মা হওয়ার পর হু হু করে বাড়ছে ওজন? জীবনযাত্রার এই ৭ বদলই ডেকে আনছে বিপদ!

মা হওয়ার পর প্রতিটি নারীর শরীর ও মনস্তত্ত্বে এক বিশাল পরিবর্তন আসে। মাতৃত্বের আনন্দ উদযাপনের পাশাপাশি অনেক নতুন মায়ের কাছেই একটি বড় উদ্বেগের বিষয় হয়ে দাঁড়ায় শরীরের অতিরিক্ত ওজন বৃদ্ধি বা ‘পোস্টপার্টাম ওয়েট গেইন’। সমাজের অনেকেই এটিকে স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে এড়িয়ে গেলেও, দীর্ঘমেয়াদে এটি শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। চিকিৎসকদের মতে, কেবল গর্ভাবস্থার ধকলই নয়, বরং সন্তান জন্ম দেওয়ার পরের জীবনযাত্রার বেশ কিছু সূক্ষ্ম পরিবর্তনই এই ওজন বৃদ্ধির আসল কারণ।
প্রথমত, পর্যাপ্ত ঘুমের অভাব ওজন বৃদ্ধির অন্যতম প্রধান অনুঘটক। নবজাতকের লালন-পালন করতে গিয়ে মায়েদের নিয়মিত ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। ঘুম কম হলে শরীরে ‘কর্টিসল’ নামক স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা বেড়ে যায় এবং মেটাবলিজম ধীর হয়ে যায়, যা ফ্যাট জমতে সাহায্য করে। দ্বিতীয়ত, সময়ের অভাবে পুষ্টিকর ও সুষম খাবার খাওয়ার সুযোগ হয় না বললেই চলে। ব্যস্ততার মাঝে অনেক মায়েদেরই ফাস্ট ফুড বা সহজে প্রস্তুতযোগ্য প্রক্রিয়াজাত খাবারের উপর নির্ভর করতে হয়, যা ক্যালোরির পরিমাণ বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
তৃতীয়ত, শারীরিক পরিশ্রম ও এক্সারসাইজের অভাব। সারাদিন বাচ্চার দেখভাল করতে গিয়ে মায়েরা নিজেদের জন্য একটুও সময় পান না। ফলে শরীরচর্চা তো দূরের কথা, সাধারণ হাঁটাচলার সুযোগও অনেক সময় কমে যায়। চতুর্থত, হরমোনের ভারসাম্যহীনতা। প্রসবের পর শরীরে ইস্ট্রোজেন এবং প্রজেস্টেরনের মাত্রা নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হয়, যা মেদ জমার প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করে।
পঞ্চম কারণটি হলো মানসিক চাপ এবং প্রসবোত্তর বিষণ্ণতা বা ‘পোস্টপার্টাম ডিপ্রেশন’। মানসিক অবসাদ থেকে অনেকেই অতিরিক্ত খাওয়া বা ‘ইমোশনাল ইটিং’-এর শিকার হন। ষষ্ঠত, পর্যাপ্ত জল বা তরল জাতীয় খাবার না খাওয়া। স্তন্যপান করানোর সময় শরীর থেকে প্রচুর জল বেরিয়ে যায়, অথচ পর্যাপ্ত হাইড্রেশনের অভাবে বিপাক ক্রিয়া মন্থর হয়ে পড়ে। পরিশেষে, নিজের শরীরের প্রতি দীর্ঘমেয়াদী অবহেলা। সন্তান এবং পরিবারের দেখভাল করতে গিয়ে মায়েরা নিজেদের স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া বন্ধ করে দেন।
পুষ্টিবিদ ও চিকিৎসকদের পরামর্শ, এই সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে রাতারাতি ডায়েট বা কঠোর ব্যায়ামের প্রয়োজন নেই। বরং দৈনন্দিন রুটিনে সামান্য কিছু পরিবর্তন আনুন। পরিবারের বাকি সদস্যদের সাহায্য নিয়ে অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানোর চেষ্টা করুন, ডায়েটে রাখুন টাটকা ফল, শাকসবজি এবং প্রচুর পরিমাণে জল। নিজের প্রতি যত্নশীল হওয়াই মাতৃত্বের যাত্রাকে আরও সুন্দর ও সুস্থ করে তুলতে পারে।