ব্যবসা সহজ করতে বড় পদক্ষেপ! জিএসটি ২.০-এ আসছে যুগান্তকারী পরিবর্তন

দেশে ব্যবসা আরও সহজ করে তুলতে এবং করদাতাদের হয়রানি কমাতে ‘জিএসটি ২.০’ (GST 2.0)-এর নিয়মনীতিতে বড়সড় বদল আনার প্রস্তুতি শুরু করেছে সরকার। আগামী ৮ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হতে চলেছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জিএসটি কাউন্সিলের বৈঠক। এই বৈঠকে ই-ওয়ে বিলের নিয়মকানুন সহজ করা, অযথা গ্রেফতারের জুজু বা ভয় দূর করা এবং বছরের পর বছর ধরে আটকে থাকা হাজার হাজার কোটি টাকার ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট (ITC) দ্রুত ছাড়ার মতো একাধিক যুগান্তকারী ও দূরদর্শী প্রস্তাবে সিলমোহর পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
শিল্পমহল ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর অনুযায়ী, বুধবারের এই উচ্চপর্যায়ে বৈঠকে রেজিস্ট্রেশন, রিটার্ন, রিফান্ড থেকে শুরু করে আইটিসি এবং আইনি বিরোধ সংক্রান্ত করদাতাদের প্রায় প্রতিটি দিকই পর্যালোচনা করা হবে। বর্তমান নিয়মের জটিল জাঁতাকল ও অতিরিক্ত কাগজপত্র নির্ভর অনুপালন থেকে বেরিয়ে এসে সম্পূর্ণ অটোমেটেড, ডেটা-ভিত্তিক এবং ঝুঁকি-ভিত্তিক কর প্রশাসন গড়ে তোলাই এই সংস্কারের মূল উদ্দেশ্য। নতুন প্রস্তাব অনুযায়ী, করদাতা ব্যবসায়ীদের গ্রেফতারের সিদ্ধান্ত আর শুধুমাত্র আধিকারিকদের ইচ্ছাধীন থাকবে না, বরং তা আদালতের বিচারাধীন করা হবে। পাশাপাশি, একমাত্র অত্যন্ত গুরুতর এবং ইচ্ছাকৃত কর ফাঁকির মামলার ক্ষেত্রেই ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হবে।
সবচেয়ে বড় স্বস্তির খবরটি এসেছে ইনপুট ট্যাক্স ক্রেডিট (ITC) প্রক্রিয়া সহজ করার প্রস্তাব থেকে, যার জেরে বিভিন্ন সংস্থায় আটকে থাকা বিপুল পরিমাণ কার্যকারী মূলধন মুক্ত হবে। বর্তমান নিয়মে সংস্থাগুলি সম্পূর্ণ আইটিসি দাবি করতে পারত না, তবে নতুন ব্যবস্থায় প্ল্যান্ট, যন্ত্রপাতি এবং ইনপুট পরিষেবার উপর প্রদত্ত কর ৫ বছরের মধ্যে মাসিক কিস্তির মাধ্যমে রিফান্ড করার বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে। এমনকি এতদিন যে সমস্ত ব্যবসায়িক ইনপুটের ওপর ক্রেডিট ব্লক করা ছিল, তার পরিধিও অনেকটাই বাড়ানো হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে কর্মচারীদের স্বাস্থ্য ও জীবন বীমা, আউটডোর ক্যাটারিং, টেলিকম টাওয়ার এবং কারখানার বাইরে বিস্তৃত পাইপলাইন। এ ছাড়া ১৩ আসন পর্যন্ত গাড়ি, সেগুলির বীমা ও রক্ষণাবেক্ষণ, এবং মেয়াদোত্তীর্ণ বা নষ্ট হওয়া পণ্য ও কিছু ফ্রি স্যাম্পলের ক্ষেত্রেও মিলতে পারে বড় ছাড়।