“পোর্টাল নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা!”-কবে থেকে মিলবে যুবশক্তির ৩০০০ টাকা? জল্পনায় তোলপাড়!

বিধানসভা নির্বাচনের আগে শাসক দলের অন্যতম প্রধান ও আকর্ষণীয় প্রতিশ্রুতি ছিল শিক্ষিত বেকারদের জন্য আর্থিক সহায়তা। সরকার গঠনের পর একের পর এক নির্বাচনী অঙ্গীকার পূরণের দাবি করা হলেও, তার মধ্যে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘যুবশক্তি ভরসা প্রকল্প’ নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র অনিশ্চয়তা। সমস্ত পরিকল্পনা অনুযায়ী দুর্গাপুজোর ঠিক আগেই এই প্রকল্পের অনলাইন পোর্টাল চালু হওয়ার কথা থাকলেও, অক্টোবরের আট দিন পেরিয়ে যাওয়ার পরও এখনও পর্যন্ত কোনো সরকারি বিজ্ঞপ্তি বা পোর্টাল চালুর খবর সামনে আসেনি। আর তাতেই রাজ্যের লক্ষাধিক কর্মহীন যুবক-যুবতীর মনে একটাই প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—অক্টোবর মাসে আদৌ কি মিলবে যুবশক্তির টাকা?

রাজ্য বাজেটে ও মুখ্যমন্ত্রীর ঘোষণা

রাজ্যের শিক্ষিত বেকারদের জন্য ‘যুবশক্তি’ প্রকল্পের মাধ্যমে মাসিক আর্থিক সহায়তার কথা রাজ্য বাজেটে ঘোষণা করেছিলেন তৎকালীন অর্থমন্ত্রী স্বপন দাশগুপ্ত। সেই সময় জানানো হয়েছিল যে, অক্টোবর মাস থেকেই এই প্রকল্প আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়ে যাবে। এমনকি সংবাদমাধ্যমে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীও স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, “আমার যুবক ভাইরা, আপনাদের জন্য আমরা আছি। ৩ হাজার টাকা করে অক্টোবর মাস থেকে পাবেন গ্র্যাজুয়েট যুবকরা, আর যারা গ্র্যাজুয়েট নন, তাঁরা ২ হাজার টাকা করে পাবেন।” এই প্রকল্পের জন্য প্রাথমিক পোর্টাল প্রস্তুত করা হলেও আবেদন সংক্রান্ত কোনো চূড়ান্ত আপডেট না থাকায় হতাশা বাড়ছে।

পুজোর আগে না কি পরে শুরু হবে আবেদন?

২১ থেকে ৪৫ বছর বয়সি রাজ্যের যে কোনো যোগ্য, শিক্ষিত ও কর্মহীন যুবক-যুবতী এই প্রকল্পের সুবিধা পাওয়ার কথা। একাধিক রিপোর্ট অনুযায়ী, পুজোর আগেই এই পোর্টাল খোলার কথা ছিল। তবে ঠিক কবে থেকে আবেদন প্রক্রিয়া শুরু হবে, তা নিয়ে সরকারের তরফ থেকে কোনো নির্দিষ্ট দিনক্ষণ ঘোষণা করা হয়নি। একাংশের অনুমান, মহালয়ার পরপরই পোর্টালটি চালু হতে পারে, আবার অনেকের মতে পুজোর আনন্দ মিটলেই হয়তো আবেদন প্রক্রিয়া শুরু করবে প্রশাসন।

কী এই যুবশক্তি ভরসা কার্ড স্কিম?

এটি পশ্চিমবঙ্গের শিক্ষিত বেকার যুবকদের জন্য চালু করা একটি বড় জনকল্যাণমূলক প্রকল্প। এই প্রকল্পের মাধ্যমে যুবকদের মাসিক আর্থিক সহায়তা তো দেওয়া হবেই, পাশাপাশি কর্মজীবনের বিকাশ, দক্ষতা বৃদ্ধি বা চাকরির প্রস্তুতির জন্য এককালীন আর্থিক অনুদান বা সহায়তার ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। রাজ্য সরকারের নিয়ম অনুযায়ী, গ্র্যাজুয়েট বেকাররা মাসে ৩,০০০ টাকা এবং নন-গ্র্যাজুয়েটরা মাসে ২,০০০ টাকা সরাসরি নিজেদের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পাবেন।

আবেদনের জন্য কী কী শর্ত ও নথির প্রয়োজন?

এই প্রকল্পের সুবিধা পেতে হলে আবেদনকারীকে কিছু নির্দিষ্ট মানদণ্ড পূরণ করতে হবে:

  • আবেদনকারীকে অবশ্যই পশ্চিমবঙ্গের স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে।

  • ন্যূনতম মাধ্যমিক বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।

  • আবেদনকারীর বয়স ২১ থেকে ৪০ বছরের মধ্যে হওয়া বাঞ্ছনীয়।

  • আবেদন করার সময় সম্পূর্ণ বেকার হতে হবে, অর্থাৎ কোনো রকম কর্মসংস্থানে যুক্ত থাকা চলবে না।

যেহেতু এখনও পর্যন্ত সরকারের পক্ষ থেকে চূড়ান্ত বিজ্ঞপ্তি বা নির্দেশিকা জারি করা হয়নি, তাই আবেদনের জন্য সুনির্দিষ্ট নথির তালিকা প্রকাশ করা হয়নি। তবে বিশেষজ্ঞদের অনুমান, আধার কার্ড, শিক্ষাগত যোগ্যতার সমস্ত সার্টিফিকেট, ব্যাংকের পাসবুকের প্রথম পাতার জেরক্স এবং পাসপোর্ট সাইজের রঙিন ছবিসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় নথি প্রয়োজন হতে পারে। টাকা সরাসরি আধার-সংযুক্ত ব্যাংক অ্যাকাউন্টে (DBT) পাঠানো হবে বলে সরকারি সূত্রে আগেই জানানো হয়েছে। এখন দেখার, পুজোর এই মৌসুমে সরকার শেষ পর্যন্ত কোনো খুশির খবর শোনায় কি না।