“ব্যারিকেডে উঠে উড়ল তেরঙ্গা!”-জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে গর্জে উঠলেন রাহুল

ভোটার তালিকার স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (SIR) এবং নির্বাচন কমিশনের একতরফা সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিরুদ্ধে জাতীয় রাজধানীতে মঙ্গলবার চরম রাজনৈতিক উত্তেজনা ছড়াল। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে সংসদ ভবন থেকে নির্বাচন কমিশনের কার্যালয় পর্যন্ত সুবিশাল প্রতিবাদ মিছিলের নেতৃত্ব দেন লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী। টানা প্রায় ৯ ঘণ্টার উত্তাল বিক্ষোভ, ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা এবং মারমুখী ধস্তাধস্তির পর রাত ৮টা নাগাদ রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং তৃণমূলের প্রতিনিধি সহ একাধিক শীর্ষ বিরোধী নেতাকে আটক করে পুলিশ।

সংসদ থেকে ‘ইসি’ ঘেরাও মিছিল: স্তব্ধ রাজধানীর বুক

মঙ্গলবারে লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে সংসদ ভবন থেকে ‘ইন্ডিয়া’ (INDIA) জোটের তিন শতাধিক সাংসদ একযোগে নির্বাচন কমিশন (ECI) দফতরের অভিমুখে যাত্রা শুরু করেন। বিরোধীদের মূল দাবি দুটি—এক, মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অবিলম্বে পদত্যাগ এবং দুই, বিতর্কিত ‘SIR’ ও ‘Form 6’-এ পরিবর্তনের বিষয়ে কমিশনের স্পষ্ট ব্যাখ্যা।

তবে মিছিলটি নির্বাচন কমিশন অফিসের কাছাকাছি যাওয়ার আগেই পুলিশ ব্যারিকেড তুলে তাদের পথ আটকে দেয়। এতেই ক্ষোভে ফেটে পড়েন বিরোধী সাংসদরা। ব্যারিকেডের ঠিক সামনেই আকাশবাণী ভবনের চত্বরে মূল ফটকে ধর্নায় বসে পড়েন রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, মল্লিকার্জুন খড়গে, অখিলেশ যাদব, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়, ডেরেক ও’ব্রায়েন এবং ডি রাজার মতো শীর্ষ রাজনীতিকরা।

ব্যারিকেডে জাতীয় পতাকা, সুর চড়ালেন রাহুল

বিক্ষোভ চলাকালীন এক নাটকীয় মুহূর্তে রাহুল গান্ধীকে পুলিশি ব্যারিকেডের ওপর উঠে জাতীয় পতাকা ওড়াতে দেখা যায়। মাইক হাতে নিয়ে প্রবীণ এই কংগ্রেস নেতা ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, “কমিশনের অফিস এখান থেকে মাত্র কয়েকশো মিটার দূরে। ৩০০ জনের বেশি নির্বাচিত সাংসদ নির্বাচন কমিশনারদের সঙ্গে কথা বলতে চান। অথচ আমাদের প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না! এদেশের মানুষের ভোটাধিকার কেড়ে নিয়ে প্রতারণা করা হয়েছে।”

তিনি আরও চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে পুলিশকে বলেন, “আপনারা যদি আমাদের এখান থেকে সরাতে চান, তবে বলুন আমরা কোথায় গিয়ে গণতান্ত্রিক প্রতিবাদ জানাব?”

কমিশনের সাফাই ও পুলিশি অ্যাকশন

বিক্ষোভ যখন মধ্যগগনে, ঠিক তখনই নির্বাচন কমিশনের তরফ থেকে এক বিপরীতধর্মী বক্তব্য সামনে আসে। কমিশনের পদস্থ কর্তারা দাবি করেন, বিরোধী দলের পক্ষ থেকে মঙ্গলবার বৈঠকের জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে আগাম কোনও আবেদন জানানো হয়নি। ফলে কোনও বৈঠকের প্রস্তাব নথিবদ্ধই ছিল না।

দুপুরের দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ রাহুল ও প্রিয়াঙ্কাকে কিছু সময়ের জন্য বাসে তুলে আটক করার চেষ্টা করলেও তারা নেমে ফের বিক্ষোভে যোগ দেন। তবে সন্ধ্যার পর আকাশবাণী ভবনের বাইরে পরিস্থিতি আরও জটিল রূপ নিলে ব্যাপক নিরাপত্তার মধ্যে প্রিয়াঙ্কা গান্ধী, রাহুল গান্ধী, এনএসইউআই (NSUI) ও যুব কংগ্রেসের শীর্ষ কর্মীদের পুলিশি বাসে তুলে আটক করা হয়।

আইনি লড়াই ও রাজনৈতিক উত্তাপ

উল্লেখ্য, পুরো বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে ভোটার তালিকায় ‘SIR’ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যাপক নাম বাদ দেওয়া এবং ‘Form 6’-এ অনিয়ম সম্পর্কিত অভিযোগ। অন্যদিকে, কমিশন সমস্ত অভিযোগ খারিজ করে দাবি করেছে, পুরো প্রক্রিয়াটি নিয়ম ও আইনি বিধিনিষেধ মেনেই সম্পন্ন হচ্ছে।

দিনভর দিল্লির বুকে এই ধুন্ধুমার বিক্ষোভ এবং শীর্ষ নেতাদের আটকের ঘটনা স্পষ্ট করে দিল যে, আসন্ন দিনগুলিতে নির্বাচন কমিশন ও ‘ইন্ডিয়া’ জোটের এই অলআউট রাজনৈতিক সংঘাত আরও মারাত্মক রূপ নিতে চলেছে।