নেপথ্যে কোন গোপন প্রস্তাব? নওয়াজ শরীফের আমন্ত্রণে সাড়া না দিয়ে যেভাবে বদলে গিয়েছিল ইমরান খানের ভাগ্য!

পাকিস্তানের রাজনীতির ময়দানে নওয়াজ শরীফ এবং ইমরান খানের রাজনৈতিক বৈরিতা আজ কারও অজানা নয়। তবে ক্ষমতার এই চরম প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নামার আগে একসময় গভীর বন্ধুত্ব ছিল দুই নেতার মধ্যে। ১৯৭০-এর দশকে লাহোরের জিমখানা ক্রিকেট ক্লাবের হাত ধরে শুরু হয়েছিল এই সম্পর্কের পথচলা। সে সময় পেশাদার ক্রিকেটে ইমরান খানের বিশ্বজোড়া খ্যাতি থাকলেও নওয়াজ শরীফ মজেছিলেন ব্যবসায়িক সাফল্য এবং ক্রিকেট প্রীতির নেশায়। মজার বিষয় হলো, মাঠের সেই সখ্যতা পরবর্তীতে রাজনৈতিক ময়দানেও রূপ নেয়। ১৯৯২ সালের ক্রিকেট বিশ্বকাপ জয়ের পর তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফের বাসভবনে সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে ইমরান খানকে সরাসরি রাজনীতিতে যোগ দেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেই প্রস্তাব তৎক্ষণাৎ প্রত্যাখ্যান করেছিলেন বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক।

পরবর্তীকালে সময়ের পালাবদলে দুজনেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী পদে আসীন হন, যদিও কেউই তাদের সাংবিধানিক মেয়াদ পূর্ণ করতে পারেননি। সামরিক শাসকদের সঙ্গে ওঠাবসা থেকে শুরু করে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পেছনে একই প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলার ক্ষেত্রেও দুই নেতার অভিজ্ঞতায় রয়েছে অদ্ভুত মিল। এমনকি ভিন্ন ভিন্ন নির্বাচনের মাত্র কয়েক দিন আগে আইনি মারপ্যাঁচে সাজা ও কারাবরণের ইতিহাসও তাদের ভাগ্যে সমান্তরালভাবে জুটেছে। সময়ের সঙ্গে রাজনৈতিক উচ্চাশা এবং ক্ষমতার লড়াইতে মাঠের সেই বন্ধুত্বের সম্পর্ক চিরতরে ভেঙে চুরমার হয়ে যায়। বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে দুই নেতার মধ্যে বৈরিতার যে গভীর খাঁদ তৈরি হয়েছে, তাতে ভবিষ্যতে তাদের পুনরেকত্রীকরণের কোনো সম্ভাবনাই আর অবশিষ্ট নেই।