তিন তালাকের পরই দুই দেবরকে দিয়ে জোর করে হালালা! উত্তরপ্রদেশের ঘটনায় যা উঠে এল, শুনলে শিউরে উঠবেন

তিন তালাকের কুপ্রথার বলি হয়ে চরম বর্বরতার শিকার হলেন এক গৃহবধূ। উত্তরপ্রদেশের আলিগড় (Aligarh) থেকে এক লমহর্ষক ও নৃশংস ঘটনার খবর সামনে এসেছে। অভিযোগ, সামান্য বিবাদের জেরে স্ত্রীকে প্রথমে তিন তালাক দেয় স্বামী। এখানেই শেষ নয়, এর পর নির্যাতিতাকে ঘরে বন্দি করে তাঁর দুই দেবরকে দিয়ে জোর করে ‘হালালা’ করানোর মতো জঘন্য অপরাধ করা হয়। দিনের পর দিন শারীরিক ও মানসিক অত্যাচার সহ্য করার পর কোনোমতে হোয়াটসঅ্যাপে ভাইয়ের কাছে বার্তা পাঠিয়ে সাহায্য চান ওই মহিলা। শেষ পর্যন্ত পুলিশের তৎপরতায় অভিযুক্তদের হাত থেকে রক্ষা পান তিনি।

পুলিশ সূত্রে খবর, মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে আলিগড়ের বन्नाদেবী (Bannadevi) থানা এলাকায়। নির্যাতিতা মহিলার অভিযোগ, তাঁদের মধ্যে পারিবারিক কোনো একটি বিষয় নিয়ে সামান্য কথা কাটাকাটি হয়েছিল। তারই জেরে তাঁর স্বামী তাঁকে হঠাৎ তিন তালাক দিয়ে বসেন। এরপর সেই স্বামী ও দুই দেবর মিলে তাঁকে ঘরে আটকে রেখে দিনের পর দিন শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালায়। শুধু তাই নয়, জোরপূর্বক সম্পর্কের জন্যও বাধ্য করা হয়।

কোনো রকমে সুযোগ বুঝে নির্যাতিতা তাঁর ভাইকে হোয়াটসঅ্যাপে পুরো বিষয়টি জানিয়ে একটি গোপন মেসেজ পাঠান। ভাইয়ের কাছ থেকে খবর পেয়েই তৎক্ষণাৎ আসরে নামে পুলিশ। দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পুলিশ ওই মহিলাকে উদ্ধার করে এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ শুরু করে। ঘটনার পরেই করণী সেনার (Karni Sena) নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে এসপি সিটি অফিসে হাজির হন নির্যাতিতা। তিনি স্বামী ও দুই দেবরসহ সমস্ত অভিযুক্তের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। এসপি সিটি আদিত্য বনসল জানিয়েছেন, অভিযোগ পাওয়ার পরেই পুরো ঘটনাটির পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত শুরু হয়েছে। হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট, পরিবারের সদস্যদের বয়ান এবং অন্যান্য তথ্য খতিয়ে দেখে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Pratik Saha
  • Pratik Saha