ বেআইনি এবং এর কোনও আইনি বৈধতা নেই।
চিনের এই আগ্রাসী মন্তব্যের পালটা হিসেবে ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, লাদাখ ভারতের একটি অবিচ্ছেদ্য ও অভিন্ন অঙ্গ। চিনের তরফে যতই অস্বীকার বা অসন্তোষ প্রকাশ করা হোক না কেন, এই প্রতিষ্ঠিত ও ঐতিহাসিক সত্য কোনোভাবেই বদলানো সম্ভব নয়। ভারতের অভ্যন্তরীণ ভৌগোলিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে, যা অন্য কোনো দেশের আপত্তিতে নড়চড় হবে না বলেই স্পষ্ট করে দিয়েছে নয়াদিল্লি।