‘ভোট চুরি’-র চাঞ্চল্যকর অভিযোগ নিয়ে শীর্ষ আদালতে ইন্ডিয়া জোট! ১৪টি মারাত্মক ভুলে প্রশ্নের মুখে বিরোধী শিবির!

নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে ‘ভোট চুরি’ ও ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়ায় কারচুপির মারাত্মক অভিযোগ তুলে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীসহ ‘ইন্ডিয়া’ জোটের শীর্ষ নেতারা। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবি নিয়ে যখন দিল্লিতে তোলপাড় সৃষ্টি করেছেন বিরোধী নেতারা, ঠিক তখনই শীর্ষ আদালতে গিয়ে চরম আইনি অস্বস্তির মুখে পড়ল পুরো বিরোধী শিবির। সুপ্রিম কোর্টে দায়ের করা বিরোধীদের যৌথ পিটিশনে একাধিক ত্রুটি চিহ্নিত করেছে আদালত রেজিস্ট্রি।

সুপ্রিম কোর্টের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খাড়্গে, অখিলেশ যাদব, তেজস্বী যাদব, সৌগত রায় ও সঞ্জয় রাউতদের এই যৌথ আবেদনে মোট ১৪টি মারাত্মক ভুল বা ত্রুটি ধরা পড়েছে। সবচেয়ে অবিশ্বাস্য বিষয় হলো, মামলা দায়েরের কোর্ট ফি বাবদ নির্ধারিত অর্থের চেয়ে ২২০ টাকা কম জমা দেওয়া হয়েছে! এছাড়া ৯ জন আবেদনকারীর প্রয়োজনীয় অনুমোদনপত্র বা ওকালতনামা জমা পড়েনি। এমনকী কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়্গের পরিচয়পত্রের ফটোকপিও স্পষ্ট নয় বলে জানানো হয়েছে। আবেদনে অতিরিক্ত ছোট হরফ ব্যবহার, রঙিন কপির অনুপস্থিতি, অস্পষ্ট লেখা এবং পৃষ্ঠাসংఖ్యায় অমিলের মতো একাধিক সাধারণ ভুল ধরেছে সুপ্রিম কোর্ট।

এর আগে সোমবার দিল্লিতে নির্বাচন কমিশন অভিমুখে বিশাল মিছিল বের করেন বিরোধী নেতারা। তাঁরা সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্তের সঙ্গে দেখা করে স্মারকলিপি জমা দেওয়ার চেষ্টা করলেও, বিষয়টি বিচারাধীন থাকায় প্রধান বিচারপতি সেই সাক্ষাৎ প্রত্যাখ্যান করেন। যদিও তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন যে আদালতের দরজা সকলের জন্যই উন্মুক্ত। ‘রাহুল গান্ধী বনাম ভারতের নির্বাচন কমিশন’ নামে নথিভুক্ত এই মামলায় মোট ১০টি দাবি জানানো হয়েছিল, যার মধ্যে স্বাধীন অডিট কমিটি গঠন ও এসআইআর স্থগিতের দাবি অন্যতম। তবে নথির এই ১৪টি ভুল সংশোধন না করা পর্যন্ত সুপ্রিম কোর্টে এই হাই-ভোল্টেজ মামলার শুনানি স্থগিত থাকছে।