দেরাদুনে লোমহর্ষক ত্রিপল মার্ডার! বৃদ্ধ দম্পতিসহ পরিচারিকাকে নৃশংস খুন, পুলিশের হাতে আটক ঘনিষ্ঠ পরিচিত

উত্তরাখণ্ডের রাজধানী দেরাদুনের রায়পুর থানা এলাকার বিষ্ণু লোক কলোনিতে এক ভয়াবহ ট্রিপল মার্ডারের ঘটনায় তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়েছে। একই ঘরের ভেতর থেকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে এক প্রবীণ দম্পতি ও তাঁদের গৃহকর্মীর মৃতদেহ। এই শিউরে ওঠা ঘটনা জানাজানি হতেই পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

পুলিশ সূত্রে খবর, নিহতদের পরিচয় মিলেছে। তাঁরা হলেন ৮০ বছর বয়সী কে.এস. কাপুর, তাঁর স্ত্রী রজনী কাপুর (৭৬) এবং তাঁদের গৃহকর্মী তিলিয়া দেবী (৫৫)। নিহত তিলিয়া দেবী মূলত বিহারের দারভাঙ্গা জেলার বাসিন্দা ছিলেন। মঙ্গলবার দুপুর ৩টার ঠিক আগে বিষ্ণু লোক কলোনির ওই বাড়িতে তিনজনের মৃত্যুর খবর পেয়ে তড়িঘড়ি ঘটনাস্থলে পৌঁছায় রায়পুর থানা পুলিশ এবং ঊর্ধ্বতন আধিকারিকেরা।

ডাকাতি নয়, খুনের নেপথ্যে অন্য কোনো গভীর রহস্য? ঘটনার খবর পেয়েই দেরাদুনের সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট অফ পুলিশ (এসএসপি) প্রমোদ দোবাল নিজে পুলিশ দল নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শনে যান। ফরেনসিক টিম ঘটনাস্থল থেকে প্রয়োজনীয় সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করেছে।

প্রাথমিক তদন্ত শেষে এসএসপি প্রমোদ দোবাল জানান, প্রথম দৃষ্টিকোণ থেকে এটিকে কোনো চুরি বা ডাকাতির ঘটনা বলে মনে হচ্ছে না। কারণ ঘরের মূল্যবান জিনিসপত্র অক্ষত রয়েছে। ফলে ব্যক্তিগত শত্রুতা বা অন্য কোনো উদ্দেশ্যে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশের জালে পরিচিত সন্দেহভাজন হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে ইতিমধ্যেই পুলিশ এক সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে আটক করেছে। পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, আটককৃত ব্যক্তি নিহত কাপুর পরিবারের বেশ পরিচিত এবং ওই বাড়িতে তাঁর নিয়মিত যাতায়াত ছিল। তাকে বর্তমানে নিবিড় জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পুলিশ নিশ্চিত যে, এই পরিচিত ব্যক্তিটিকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেই নৃশংস এই ট্রিপল মার্ডারের প্রকৃত কারণ এবং আসল অপরাধীর ছবি পরিষ্কার হয়ে যাবে।