মার্কিন বোমারু বিমান সরাতে বাধ্য হলো আমেরিকা! ইরানকে ধ্বংস করার চরম হুংকার ট্রাম্পের

ব্রিটেন থেকে মার্কিন সামরিক বিমান বা বোমারু বিমানগুলো হঠাৎ সরিয়ে নেওয়া নিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে শোরগোল শুরু হয়েছে। এই ঘটনার নেপথ্যে তেহরানের নিরাপত্তা হুমকি রয়েছে বলে অভিযোগ তুলে সরাসরি কড়া হুঁশিয়ারি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন যে, যদি মার্কিন সামরিক সম্পদ বা নিরাপত্তার জন্য তেহরানকে কোনোভাবেই দায়ী পাওয়া যায়, তবে ইরানকে চড়া মূল্য দিতে হবে এবং এর পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ। তবে একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট নিরসনে ইরানের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে যেকোনো মুহূর্তে সরাসরি আলোচনার জন্য তাঁর দরজা খোলা রয়েছে বলেও তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন।

‘মেরিন ওয়ান’ (Marine One) হেলিকপ্টারে ওঠার ঠিক আগে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্প মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতি, জ্বালানি বাজার এবং ব্রিটেনের সামরিক ঘাঁটি থেকে আমেরিকান বোমারু বিমান স্থানান্তরের মতো অত্যন্ত সংবেদনশীল বিভিন্ন প্রশ্নের খোলামেলা জবাব দেন। যখন তাঁকে সরাসরি প্রশ্ন করা হয় যে, ঠিক কী কারণে ব্রিটেন থেকে মার্কিন বি-১ (B-1) বোমারু বিমানগুলো হঠাৎ সরিয়ে নেওয়া হলো, তখন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সুনির্দিষ্টভাবে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি হওয়া সম্ভাব্য নিরাপত্তার ঝুঁকির কথা স্বীকার করেন। তিনি জানান যে, ওই সিদ্ধান্তটি আকস্মিক বা কোনো ভুল বোঝাবুঝির কারণে নেওয়া হয়নি, বরং শত্রুপক্ষের সম্ভাব্য হামলা এড়াতেই এই কৌশলগত পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, গোয়েন্দা সূত্রে কিছু নির্দিষ্ট নিরাপত্তা বিপদের কথা সামনে এসেছিল। সেই মুহূর্তে শত্রুকে অযথা উসকানি না দিয়ে আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল তাদের কৌশলগতভাবে মোকাবিলা করা এবং উপযুক্ত সময়ে উপযুক্ত জবাব দেওয়া। তবে বিমানগুলোকে একেবারে নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও তিনি নিশ্চিত করেন। যদিও প্রাথমিক তদন্তে হুমকির সঠিক উৎস বা ড্রাগন ড্রোন ব্যবহারের সুনির্দিষ্ট তথ্য তৎক্ষণাৎ প্রকাশ করা সম্ভব হয়নি, তবে পরবর্তীতে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সম্পূর্ণ ঘটনার পেছনে থাকা মূল হোতাদের চিহ্নিত করতে সক্ষম হয়েছে। ট্রাম্প হুংকার দিয়ে বলেন, “যাঁরা এই ধরনের হুমকি দেওয়ার দুঃসাহস দেখিয়েছেন, তাঁরা এখন অত্যন্ত বড় বিপদের মুখে রয়েছেন এবং তাঁদের চড়া মূল্য চোকাতে হবে।”

সংবাদমাধ্যমের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প ইঙ্গিত দেন যে, এই নাশকতামূলক বা হুমকির নেপথ্যে সরাসরি ইরানের কোনো যোগসূত্র থাকতে পারে। তা সত্ত্বেও বর্তমান ব্রিটিশ সরকারের প্রতি নিজের আস্থার কথা পুনর্ব্যক্ত করে তিনি জানান যে, যুক্তরাজ্যের নতুন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর অত্যন্ত সুসম্পর্ক রয়েছে এবং দুই দেশের মধ্যে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও অপারেশনাল নিরাপত্তা আগের মতোই অবিচ্ছিন্নভাবে বজায় থাকবে।