বাম নেত্রীকে পাশে নিয়ে কোন বড় চাল চাললেন রাহুল? মোদী বিরোধী রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ!

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে সোমবার সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বাধীন প্রতিবাদী মিছিলে এক অন্য রাজনৈতিক সমীকরণ দেখা গেল। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে আয়োজিত এই মিছিলে কংগ্রেসের প্রবীণ নেতাদের পেছনে ফেলে রাহুল গান্ধীর ঠিক পাশেই হাঁটতে দেখা যায় ‘অল ইন্ডিয়া স্টুডেন্টস অ্যাসোসিয়েশন’ (আইসা)-এর সভানেত্রী তথা জেএনইউ-এর গবেষক নেহা বোরাকে। তাঁর সঙ্গে ছিলেন রাহুলের বোন তথা ওয়েনাডের সাংসদ প্রিয়াঙ্কা গান্ধী ভঢরাও। স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠছে, মাস কয়েক ধরে চলা ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি)-র তরুণ-নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের এই পরিচিত মুখকে হঠাৎ কেন এত গুরুত্ব দিলেন কংগ্রেস সাংসদ?

গত জুলাই মাস থেকেই শিক্ষা ব্যবস্থার অনিয়ম ও ‘নিট’ বিতর্ককে কেন্দ্র করে রাজপথে সোচ্চার হয়েছিল সিজেপি এবং বাম ছাত্র সংগঠনগুলি। সেই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ ছিলেন নেহা বোরা। কিন্তু সম্প্রতি ১০ অক্টোবরের প্রতিবাদ কর্মসূচি ও সিজেপি নেতাদের আটকের ঘটনার পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটতে শুরু করে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, রাহুল গান্ধী সচেতনভাবে তরুণ-নেতৃত্বাধীন এই প্রতিবাদ আন্দোলনগুলিকে নিজের বলয়ে টেনে এনে বৃহত্তর বিরোধী পরিসরের প্রধান মুখ হয়ে উঠতে চাইছেন। যেখানে কংগ্রেস ও আম আদমি পার্টির (আপ) মধ্যে নানা বিষয়ে মতপার্থক্য রয়েছে, সেখানে বাম-ঘনিষ্ঠ নেহা বোরাকে নিজের পাশে রেখে রাহুল বিরোধীদের মধ্যে এক প্রকার সেতুবন্ধনের কাজ করতে শুরু করেছেন।

সোমবার সকালে প্রধান বিচারপতির সঙ্গে দেখা করার আর্জি খারিজ হওয়ার পর রাহুল গান্ধী যখন নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে একরোখা লড়াইয়ের বার্তা দেন, তখন নেহার উপস্থিতি সেই রাজনৈতিক বার্তাকে আরও জোরালো করে তোলে। এই কৌশলের মাধ্যমে রাহুল শুধু নিজের আন্দোলনকে গণআন্দোলনে রূপ দিতে চাইছেন না, বরং মোদী সরকারের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ময়দানে একক নেতৃত্ব হিসেবে নিজের অবস্থানকে পোক্ত করছেন।