মিরাজ থেকে তেজস—৩,৫০০ ঘণ্টারও বেশি ওড়ানোর রেকর্ড! দেশের নতুন এয়ার চিফ আশুতোষ দীক্ষিতকে চেনেন?

ভারতীয় বিমানবাহিনীর (IAF) শীর্ষপদে বড় রদবদল। দেশের নতুন বায়ুসেনা প্রধান হিসেবে দায়িত্ব নিতে চলেছেন এয়ার মার্শাল আশুতোষ দীক্ষিত। বর্তমানে তিনি ভাইস চিফ অফ দ্য এয়ার স্টাফ পদে কর্মরত।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রকের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার একটি আনুষ্ঠানিক বিজ্ঞপ্তি জারি করে এই কথা জানানো হয়েছে। আগামী ৩১ অক্টোবর বর্তমান বায়ুসেনা প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল অমরপ্রীত সিং কার্যকাল শেষ করে অবসর নেবেন। ঐদিন বিকেলেই ভারতের ৩০তম বায়ুসেনা প্রধান হিসেবে সেনার ব্যাটন হাতে তুলে নেবেন এয়ার মার্শাল আশুতোষ দীক্ষিত।
দীর্ঘ চার দশকের বর্ণময় কর্মজীবন
ন্যাশনাল ডিফেন্স অ্যাকাডেমির (NDA) মেধাবী প্রাক্তনী আশুতোষ দীক্ষিত পরবর্তীতে বাংলাদেশের ডিফেন্স সার্ভিসেস স্টাফ কলেজ এবং নয়াদিল্লির ঐতিহাসিক ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজে উচ্চশিক্ষা অর্জন করেন। ১৯৮৬ সালের ৬ ডিসেম্বর ভারতীয় বায়ুসেনার ফাইটার ট্রিম বা যুদ্ধবিমান শাখায় কমিশন পান তিনি।
কোয়ালিফাইড ফ্লাইং ইনস্ট্রাক্টর এবং এক্সপেরিমেন্টাল টেস্ট পাইলট হিসেবে দীর্ঘদিন দায়িত্ব সামলানোর পর, তিনি ধীরে ধীরে দেশের অন্যতম দক্ষ কৌশলবিদ হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করেন। প্রায় চার দশকের কর্মজীবনে মিরাজ-২০০০, মিগ ২১, মিগ ২৯, জাগুয়ার, স্বদেশী তেজস, ট্রেনিং বিমান ‘হক’ এবং অ্যান-৩২ ও আইএল-৭৮-এর মতো বিশাল পরিবহণ ও রিফুয়েলিং বিমান মিলিয়ে ৩,৫০০ ঘণ্টারও বেশি সময় আকাশসীমায় ওড়ানোর এক দুর্লভ অভিজ্ঞতার সাক্ষী তিনি।
অপারেশনাল দক্ষতা ও তেজস প্রকল্প
কর্মজীবনের বিভিন্ন সময়ে মিরাজ-২০০০ স্কোয়াড্রনের নেতৃত্ব দেওয়ার পাশাপাশি দেশের পশ্চিমাঞ্চলের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও স্পর্শকাতর যুদ্ধবিমান ঘাঁটি এবং ফাইটার ট্রেনিং ঘাঁটির কম্যান্ডারের ভূমিকাও পালন করেছেন তিনি। ভারতের সামরিক ইতিহাসের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ অভিযান—যেমন ‘অপারেশন সফেদ সাগর’, ‘অপারেশন রক্ষক’ এবং ‘অপারেশন সিঁদুর’-এ সরাসরি অংশ নিয়েছেন তিনি।
শুধু তাই নয়, ভারতের নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি লাইট কমব্যাট এয়ারক্রাফট (LCA) ‘তেজস’ প্রজেক্ট ও আধুনিকীকরণের রূপরেখা তৈরিতেও তাঁর অসামান্য অবদান রয়েছে।
এয়ার হেডকোয়ার্টার্সের শীর্ষ পদ পরিচালনা
বায়ুসেনার ভাইস চিফ পদে আসীন হওয়ার পূর্বে তিনি সেন্ট্রাল এয়ার কম্যান্ডের ‘এয়ার অফিসার কম্যান্ডিং-ইন-চিফ’ এবং ‘চিফস অফ স্টাফ কমিটি’র চেয়ারম্যানের অধীনে ‘চিফ অফ ইন্টিগ্রেটেড ডিফেন্স স্টাফ’ পদে দায়িত্ব পালন করেন। এ ছাড়া এয়ার হেডকোয়ার্টার্সের সহকারী এয়ার স্টাফ প্রধান (প্রজেক্টস ও প্ল্যানস) এবং ডেপুটি চিফ অফ দ্য এয়ার স্টাফের মতো একাধিক পলিসি-মেকিং পদের দায়িত্ব সফলভাবে পরিচালনা করেছেন দেশের এই নতুন বায়ুসেনা প্রধান।