‘ভোট চোর’ মুখ্য নির্বাচন কমিশনারকে গ্রেফতার করতে হবে! সংসদ চত্বর ছাড়তেই চরম সংঘাতে রাহুল-অভিষেকরা

দিল্লির রাজনৈতিক অঙ্গনে চরম উত্তেজনা। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং তাঁর অবিলম্বে গ্রেফতারির দাবিতে মঙ্গলবার রাজধানী দিল্লিতে বিশাল প্রতিবাদ মিছিলের ডাক দিল বিরোধী ‘ইন্ডিয়া’ জোট। পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, সকাল সাড়ে দশটায় সংসদ ভবনের মকরদ্বার থেকে নির্বাচন সদন অভিমুখে এই ঐতিহাসিক মার্চ শুরু হয়। এই মিছিলে নেতৃত্ব দেন সোনিয়া গান্ধী, রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি বিরোধী জোটের একাধিক শীর্ষস্থানীয় সংসদীয় নেতাও এই প্রতিবাদ মিছিলে সশরীরে অংশ নেন।
মিছিল চলাকালীন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় কেন্দ্রের শাসক দল এবং নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ শানান। তিনি বলেন, “নির্বাচন কমিশনের চুরি আজ পুরোপুরি ধরা পড়ে গেছে। আমরা ঠিক যা ছ’মাস কিংবা এক বছর আগে বলেছিলাম, সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিরাও আজ ঠিক সেই একই কথা বলছেন। আদালতের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ফর্ম ৬ কখনওই অনুমোদিত নয়। সুপ্রিম কোর্ট যদি ফর্ম ৬-এর বৈধতা না মান্যতা দেয়, তবে গোটা এসআইআর (SIR) প্রক্রিয়াটাই সম্পূর্ণরূপে বেআইনি।”
জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে সরাসরি আইনি পদক্ষেপের দাবি তুলে অভিষেক আরও বলেন, “জ্ঞানেশ কুমার বিজেপিকে সুবিধা পাইয়ে দিতে সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার খর্ব করেছেন। পশ্চিমবঙ্গ, বিহার এবং মহারাষ্ট্রের মতো রাজ্যগুলিতে ভোটার তালিকা থেকে লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম বেআইনিভাবে বাদ দেওয়া হয়েছে। এমনকি ট্রাইব্যুনালে লক্ষ লক্ষ মানুষের নাম ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। ভোট চোর জ্ঞানেশ কুমারের শুধুমাত্র পদত্যাগ করলেই চলবে না, তাঁকে অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে। মানুষের অধিকার হরণের জন্যই আজ সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমেছেন। আর সেই জনরোষ দেখেই ভীত হয়ে পড়েছে মোদী সরকার।”
এদিকে, আন্দোলনকারীদের নির্বাচন কমিশন অভিমুখে যাত্রা রুখতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করে দিল্লি পুলিশ। কমিশন কার্যালয় থেকে মাত্র ৫০০ মিটার দূরে একাধিক স্তরের ব্যারিকেড তৈরি করে মিছিল আটকে দেওয়া হয়। পুরো এলাকা মুড়ে ফেলা হয়েছে কড়া পুলিশি বলয়ে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ড্রোনের মাধ্যমে চলছে বিশেষ নজরদারি। এদিনের এই হাই-ভোল্টেজ কর্মসূচিতে শুধুমাত্র সাংসদ এবং অনুমোদিত সংবাদমাধ্যমকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। তা সত্ত্বেও সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদব দলীয় কর্মী-সমর্থকদের সঙ্গে নিয়ে সেখানে পৌঁছে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পুলিশের পক্ষ থেকে বারবার মাইকিং করে ব্যারিকেড না ভাঙার হুশিয়ারি দেওয়া হলেও, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং আন্দোলনকারী রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে এক চরম সংঘাতের বাতাবরণ তৈরি হয়েছে।
বিরোধী জোটের এই আক্রমণাত্মক প্রতিবাদের বিরুদ্ধে পাল্টা আক্রমণ শানিয়েছে গেরুয়া শিবিরও। পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য বিজেপির সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য এই বিক্ষোভ সম্পর্কে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, “’ইন্ডি’ জোট বা মহাজোট বলে আদতে কোনো রাজনৈতিক জোটের বাস্তব অস্তিত্ব কোনো দিনই ছিল না। অতীতে আমাদের রাজ্যের এক প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তো খোদ রাহুল গান্ধীর রাজনৈতিক অস্তিত্বকেই পুরোপুরি অস্বীকার করে মল্লিকার্জুন খাড়্গের নাম ঘোষণা করে বেরিয়ে গিয়েছিলেন। এঁরা জীবনে কোনো দিন একসঙ্গে বসে একটি সফল সাংবাদিক বৈঠক পর্যন্ত করতে পারেননি। আর আজ যখন দেশের মানুষ সর্বতোভাবে তাঁদের প্রত্যাখ্যান করেছেন, তখন রাজনৈতিক অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এই ধরনের ভিত্তিহীন মন্তব্য করছেন।” সব মিলিয়ে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ, সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ এবং পুলিশি সংঘাতকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে ভারতের রাজধানী।