কেলির কুঞ্জ ছেড়ে চলে গেলেন প্রেমানন্দ মহারাজ!, কোন ভয়ঙ্কর পরিস্থিতি বৃন্দাবনে?

ভক্তদের প্রিয় আধ্যাত্মিক গুরু প্রেমানন্দ মহারাজ কি কেলি কুঞ্জ আশ্রম ছেড়ে চলে গিয়েছেন? মথুরার একাধিক সাধু-সন্তের দাবি, বৃন্দাবনের কেলি কুঞ্জ ছেড়ে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে বেলবন আশ্রমে গিয়ে অবস্থান করছেন মহারাজ। গত ২৫ সেপ্টেম্বর প্রেমানন্দ মহারাজের এক শিষ্যের রহস্যমৃত্যুর পর থেকেই কেলি কুঞ্জ আশ্রমকে কেন্দ্র করে তীব্র বিতর্ক ও অসন্তোষ দানা বাঁধতে শুরু করে। আর তার মাঝেই মহারাজের আশ্রম বদলের এই খবর প্রকাশ্যে আসায় চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ভক্তমহলে।
শিষ্যের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ডামাডোল
গত ২৫ সেপ্টেম্বর বৃন্দাবনের গুরু কৃপা কুঞ্জের চারতলা থেকে পড়ে মৃত্যু হয় প্রেমানন্দ মহারাজের শিষ্য দীপক লোধি ওরফে রসিক দুলারি শরণের। এই ঘটনার বেশ কিছু সিসিটিভি ফুটেজ সামনে আসার পর পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করে। পাশাপাশি, নিখোঁজ পরিজনদের সন্ধান দাবিতে কয়েকটি পরিবার আশ্রমের বাইরে বিক্ষোভে ফেটে পড়ে। এই মর্মান্তিক ঘটনার পরই আশ্রমের অন্দরের পরিবেশ ও নিরাপত্তা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠতে শুরু করে। আশ্রমের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এই ঘটনায় দারুণভাবে আঘাত পেয়েছেন প্রেমানন্দ মহারাজ।
‘আশ্রম দখল করেছে নকল সন্তরা’
শ্রীকৃষ্ণ জন্মভূমি সংগ্রাম ন্যাসের সভাপতি দিনেশ শর্মা ফলাহারি বিস্ফোরক দাবি করে জানিয়েছেন, কেলি কুঞ্জ আশ্রম বর্তমানে দুটি ভাগে বিভক্ত। তাঁর অভিযোগ, কিছু ভুয়ো সন্ত বা অসাধু ব্যক্তি আশ্রমের জমি ও সম্পত্তি নিয়ে ব্যবসায় নেমেছেন এবং বৃন্দাবনের প্রায় ১৫টি আশ্রম ইতিমধ্যে তাঁদের কব্জায় চলে গেছে। এই পরিস্থিতিতে মহারাজ অত্যন্ত মর্মাহত এবং প্রকৃত সাধুরাই তাঁর সঙ্গে বেলবনে চলে গিয়েছেন।
একই সুরে মথুরার সাধ্বী ইন্দুলেখা ও মহামণ্ডলেশ্বর রাধানন্দ গিরি দাবি করেছেন, কিছু অসামাজিক ব্যক্তি প্রেমানন্দ মহারাজের নাম ও প্রভাব ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখানো এবং জমি দখলের মতো অপরাধমূলক কাজ চালাচ্ছেন। পরিস্থিতি এতটাই নাগালের বাইরে চলে গেছে যে মহারাজ বাধ্য হয়ে যমুনা পেরিয়ে বেলবনে গিয়েছেন। এমনকি এই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের জন্য সিবিআই (CBI) তদন্তের দাবিও তুলেছেন তাঁরা।
বর্তমানে দীপক লোধীর মৃত্যুর পুলিশি তদন্তের পাশাপাশি কেলি কুঞ্জ আশ্রমের ভিতরের এই কোন্দল ও দখলদারির অভিযোগগুলি নিয়ে রীতিমতো শোরগোল পড়ে গেছে। তবে এই অভিযোগগুলির সত্যতা কতটা, তা সম্পূর্ণভাবে পুলিশি তদন্তের পরেই স্পষ্ট হবে।