নিট-ইউজি ২০২৬ প্রশ্ন ফাঁস কাণ্ডে বড় মোড়! এনটিএ-র বিরুদ্ধে চূড়ান্ত তদন্ত শেষ করে চাঞ্চল্যকর তথ্য আনল সিবিআই!

দেশজুড়ে আলোড়ন সৃষ্টিকারী ন্যাশনাল এলিজিবিলিজ কাম এন্ট্রান্স টেস্ট-আন্ডারগ্র্যাজুয়েট (NEET-UG) ২০২৬ এর প্রশ্নপত্র ফাঁস মামলার তদন্তে বড় আপডেট সামনে এল। বুধবার সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (CBI) দিল্লির একটি বিশেষ আদালতে এই মামলার একটি সप्लीমেন্টারি বা অতিরিক্ত চার্জশিট দাখিল করেছে। এর মাধ্যমেই বহুল আলোচিত এই প্রশ্ন ফাঁস মামলার তদন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে সম্পূর্ণ হয়েছে বলে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার তরফ থেকে জানানো হয়েছে। আদালতে জমা দেওয়া এই সর্বশেষ চার্জশিটে নতুন করে আরও এক জন বেসরকারি ব্যক্তির নাম অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এর আগে চলতি বছরের ২৮ জুলাই দাখিল করা প্রথম চার্জশিটে মোট ১৩ জনের নাম ছিল, যার মধ্যে ন্যাশনাল টেস্টিং এজেন্সি (NTA) কর্তৃক নিয়োজিত তিনজন বিষয় বিশেষজ্ঞ, একাধিক মধ্যস্থতাকারী এবং কোচিং সেন্টারের প্রতিনিধিরা অন্তর্ভুক্ত ছিলেন।

তদন্তকারী সংস্থার এক দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, সিবিআইয়ের এই দীর্ঘ ও পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তে এনটিএ বা অন্য কোনো সরকারি দপ্তরের কোনো কর্মকর্তার সরাসরি অপরাধমূলক সম্পৃক্ততা পাওয়া যায়নি। স্মরণ করা যেতে পারে, গত ১২ মে এনটিএ আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২৬ সালের নিট পরীক্ষা বাতিলের ঘোষণা করেছিল। মূলত গত ৩ মে অনুষ্ঠিত নিট পরীক্ষার ঠিক এক সপ্তাহ বাদে এই কেলেঙ্কারির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। তদন্তে দেখা যায়, বিভিন্ন বিষয় বিশেষজ্ঞ ও শিক্ষকদের পূর্ববর্তী ট্রেন্ডের ভিত্তিতে তৈরি একটি ‘গেস পেপার’-এর অন্তত ১২০টি প্রশ্ন আসল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে আশ্চর্যজনকভাবে হুবহু মিলে গিয়েছিল। এই নজিরবিহীন ঘটনার জেরে দেশের সংসদ ভবনে চরম হাঙ্গামা ও রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়। ‘ককরোচ জনতা পার্টির’ (CJP) ব্যানারে লক্ষাধিক বিক্ষুব্ধ তরুণ ও পরীক্ষার্থী রাস্তায় নেমে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলেন, যার জেরে তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে তাঁর পদ থেকে ইস্তফা দিতে বাধ্য হতে হয়।

সিবিআইয়ের প্রথম চার্জশিটে উদ্ভিদবিদ্যা ও প্রাণীবিদ্যার বিশেষজ্ঞ মনীষা গুরুনাথ মানধারে, রসায়নের বিশেষজ্ঞ প্রহ্লাদ ভিটঠলরাও কুলকার্নি এবং পদার্থবিদ্যার বিশেষজ্ঞ মনীষা সঞ্জয় হাবলদারকে প্রধান অভিযুক্ত করা হয়েছিল। তদন্তে প্রকাশ পায় যে, পরীক্ষার প্রশ্নপত্র তৈরির একাধিক সংবেদনশীল ধাপে এনটিএ বারবার এই তিনজন বিশেষজ্ঞের ওপরই ভরসা রেখেছিল। এমনকি তাদের মধ্যে অন্তত একজনকে প্রশ্ন তৈরি থেকে শুরু করে ব্যাক-ট্রান্সলেশন পর্যন্ত মোট চারটি ধাপে যুক্ত রাখা হয়েছিল এবং চূড়ান্ত পর্যায়ে তাদের সমস্ত মাস্টার প্রশ্ন সেট দেখার অবাধ সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। এর ফলে অতি সংবেদনশীল এই সামগ্রীগুলির কাছে তাদের দীর্ঘকালীন ও নিরবচ্ছিন্ন প্রবেশাধিকার বজায় ছিল। পরবর্তীতে সেন্ট্রাল ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি (CFSL), গভর্মেন্ট এক্সামিনার অফ কোয়েশ্চার্ড ডকুমেন্টস (GEQD) এবং দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞদের সুনির্দিষ্ট মতামতের ভিত্তিতে তৈরি বৈজ্ঞানিক ও ফরেনসিক রিপোর্ট এই নতুন চার্জশিটে যুক্ত করা হয়েছে। এই চূড়ান্ত রিপোর্টের মাধ্যমে মামলার আইনি প্রক্রিয়া আরও সুদৃঢ় হলো।